ছোটগল্প: ‘মিল্ক ক্যান্ডি’ পার্ট-২

সায়েম, ছেলেটি অতি ভদ্র, বিনয়ী, মেধাবী। সমস্যার মধ্যে হলো শুধু কবি। যদিও কবি সে খুব বেশিদিন হলো হয়নি। মাত্র পাঁচ বছর হলো লোনলি মুনের সাথে হাসপাতালে শেষ দেখার পর থেকে সে কবি। এখন সায়েম বর্তমানে ফেনীতে প্রাইভেট কোম্পানিতে উচ্চ পদস্থ কর্মচারী হিসেবে রয়েছে। খুব ভালো ছাত্র হিসেবে সুনাম থাকায় ও কাজের অভিজ্ঞতার কারণে কোম্পানির বস তাকে তার বাড়িতে থাকার ও তার বড় মেয়ে লতাকে পড়ানোর দায়িত্ব দেয়। লতা ছিপছিপে গড়নের। কাটা কাটা চোখ। কোঁকড়ানো চুল। প্রতিদিন চোখে কাজল দিয়ে আসে। পড়ানোর সময় কোন কথা বলে না লতা। শুধু মাথা নেড়েই যায়। মাঝে মাঝে সায়েমের মনে হয় লতার মাথা বুঝি ছিড়েই যাবে। সায়েম বলেই ফেলে এভাবে মাথা ঝাকিও না ছিঁড়ে যাবে (মনে মনে)। তাই সায়েম লতার নাম দিয়েছে নৈঃশব্দবতী। মনে মনে সায়েম নৈঃশব্দবতী কে ভালোবেসে ফেলেছে। তাকে নিয়ে কবিতাও লিখা হয়েছে পাতাভর্তি। সায়েম শুক্রবারেও তাকে পড়ানো শুরু করেছে।

এর মাঝে খবর এলো তার তিন বন্ধু রাজশাহী থেকে এসেছে। আনন্দে লাফিয়ে ওঠার পরিবর্তে সায়েমের চিৎকার করে বলতে ইচ্ছে করলো তোরা ভাগ এখান থেকে। সায়েম নৈঃশব্দবতীকে বললো আমার বন্ধুরা এসেছে তো আজ থাক। নৈঃশব্দবতী আবারো মাথা নাড়লো। সায়েমের প্রচ- মন খারাপ। তাকে অসময়ে জালানোর জন্য শয়তানরা হাজির। অবশেষে জোসনা রাতে বের হলো ফেনীর সৌন্দর্য দেখতে। সারারাত শয়তান বন্ধুদের সাথে লুঙ্গি ড্যান্স করে, পাড়ার অন্যের ডিস্টার্ব করায় বসের বাসায় থাকার অনুমতি ও লতাকে পড়ানো থেকে বিদায়ের ঘন্টা বাজে। জীবনের চরম মুহুর্তে আবারো হেরে যেতে বসেছে সায়েম। নৈঃশব্দবতীর সাথে দেখা হলো না। সিগারেট ধরালো সায়েম। গলার কাছে দলা পাকাতে শুরু করলো। কাজের বুয়াকে পানি দিতে বললো সায়েম। একটু পরেই পানি নিয়ে আসলো লতা। পানি নেন। চমকে উঠলো সায়েম। গ্লাস হাতে নিয়েই দাড়িয়ে আছে সে। পানি তার হাতেই নিতে হবে। কেমন আছো লতা? ভালো। লতার চোখে পানি জমতে শুরু করেছে। আশ্চর্য! মেয়েটার চোখ এতো সুন্দর। পানি নেন কতক্ষণ গ্লাস নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকবো? সায়েমের সব পিপাসা দুর হয়ে গেছে। তারপরও এক চুমুক পানি খেলো। আপনি আর কখনো এমন করবেন না বললো লতা। হুম। হাত ধরে প্রতিজ্ঞা করেন। হাত বাড়াতেই জড়িয়ে ধরলো নৈঃশব্দবতী। একি অদ্ভুত কা-! নৈঃশব্দবতী ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদছে।

সায়েম তার খাটে বসে। হাতে অনেকগুলো কাগজ। তার পাঁচ বছরের লেখা কবিতা। কাগজগুলো কুঁটি কুঁটি করছে সে। আজ থেকে কবিতা ছাড়লো সে। কবিতাকে তার আর প্রয়োজন নেই।

বি.দ্র: লেখাটা কাল্পনিক এবং অনেক লেখকের গল্পের অবলম্বনে তৈরি। তাই অন্যের চরিত্র বা জীবনের সাথে মিলে যেতে পারে। সেক্ষেত্রে আমি দায়ী না। উজ্জ্বল হোসেনের লেখার পরবর্তী অংশ। উজ্জ্বল হোসেন ও আমি খুব ভালো বন্ধু তাই পরবর্তী ও শেষের অংশটি আমি লিখেছি। তুলে ধরতে চাইছিলাম সায়েমের জীবনের চুড়ান্ত ফলাফল। সময়ের সাথে সাথে শোক বিলীন হয়ে যায় তার চিত্র। থেমে থাকে না জীবন। ভালোবাসা প্রতিস্থাপনযোগ্য। এর পর বাকি তিন বন্ধুর কাহিনী তুলে ধরার চেষ্টা করবো আমি ও উজ্জ্বল।

  • ইয়াজিম ইসলাম পলাশ, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
পছন্দের আরো পোস্ট