ঢাবিতে জাতীয় কবির মৃত্যুবার্ষিকী পালিত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যথাযোগ্য মর্যাদায় ২৭ আগস্ট ২০১৬ (১২ ভাদ্র ১৪২৩ বাংলা) শনিবার জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম-এর ৪০তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে শনিবার সকাল ৭টায় কলাভবন প্রাঙ্গনস্থ অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ জমায়েত হন। সেখান থেকে তাঁরা সকাল সোয়া ৭টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিকের নেতৃত্বে শোভাযাত্রা সহকারে কবির মাজারে গমন, পুষ্প অর্পণ ও ফাতেহা পাঠ করেন।

পরে কবির মাজার প্রাঙ্গণে উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক আলোচনা সভায় নজরুল গবেষক ও এমিরিটাস অধ্যাপক ড. রফিকুল ইসলাম, প্রো-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো: কামাল উদ্দীন, বিশ্ববিদ্যালয় সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ বক্তব্য রাখেন। কলা অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিন ও বাংলা বিভাগের চেয়ারপার্সন অধ্যাপক বেগম আকতার কামাল অনুষ্ঠানে সূচনা বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন নজরুল গবেষণা কেন্দ্রের পরিচালক অধ্যাপক সৌমিত্র শেখর।

আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক কবি নজরুলের আদর্শ অনুসরণের মাধ্যমে ধর্মান্ধ সাম্প্রদায়িক অপতৎপরতার বিরুদ্ধে জাতিকে নজরুল চর্চা ও অধ্যয়নের আহ্বান জানিয়ে বলেন, কবি নজরুলের মানবতাবাদী চেতনা, সাম্য ও মুক্তবুদ্ধির ধারণায় নতুন প্রজন্মকে এর তাৎপর্য সম্পর্কে সচেতন করে তুলতে হবে। নজরুল মানুষে-মানুষে ধর্মাধর্মে কোন ভেদাভেদ দেখেননি। উপাচার্য বলেন, নজরুলের দর্শন একীভূত করে, নজরুলকে স্মরণ অনুসরণের মাধ্যমে শিক্ষায়, সংস্কৃতিতে, সমাজ ও প্রতিষ্ঠানে সকলের মাঝে সৃষ্টি করতে হবে নজরুল চেতনার জাগরণ।

উপাচার্য বলেন, আজকে ধর্মকে ব্যবহার করে স্বাধীনতা যুদ্ধের বিরোধীতাকারীরা প্ররোচনা ও প্রণোদনা দিয়ে জঙ্গিবাদের বিস্তার ঘটাচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও এতে জড়িয়ে পড়ছে। তাই আজ শুধুমাত্র পরীক্ষা পাসের জন্য নজরুল পাঠ নয়- নজরুল চর্চা করতে হবে মূল্যবোধ আর দেশপ্রেমকে উজ্জীবিত করার জন্য। অন্তরে ধারণ করে নজরুলের বাণীকে প্রতিষ্ঠা করতে হবে আন্তর্জাতিকভাবে- সে দায়িত্ব আমাদের। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, গবেষকদের বিশ্বসভায় নজরুল রচনাকে নানা ভাষায় অনুবাদ করার মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান উপাচার্য। উপাচার্য আরও বলেন, নজরুল তারুণ্যের কবি, তারুণ্যের শক্তির উপর আমাদের আস্থা রাখা চাই। তারুণ্যের শক্তি দিয়ে নির্লোভ, নির্বিবাদে সততার সাথে চিন্তা চেতনা প্রত্যয়ে নজরুলের মানবতার বাণী সাম্যের বাণী নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। নজরুল আমাদের সাথে আছেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কবিকে জাতীয় কবির মর্যাদা দিয়ে কবির গণবাণীকে রণ সঙ্গীতরূপে গ্রহণ করে নজরুলকে আমাদের চিরদিনের সম্পদে পরিণত করে দিয়েছেন।

বিশিষ্ট নজরুল বিশেষজ্ঞ এমিরিটাস অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম বলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে নজরুলের ছিলো গভীর সম্পৃক্ততা। ১৯২৭ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ে পদার্পণ করার পর থেকে মৃত্যুর পর পর্যন্ত এই সম্পর্ক স্থায়ী হয়ে গিয়েছে। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানই নজরুলকে মর্যাদার আসনে স্থাপন করে এই স্থায়িত্ব দিয়েছেন।

প্রো-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান কবি নজরুলকে বাংলাদেশে নিয়ে আসার জন্য জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সঙ্গীত বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীবৃন্দ নজরুল সঙ্গীত পরিবেশন করেন। এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদুল জামিয়ায় কুরআনখানি অনুষ্ঠিত হয়।#

আরএইচ

পছন্দের আরো পোস্ট