ডিন,সভাপতি ও প্রভোস্টদের সাথে ইবি ভিসির মতবিনিময়

IU_2ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসী কার্যকলাপ প্রতিরোধ বিষয়ে মতবিনিময়সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ শনিবার দুপুর ১২টায় প্রশাসন ভবনের সভাকক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল অনুষদের ডিন, বিভাগীয় সভাপতি, প্রক্টর, ছাত্র-উপদেষ্টা, প্রভোস্ট ও অন্যান্য অফিস পরিচালকদের সাথে এ মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ হারুন-উর-রশিদ আসকারী।

সভায় তিনি বলেন, জঙ্গিবাদ প্রতিরোধ বর্তমানে রাষ্ট্রের এক নম্বর এজেন্ডা। প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা এবং শিক্ষামন্ত্রী অক্লান্ত চেষ্টা করে যাচ্ছেন দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে জঙ্গিবাদের ছোবল থেকে রক্ষা করার জন্য। তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত এ ধারণা আমি পেয়েছি যে, আমার কোন সহকর্মীই চান না যে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় জঙ্গিদের দ্বারা আক্রান্ত হোক। আমি নিশ্চিত, জঙ্গিবাদ নিরসনে বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার ও সর্বস্তরের মানুষের সব ধরণের সহযোগিতা পাব।

তিনি বলেন, ইতোমধ্যে ডিন, সভাপতি ও প্রভোস্টবৃন্দ জঙ্গিবাদ নিরসনের লক্ষ্যে যেসব কার্যক্রম গ্রহণ করেছেন তাতে আমি মুগ্ধ। তিনি আরও বলেন, সবার সুচিন্তিত পরামর্শে সবসময়ই আমার সমর্থন থাকবে। ভাইস চ্যান্সেলর বলেন, এই বিশ্ববিদ্যালয়ে জঙ্গিবাদের কোন দাগ পড়ুক সেটা আমরা চাইনা। আমি আপনাদের কাছে অনুরোধ করছি, স্ব-স্ব অবস্থান থেকে এ বিষয়ে যা-যা করণীয় আপনারা করবেন। সভায় জঙ্গিবাদমুক্ত ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় গড়ার স্বপ্ন বাস্তবায়নের দৃঢ় অঙ্গিকার ব্যক্ত করেন ড. মোঃ হারুন-উর-রশিদ আসকারী।

ট্রেজারার প্রফেসর ড. মো: সেলিম তোহা বলেন, জঙ্গিবাদের নামে যে হিংস্র ভাইরাস আজ আক্রমণ করেছে তা আমাদের জাতীয় প্রশ্ন। তিনি বলেন, আমরা জঙ্গিবাদমুক্ত ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় দেখতে চাই। আমাদের বসে থাকার কোন সুযোগ নেই। ধর্মের পবিত্রতা রক্ষার জন্য এবং দেশের শান্তির জন্য জঙ্গিবাদ রুখতেই হবে। জঙ্গিবাদ ইস্যুতে সবাই আমরা ভাইস চ্যান্সেলরের পাশে থাকবো, তাকে সব ধরণের সহযোগিতা করবো। সভার শুরুতে প্রক্টর প্রফেসর ড. মো: মাহবুবর রহমান বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনশৃঙ্খলার সার্বিক চিত্র তুলে ধরেন।

মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখেন থিওলজী এ- ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. এবিএম ফারুক, ছাত্র উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মো: আনোয়ার হোসেন, ব্যবস্থাপনা বিভাগের সভাপতি প্রফেসর ড. মো: মাহবুবুল আরফিন, আই আই ই আর-এর পরিচালক প্রফেসর ড. মো: মেহের আলী, আইন ও মুসলিম বিধান বিভাগের সভাপতি প্রফেসর ড. মোহাম্মদ জহুরুল ইসলাম, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সভাপতি প্রফেসর ড. রাকিবা ইয়াসমিন, আল-কুরআন এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের সভাপতি প্রফেসর ড. আ.ব.ম. ছিদ্দিকুর রহমান আশ্রাফী, দাওয়াহ এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের সভাপতি প্রফেসর ড. মো: শহীদুল ইসলাম নূরী, ফিন্যান্স এন্ড ব্যাংকিং বিভাগের সভাপতি মো: আসাদুজ্জামান, শহীদ জিয়াউর রহমান হলের প্রভোস্ট প্রফেসর ড. আব্দুস শাহীদ মিয়া, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের প্রভোস্ট প্রফেসর ড. মহা: আনোয়ারুল হক, সাদ্দাম হোসেন হলের প্রভোস্ট প্রফেসর ড. মুহাম্মদ আশরাফুল আলম, খালেদা জিয়া হলের প্রভোস্ট প্রফেসর ড. এস.এম. মোস্তফা কামাল, লালন শাহ হলের প্রভোস্ট ও প্রভোস্ট কাউন্সিল-এর সভাপতি প্রফেসর ড. মো: ইকবাল হোসাইন, আল-ফিক্হ বিভাগের সভাপতি ড. এ. কে. মুহা: নুরুল ইসলাম, পরিসংখ্যান বিভাগের সভাপতি আলতাফ হোসেনসহ প্রমুখ। বক্তারা অনুষদ, হল ও বিভাগসমূহে জঙ্গিবাদ প্রতিরোধে বিরাজমান বাঁধাগুলো সভায় উপস্থাপন করেন এবং সেসব বিষয়ে ভাইস চ্যান্সেলরের সহযোগিতা কামনা করেন।

সভায় সর্বসম্মতিক্রমে আগামী ১ সেপ্টেম্বরের মধ্যে প্রত্যেক বিভাগ ও আবাসিক হল তাদের শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে গ্রহণযোগ্য কারণ ব্যতিরেকে ১০দিনের বেশি অনুপস্থিত,মিসিং,নিরুদিষ্ট শিক্ষার্থীদের এবং জঙ্গিবদ সংশ্লিষ্ট কর্ম তৎপরতা,প্রচারণার কাজে জড়িতদের তালিকা প্রণয়ন করে প্রশাসনের নিকট প্রেরণের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। এছাড়া সভায় ৩ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ১০টায় জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসী কার্যকলাপ প্রতিরোধকল্পে জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাস বিরোধী র‌্যালি, আলোচনাসভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

সকল বিভাগ ও হলসমূহকে স্ব-স্ব ব্যানার,প্লাকার্ডসহ শিক্ষার্থীদের নিয়ে কেন্দ্রীয় র‌্যালিতে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত হয়েছে। অপর এক সিদ্ধান্তে ৩ সেপ্টেম্বরের মধ্যে হলের আবাসিক শিক্ষার্থীদের বর্তমান কক্ষ-অবস্থান পূর্ণবিন্যাস পূর্বক পরিচয় পত্রে কক্ষ নম্বর উল্লেখ করে নতুন পরিচয় পত্র প্রদানের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

পছন্দের আরো পোস্ট