তারেকের গল্প ‘নবনী’

অনেকদিন পর আবার নবনীর সাথে দেখা। নবনী সেই আগের মতই রয়েছে। সেই গোলাপি গাল, সেই গভীর কাজল টানা চোখ, সেই জোরে জোরে হাটার অভ্যাস, সব ই আছে আগেরই মত। শুধু হয়ত মানসিকতাটাই আগের মত নেই। নবনী আমাকে দেখেনি। একবার ভাবলাম ডাক দেই সেই আগের নামে। যে নামে ডাক না দিলে সে ফিরেও তাকাত না। পরক্ষণেই ইচ্ছাটা দমন করলাম। কি বলবো নবনীকে ডেকে ? কি অধিকারে ডাকবো তাকে ? একসময় হয়ত অনেক অধিকার ছিল। হাস্নাহেনা ফুলের সৌরভ দুজনে চোখ বন্ধ করে উপভোগ করব, চলে এস আজ সমাজ বিজ্ঞান ভবনে, এমন ডাকে সে রাত বিরেতে সানন্দে চলে আসতো। আজ চোখের কাজল একটু এদিক সেদিক হয়ে গেছে, এমন কথা শুনে সে অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকতো আমার পানে । সে বলত, তোমার এতকিছু দেখার কি দরকার শুনি ? আমি বলতাম আমি তোমাকে না দেখলে কে দেখবে তোমায় নবনী ? এ কথায় নবনী আর কোন কথা বলতনা।

চোখে চোখ রেখে তাকিয়ে থাকতো অনেকটা সময়। রেল লাইনের খোলা প্রান্তওে বসে একাকী চাঁদ দেখতাম আর দেখতাম প্লাটফর্মে মানুষের আসা যাওয়া। ঠিক যেভাবে নবনী এসেছিল আবার চলে গেছে। আসলেই কি কেউ পুরোপুরি চলে যায় কারো কাছ থেকে ? তার কল্পনা থেকে ? স্বপ্ন থেকে ? নবনীকে দেখে হটাৎ সব মনে পড়ে গেল। নবনী আমাকে ছেড়ে যায়নি। আমিও নবনীকে। ভার্সিটি লাইফ শেষ হবার পর আর দেখা হয়নি তার সাথে। যোগাযোগ করার চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু তার নাম্বার বন্ধ ছিল। সে ও কি এখনও আমাকে খোঁজে কিনা আমি জানিনা। হয়ত খোঁজে। হয়ত না। থাকনা অজানা। পৃথিবীটা গোল। আবার হয়ত এভাবেই প্রকৃতি কোন একদিন আমাদের দেখা করিয়ে দিবে। সেদিন আমি ডাক দিয়ে বলবো, নবনী আজ বৌদ্ধ পূর্ণিমার রাত। চল, একসাথে আজ সারারাত পূর্ণিমায় স্নান করি …

লেখক:  জাবি শিক্ষার্থী

পছন্দের আরো পোস্ট