সুস্বাদু ও বাহারি ভর্তার জাবি বটতলা

মামা … তিন ভাত, তিন মুরগী আর ভর্তা। একটু পর আবার, মামা হাফ ভাত দাও আর মুরগীর গেটিস। শুক্রবার দুপুরে কথাগুলো বলছিলেন বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী সবুজ। নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তার দুই বন্ধু এসেছেন এখানে ঘুরতে। দুপুর হয়ে যাওয়াতে খাওয়া-দাওয়াটাও সেরে ফেললেন তারা। বললেন, ‘এখানকার নাম অনেক শুনেছি। এখানে বিভিন্ন রকমের ভর্তা পাওয়া যায়। আর খাবারও নাকি অনেক ভালো, দামও অনেক কম। আর সে কারণেই আজকে এখানে খাওয়া এবং খাবারটাও অনেক মজার। অনেক ভাল লাগলো খেয়ে’।

বলছি প্রাকৃতিক যৌন্দর্যের লীলাভূমি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘বটতলার’ কথা। প্রতিদিন সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের ও দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখর থাকে এই বটতলা। শুধু শিক্ষার্থীরাই নয়, বাহিরের দর্শনার্থীরাও অন্তত একবারের জন্য হলেও এখান থেকে খেয়ে যান। না হলে তাদের এ ক্যাম্পাসে ঘুরতে আসাটা যেন অতৃপ্তই থেকে যায়। জাহাঙ্গীরনগর ঘুরতে এসেছে অথচ বটতলায় খাননি এমন লোক হয়ত খুঁজে পাওয়া দুষ্কর।

সুস্বাদু ও বাহারি আইটেমের ভর্তাসহ আকর্ষণীয় খাবারে ভরপুর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের বটতলায় খুব সস্তায় পাওয়া যায় বিভিন্ন রকমেন ভর্তা। ক্যাম্পাসে এ সকল খাবারের দোকান গুলো ‘বটতলা’ নামে পরিচিত। ‘বটতলা’ ক্যাম্পাসের আ ফ ম কামাল উদ্দিন হল থেকে শুরু করে বঙ্গবন্ধু হল পর্যন্ত, এখানে ২৫ টি খাবারের ৩০ টি দোকার রয়েছে।

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যঘেরা এই সবুজ ক্যাম্পাসে ছুটির দিন হলেই ভ্রমণ করতে আসে সৌন্দর্যপিপাসুরা। এমনকি ঢাকার অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষা সফরটাও করে নেয় এই ক্যাম্পাসে। পরিবারসহ ছুটির দিনে ঘুরতে আসা , পুরোনো দিনের বন্ধু- বান্ধবের সাথে দেখা করা সবই যেন এই সবুজ নিলিবিলি প্রাকৃতিক পরিবেশে হয়।

বাংলাদেশের প্রায় সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের স্বল্প মূল্যে খাবারের একমাত্র জায়গা হচ্ছে হলের ক্যান্টিন অথবা ডাইনিং। কিন্তু ব্যতিক্রম জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়। এখানে হলের ক্যান্টিন ছাড়াও বটতলাতে স্বল্প মূল্যে হরেক রকমের সুস্বাদু খাবার পাওয়া যায়।

একদিকে যেমন এ ভর্তাগুলোর দাম খুব সামান্য তেমনি তা সুস্বাদু। যেকোনো ধরনের ভর্তা পাওয়া যায় ভরপুর। এ সকল ভর্তার মধ্যে রয়েছে বাদাম, সরিষা, সিম, ধনেপাতা, কালোজিরা, বেগুন, ভেন্ডি, টমেটা, আলু, লাউশাক, কলা, কচুসহ রয়েছে ইলিশ মাছের ভর্তা, শুটকি মাছের ভর্তা, চিংড়ি মাছের ভর্তা, টাকি মাছের ভর্তা, রুই মাছের ভর্তা, রসুন ভর্তা, ডাল ভর্তা, ডিম ভর্তা প্রভৃতি হরেক রকমের ভর্তা। প্রতিটি ভর্তার দাম মাত্র ৫ টাকা।

ভর্তাসহ খাবারের দোকানগুলোতে বিভিন্ন রকমের চপ/বড়া পাওয়া যায়। এ ছাড়াও রয়েছে মাছ-,মাংসসহ সকল প্রকারের বাঙালি খাবার। এ সকল খাবার খুব সস্তায় খেতে পারে শিক্ষার্থীসহ ভ্রমণার্থীরা।

ক্যাম্পাসের প্রবীণ এক শিক্ষার্থী ঢাকা থেকে পরিবারসহ ঘুরতে আসা কামাল বলেন, ‘বটতলার এসব ভর্তা আমিসহ আমার পরিবারের সকলেই খুব পছন্দ করি। অল্প দামে এত সুস্বাদু ভর্তা পাওয়া দুষ্কর। যখনই আমি সময় পাই জাবি ক্যাম্পাসে ছুটে আসি।’

ভর্তা সম্পর্কে বটতলার দোকানদার কাদের বলেছেন, ‘আমরা সব সময় যত্ন সহকারে ভর্তা তৈরি করি। ক্যাম্পাসের ছাত্র-ছাত্রীসহ ঘুরতে আসা সকলেই ভর্তা খেতে চায়। ভর্তাতে লাভ-লোকসানের কথা চিন্তা না করে কাস্টমারের কথাই বেশি চিন্তা করি।’

দেখা যায়, ছুটির দিনগুলোতে ক্যাম্পাসের বটতলায় খাবারের দোকানে একটু বেশি করে আয়োজন করা হয় হরেক রকমের ভর্তার। কেননা ছুটির দিনগুলোতে ক্যাম্পাসে ভিড় নামে অতিথিদের।#

আরএইচ

পছন্দের আরো পোস্ট