যদি সত্যিই বাঁচতে চান তাহলে ফাইট করুন

13901600_10202155259841092_4283731367843677106_nএইচএসসি জীবনে আমি একজন লুজার ছিলাম। খুব বড় মাপের লুজার। রেসাল্টের পর মানুষজন বিশেষ করে আত্নীয় স্বজনরা ৩ মাস ধরে নাৎসি বাহিনীর মত করে কন্সেন্ট্রেশন ক্যাম্পে রেখে টরচার করেছে! আহ! ফুয়াদের মত ছেলে এটা করতে পারলো! সারাদিন টো টো করে ঘুরে বেড়ালে কিভাবে ভালো রেসাল্ট করবে? তুই কোনখানেই চান্স পাবিনা! এসব অমিয় বানী প্রতিদিন উঠতে বসতে খেতে ঘুমাতে কানের কাছে রেকর্ড করে বাজানো হত। এমনভাবে টরচার করা হতো যে একজন সর্দির রুগী দিনে ৩ বেলা এই ওষুধ খেতে থাকলে তার নির্ঘাত ক্যান্সার হয়ে যাবে!

ধুকে ধুকে বেঁচে থাকা ইন্টারের রেজাল্ট নিয়ে আইবিএ, ঢাকা ডি ইউনিট, জাহাঙ্গীরনগর বিবিএ, রাজশাহী বিবিএ এবং চট্টগ্রামে ডি ইউনিটে পরীক্ষা দিলাম। আইবিএ ছাড়া সবগুলোতেই ওয়েটিং-এ চলে এসেছিলো। চবির পরীক্ষা সবার শেষে ছিলো এবং এখানে মোটামুটি ভালো একটা স্কোর নিয়ে আইআর-এ ভর্তি হলাম।

প্রায় ৫ বছর চলে গেছে। আজকে মাস্টার্সের ক্লাস করছি। আমার আজকে কেন যেন মনে হয় আমার জীবনে আসলে এইচএসসিতে খারাপ করাটা সবচেয়ে ভালো ঘটনা ছিলো! কারন আমি এইচএসসিতে ভালো করলে হয়তো অন্য কোথাও পড়তাম, জীবনের সবচেয়ে অসাধারন মানুষগুলোকে পেতাম না, শাটলে বসে বেসুরা গলায় চিৎকার করে গান গাইতে পারতাম না, আইআর এর মত একটা অসাধারন সাবজেক্টে পড়তাম না, ডায়াসে বসে রুম ভর্তি ছেলেমেয়েদের উদ্যেশে বলতাম না “ডেলেগেইটস, ইজ দেয়ার এনি মোশন অন দ্যা ফ্লোর?” আর সবচেয়ে বড় ব্যাপার, এতগুলো মানুষের ভালোবাসা হয়তো পাওয়া হতো না। আজকের ইজাজ মাহমুদ ফুয়াদকে হয়তো আমি নিজেই খুজে পেতাম না কখনো!

আমি মেনে নিয়েছি, আসলে সবকিছুই একটা বড় প্ল্যানের অংশ। আমি আপনি সবাই। আমাদের আসলে কিছুই করার নেই এ ব্যাপারে। আমাদের জীবনের নাটাই অন্য একজন বড় প্ল্যানারের হাতে যিনি এটা নিয়ে খেলতে ভালোবাসেন। যদি তা নাই হতো তাহলে বিবিএ এমবিএ সার্টিফিকেট নিয়ে কেও রাস্তায় ঘুরতো না আর কেও বা কলেজ ড্রপআউট হয়ে বিশ্বের আইকনিক পারসন হতো না। আমাদের শুধু একটা কাজই করার আছে তা হলো ‘চেষ্টা’। হলে ভালো, আর না হলে বুঝতে হবে যে সামনে হবে। ইনশাআল্লাহ্‌ হবে! যদি কেও এ প্লাস না পাবার কারনে আত্নহত্যা করা উতিচ হয় তাহলে বুঝতে হবে আমি এই পোস্টটা আকাশে বসে দিচ্ছি!

সত্যি সত্যি কেও এমন স্টেপ নিতে চান তাহলে একটা কথা মনে রাখবেন যে শুধু একটা পরীক্ষার রেজাল্ট খারাপ হওয়ার কারনে যে বেঁচে থাকতে চায় না সে সংসারের খরচ বহনের প্যারা, টিউশন করে পকেট চালানোর প্যারা, ফরমালে শত শত চাকরীর ইন্টারভিউ ফেইস করার প্যারা, অসুস্থ বউকে নিয়ে ডাক্তারের কাছে দৌড়ানোর প্যারা, ছেলে মেয়েকে মানুষ করার প্যারা, পোলাও কোরমা খেয়ে শিরায় চর্বি জমিয়ে স্ট্রোক করার প্যারা কিভাবে নেবেন? নাহ ভাই আসলে স্বাভাবিক জীবন যাপন করার সামর্থ্যই আপনার নাই! বাই বাই! আর যদি সত্যিই বাঁচতে চান তাহলে ফাইট করুন। পরের ম্যাচের জন্য প্রস্তুত হন! এটা মাত্র শুরু!

সবার জন্য অগ্রীম শুভ কামনা। মিষ্টির দাওয়াতের অপেক্ষায় রইলাম।

12963486_10201751580029349_1030453311966595664_n

পছন্দের আরো পোস্ট