বেরোবি শিক্ষকের নামফলক ভাঙ্গা নিয়ে ধুম্রজাল

BEROBIরংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) লোকপ্রশাসন বিভাগরে এক শিক্ষকের নামফলক ভেঙ্গে ফেলা নিয়ে ধুম্রজাল সৃষ্টি হয়েছে। অনেকের সন্দেহের তীর ভুক্তভোগী ঐ শিক্ষকের দিকেই। তবে তিনি তা মানতে নারাজ। কোন মৌলবাদি এ কাজ করেছে বলে তার দাবি।

বিশ্ববিদ্যালয়সূত্রে জানা গেছে, ঐ ভবনের শিক্ষকদের অফিসের অংশের কলাপশিকলের চাবি একজন এম এল এস ও ওখানে স্থান পাওয়া শিক্ষকদের হাতে ছাড়া আর কারো কাছে থাকে না। কিন্তু ১৫ আগস্ট সরকারী ছুটি ছিল। কোন শিক্ষক সেই দিন অফিসে আসেননি। আর কোন এম এল এস ও কলাপ শিকলের তালা খুলেননি।

জানা যায়,ঐতলায় মার্কেটিং বিভাগের ৪ জন ও ঐ লোকপ্রশাসন বিভাগের ২ জন শিক্ষক নিয়মিত বসেন। তাদের মধ্যে লোকপ্রশান বিভাগের অপর একজন শিক্ষক আসাদুজ্জামান মন্ডল আসাদ ছুটিতে আছেন। এই অংশে সচারাচার শিক্ষকরা ছাড়া কোন শিক্ষার্থী প্রবেশ করতে পারেন না।

অপরদিকে নামপ্রকাশে অনিচ্ছুৃক কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী বলেন,‘১৬ আগস্ট সকাল ৯ টায় তিনি ক্যাম্পাসে এসেছিলেন। সচারাচার তিনি এতো সকালে ক্যাম্পাসে আসেন না।’

সাহাবুদ্দিন নামে একজন এম এল এস, যার কাছে ঐ অংশের চাবি থাকতো তার কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন,‘১৬ আগস্ট আমি সকাল আনুমানিক সাড়ে ৯ টার দিকে অফিসে এসে তালা খুলে দেই। আর সম্ভবত ১১ টার দিকে ভুক্তভোগি শিক্ষক সাব্বির আহমেদ চৌধুরিকে অফিসে দেখতে পাই।’

তিনি আরো বলেন,‘ পরে স্যার, তার নামফলক ভেঙ্গে ফেলার কথা জানান। তার আগে আমি জানতাম না। আর আমি ঐ দিকে স্যার আসার আগ মুহুর্ত পর্যন্ত যাইনি।’

যদি ঐ এম এল এস কিংবা শুধু শিক্ষকদের হাতেই ঐ অংশের কলাপশিকলের চাবি থেকে থাকে আর তারা ছাড়া ঐ দিকে অন্য কারো প্রবেশ দুঃসাধ্য। তবে এই নামফলক ভাঙ্গার পিছনে অনেক প্রশ্ন তৈরী হয়েছে।

অনেকেই বলেছেন, তিনি নতুন শিক্ষক। তেমন কোন পরিচিত মুখও নন। আর মৌলবাদিদের বিরুদ্ধেও কখনো কোন মন্তব্য করেননি। শুধু ১৫ আগস্ট শোক দিবসের আলোচনা সভায় শিক্ষকদের নীলদলের পক্ষ থেকে মৌলবাদিদের নিষিদ্ধের দাবি তোলা হয়েছে। তাও দলীয়ভাবে। ক্যাম্পাসে মৌলবাদিদেরকে দেখায় যায় না। তাই এটা নিয়ে সংশয় হচ্ছে।

এ বিষয়ে সাব্বির আহমেদ বলেন,‘ আমি ১১ টায় অফিসে আসি। এসে আমার নামফলক ভাঙ্গা দেখতে পাই। কিন্তু আমাদের এখানকার কোন কর্মচারী কিংবা কোন কর্মকর্তা কিংবা কোন শিক্ষক এ কাজ করতে পারেন না।’তবে কাদেরকে সন্দেহ হচ্ছে এ ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি আরো বলেন,‘এটা মৌলবাদিদের কাজ।,

কিন্তু এতো নিরাপত্তার মধ্যে কেমন করে মৌলবাদিরা তার নামফলক ভেঙ্গে ফেলেছে এ ব্যাপারে জানাতে চাইলে তিনি আরো বলেন,‘এটা হয়ত কোন শিক্ষার্থীরুপি মৌলবাদি করেছে।’এব্যাপারে তিনি প্রক্টর দফতরে অভিযোগও করেছেন। প্রক্টর শাহীনুর রহমান জানান, ‘ তিনি অভিযোগ করেছেন। তা দেখা হচ্ছে।’

তবে এ ব্যাপারে অনেকের মনে নানান প্রশ্নের উদ্রেক হয়েছে। অনেকেই এটিকে বানানো বলে সন্দেহ করছেন। কিন্তু কে বা কারা, কেন করলো তার জন্য এখন অপেক্ষা করা ছাড়া কোন উপায় নাই বলে অনেকেই মনে করেন। নামফলক ভাঙ্গার প্রতিবাদে আজ বুধবার দুপুর দেড়টার দিকে ক্যাম্পাসে মানববন্ধন করেছে ঐ বিভাগের শিক্ষার্থীরা।

পছন্দের আরো পোস্ট