ঢাবিতে সরদার ফজলুল করিম দর্শন পদক প্রদান

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দর্শন বিভাগের এমিরিটাস অধ্যাপক ড. আবদুল মতীন তাঁর দর্শনের মৌলিক চিন্তার স্বীকৃতি হিসেবে “সরদার ফজলুল করিম দর্শন পদক-২০১৬” লাভ করেছেন। মঙ্গলবার (১৬ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের আর সি মজুমদার আর্টস মিলনায়তনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তাঁর হাতে এই পদক ও পুরস্কারের ৫০ হাজার টাকা তুলে দেওয়া হয়।

বাংলা বিভাগের এমিরিটাস অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. এম এম আকাশ ও দর্শন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. প্রদীপ কুমার রায়। অনুষ্ঠানে সরদার ফজলুল করিমের দর্শনচিন্তা শীর্ষক স্মারক বক্তৃতা প্রদান করেন দর্শন বিভাগের অধ্যাপক ড. হারুন রশীদ।

উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক অধ্যাপক সরদার ফজলুল করিমে স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে বলেন, তিনি ছিলেন একজন স্বনামধন্য দার্শনিক। তাঁর চাল-চলন, আচার-ব্যবহার, চিন্তা-ভাবনা আমাদের সকলকে মুগ্ধ করত। সকলের কাছে তিনি ছিলেন খুবই প্রিয়। যারা তাঁকে খুব কাছ থেকে দেখেছে, তারা সকলেই তাঁকে গভীরভাবে ভালবাসত ও শ্রদ্ধা করত। সত্যের প্রকাশ এবং সেই সত্যের সাথে কোন মিথ্যার মিশ্রণ না করাই ছিল তাঁর মূল দর্শন। তিনি কাউকেই অসম্মান করতেন না। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠজন ছিলেন অধ্যাপক সরদার ফজলুল করিম। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি নির্যাতিত হয়েছিলেন এবং কারাবরণ করেছিলেন। তাঁর জীবন ও দর্শন থেকে আমাদের নতুন প্রজন্মকে শিক্ষা নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে।

উপাচার্য আরেফিন সিদ্দিক অধ্যাপক সরদার ফজলুল করিমের দর্শনচিন্তা নিয়ে সারগর্ভ প্রবন্ধ উপস্থাপনের জন্য অধ্যাপক ড. হারুন রশীদকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।

অধ্যাপক ড. হারুন রশীদ তাঁর প্রবন্ধে বলেন, মানুষ হিসেবে সরদার ফজলুল করিম ছিলেন সহজ-সরল, খুব সাধারণ জীবনযাপনে তিনি অভ্যস্ত ছিলেন। এটি তাঁর বাহ্যিক দিক। অথচ এই সাধারণ মানুষটির ভেতরটা ছিল অসাধারণ, গভীর দার্শনিকসুলভ পা-িত্যে ভরা। ‘দর্শনকোষ’ এবং ‘প্লেটোর রিপাবলিক’ তাঁর দার্শনিকসুলভ পান্ডিত্যের প্রতিফলন।

বাঙলার পাঠশালা নামের একটি সংগঠন ২০১৩ সাল থেকে নিয়মিতভাবে ‘সরদার ফজলুল করিম পদক’ প্রদান করে আসছে। ##

পছন্দের আরো পোস্ট