বর্ষায় ফুটবলের জয়গান

মেঘের গুড়–ম গুড়–ম গর্জনে ঘুম ভাঙল সাইমুমের। ঘড়িতে তখন ভোর ৬ টা বাজে। হঠাৎ বালিশের তলায় রাখা ফোনটি ক্রিং ক্রিং করে বেজে উঠল। রিসিভ করতেই ‘কোথায় তুই সাইমুম, খেলতে আসবি না ?’ কর্কশ আর বিরক্তি ভরা রাসেলের কন্ঠ ভেসে এল ওপাশ থেকে। হঠাৎ মনে হলো আজ না জোড় আর বিজোড় রোলধারীদের প্রীতি ফুটবল ম্যাচ।

খুব দ্রুতই বিছানা ছেড়ে ফ্রেশ হয়ে হাফ প্যান্ট আর লিভারপুলের জার্সি গায়ে জড়িয়ে ফুটবলটি হাতে নিয়ে হল থেকে সেন্ট্রাল ফিল্ডের দিকে রওনা হলো সাইমুম। মাঠে সবাই ওর জন্য অপেক্ষা করছে। হাত থেকে ফুটবলটিকে আলতো করে মাটিতে রাখল সে। একটু পরেই তাজুল আর জুলিয়াসের নেতৃত্বে ওরা ভাগ হয়ে গেল দুটি দলে। অবশেষে শুরু হল খেলা ।

আন্তঃব্যাচ ফুটবল টুর্নামেন্টকে সামনে রেখে অনুশীলন করতে এসেছে ওরা। সবাই ৪৩ তম আবর্তনের শিক্ষার্থী।গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি আর মেঘের গর্জনের মাঝে ফুটবল খেলার যেন মজাই আলাদা। কিছু সময় যেতে না যেতেই ঠিক সাইমুমদের মতই কোথেকে আরও এক গ্রুপ এসে জুটল মাঠের এক কোনে। এভাবে প্রায় আধা ঘন্টার মধ্যেই ভরপুর হয়ে উঠল জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ। মাঠের এ কোণ থেকে ও কোণে বিভিন্ন রং আর সাইজের ফুটবল নিয়ে দৌড়ে বেড়ান বিভিন্ন বিভাগ আর ইনিস্টিটিউট থেকে অনুশীলনে আসা শিক্ষার্থীরা।

বর্ষার বৃষ্টিতে মাঠ ভেজা থাকায় অবশ্য তাদের একটু বেগ পেতে হয়। কখনো পিচ্ছিল কাদায় বল আটকে থাকা, কখনো পনিতে হাবুডুবু খাওয়ার অবস্থা হওয়া আবার কখনো বা পানি-কাদা মেখে একাককার হওয়া। এভাবে খেলা চলে প্রায় সাড়ে আটটা অবধি। এবারের বর্ষা মৌসুমে এটি যেন সকাল বেলায় মাঠটির নিত্য-নৈমত্তিক দৃশ্য হয়ে দাড়িয়েছে। দুপুর গড়িয়ে বিকেল হতেই আবার সেই একই দৃশ্য। সকাল বেলার সেই ফুটবল খেলুড়ে শিক্ষার্থীরা আবার মেতে ওঠেন ফুটবল নিয়ে। কিন্তু কোন কোন সময় আবার এই দৃশ্যপটে লেগে থাকে একটু প্রতিযোগীতার ছাপ। কারণ এবার আর অনুশীলন নয়, সরাসরি যেন বিশ্বকাপের মূলপর্বের খেলা। বিভিন্ন বিভাগ তাদের নিজেদের মধ্যে আন্তঃব্যাচ টুর্নামেন্টের আয়োজন করে থাকে। তাছাড়া আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয় হওয়ায় হলগুলোও আন্তঃহল ফুটবল টুর্নামেন্টের আয়োজন করে থাকে।

এর পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে আয়োজন করা হয় আন্তঃবিভাগ ফুটবল টুর্নামেন্টের। যা এই বর্ষা মৌসুমে খেলার মাঠের মূল আকর্ষন। এসময় যেন উৎসবে মেতে ওঠে পুরো বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। বিভিন্ন রং আর ডিজাইনের জার্সি গায়ে জড়িয়ে বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা ফুটবল নিয়ে মেতে ওঠেন জানবিবির এই খেলার মাঠটিতে। পাশাপাশি দর্শকদের উন্মাদনা এটাকে যেন আরও নতুন মাত্রা এনে দেয়।প্রতিবছরের মত এবারও এই বর্ষা মৌসুমে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের খেলার মাঠ যেন ফুটবল জ্বরে ভাসছে।

প্রায় প্রতিটি হল, প্রতিটি বিভাগ তাদের মধ্যে আন্তঃব্যাচ ফুটবল টুর্নামেন্টের আয়োজন করে চলেছে। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় ক্রিয়া বিভাগও আন্তঃবিভাগ ফুটবল টুর্নামেন্টের আয়োজন করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। সব মিলিয়ে পুরো বর্ষা মৌসুম জাবি খেলার মাঠ কাঁপবে ফুটবল জ্বরে। ক্যাম্পাসের ফুটবল প্রতিযোগীতা সম্পর্কে রসায়ন বিভাগের ৪৩ তম আবতনের শিক্ষার্থী তাজুল ইসলাম বলেন, বছরের এই সময়টার জন্য অপেক্ষায় থাকি। কারণ আমার মত ফুটবলপ্রেমী শিক্ষার্থীদের বিনোদনের অন্যতম একটা অংশ হল ফুটবল। বছরের বাকি সময়টাও এভাবে ফুটবল খেলতে চাই। ##

পছন্দের আরো পোস্ট