সিভাসুতে ইন্টার্নশীপ কর্মসূচীর রূপরেখা নির্ধারণে কর্মশালা

_DSCedit6333চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও এনিম্যাল সাইন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ অনুষদের ছাত্রছাত্রীদের ইন্টার্নশীপ কর্মসূচীর রূপরেখা নির্ধারণের লক্ষ্যে আজ (১১ আগস্ট) বৃহস্পতিবার দিনব্যাপি এক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের কনফারেন্স রুমে সকাল সাড়ে ১০ টায় অনুষ্ঠিত কর্মশালা উদ্বোধন করেন উপাচার্য প্রফেসর ড. গৌতম বুদ্ধ দাশ। ফিশারিজ অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মোহাম্মদ নুরুল আবছার খানের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বহিরাঙ্গন কার্যক্রম পরিচালক প্রফেসর ড. একেএম সাইফুদ্দীন।

অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট শিল্পপতি নাদের খান, মৎস্য অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক প্রভাতী দেব, কক্সবাজার জেলা মৎস্য অফিসার অমিতোষ সেন, ফুড সায়েন্স এন্ড টেকনোলজি অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. খন্দকার নুরুল ইসলাম, ভেটেরিনারি মেডিসিন অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মো. আহসানুল হক, গবেষণা ও সম্প্রসারণ পরিচালক প্রফেসর ড. মো. কবিরুল ইসলাম খান, প্রক্টর প্রফেসর গৌতম কুমার দেবনাথ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য প্রফেসর ড. গৌতম বুদ্ধ দাশ বলেন, ফিশারিজ অনুষদের ছাত্রছাত্রীরা একাডেমিক জ্ঞানার্জনের পাশাপাশি শিল্প প্রতিষ্ঠানে ব্যবহারিক জ্ঞানার্জনের সুযোগ পেলে বাংলাদেশের মৎস্য খাতের গুণগত পরিবর্তন সাধিত হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা বিভিন্ন মৎস্য প্রক্রিয়াজাতকরণ প্রতিষ্ঠানে ছয় মাস হাতে-কলমে কাজ শিখবে। পরবর্তীতে তারা ডিগ্রি অর্জনের পর দেশি-বিদেশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে নিজেদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে। এতে করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা যেমন উপকৃত হবে তেমনি শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোও উপকৃত হবে। মিঠা পানির মাছ উৎপাদনে বাংলাদেশ চতুর্থ স্থানে রয়েছে উল্লেখ করে উপাচার্য বলেন, ভবিষ্যতে এ অবস্থান আরো উন্নত করার পাশাপাশি সী ফুড উৎপাদনে আমাদেরকে আরো কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

সভাপতির বক্তব্যে প্রফেসর ড. নুরুল আবছার খান বলেন, এ বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ অনুষদের শিক্ষার্থীরা অন্য প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের তুলনায় যোগ্যতা ও দক্ষতায় এগিয়ে থাকবে, কারণ তারা ছয় মাসের ইন্টার্নশীপ গ্রহণের সুযোগ পাবে। বিভিন্ন মৎস্য শিল্প প্রতিষ্ঠানে রোটেশন ভিত্তিক ছয় মাসের ব্যবহারিক কাজ করার পর শিক্ষার্থীদের চূড়ান্ত মূল্যায়ন করা হবে। ফলে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বিশ্ববাজারের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় অধিকতর যোগ্যতার পরিচয় দিবে।

কর্মশালায় বিভিন্ন মৎস্য শিল্প প্রতিষ্ঠান হতে আগত মালিক/কর্মকর্তারা হলেন- আপেল মাহমুদ খান, মো. তাসবিন রুবায়েত ইসলাম, মো. আনিসুজ্জামান, মো. ইকবাল হারুন, অধীর চন্দ্র দাশ, ইউনুস চৌধুরী, কাজী বেলাল উদ্দিন, অং সুইন, ইব্রাহিম শৈবাল, আনম শামসুদ্দিন মানিক, একেএম কুতুব উদ্দীন, সৈয়দ আবু রায়হান, শ্রীবাস চন্দ্র চন্দ, ফারহানা লাভলী, ফিরোজ বখত তোহা, ইমরান খান, মিজানুর রহমান, সৈয়দ আবদুল্লাহ ওমর ফারুক, সুমী আক্তার, হাসনাত জামি, সাইফুর রহমান, মো. মনোয়ার, ড. মঈনুদ্দিন আহমেদ।

কর্মশালায় বক্তারা বলেন, বাংলাদেশে উৎপাদিত মৎস্যজাত পণ্যের সঠিক সংরক্ষণ, মাননিয়ন্ত্রণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণের ক্ষেত্রে পিছিয়ে থাকার কারণে উৎপাদিত অনেক পণ্য নষ্ট হয় এবং কৃষকরা উৎপাদিত পণ্যের সঠিক মূল্য পায় না। ভেটেরিনারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ অনুষদের ছাত্রছাত্রীদের ইন্টার্নশীপ/ট্রেনিং গ্রহণের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে শিল্পোদ্যোক্তারা বলেন, এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের মৎস্য শিল্প প্রতিষ্ঠানে ৬ মাসের ইন্টার্নশীপ/ট্রেনিং তাদের কর্মদক্ষতা বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে। এ কর্মশালাটি ব্যতিক্রমধর্মী উল্লেখ্য করে তারা বলেন, ব্যবহারিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ছাত্রছাত্রীদের দক্ষতা বৃদ্ধির উদ্যোগ প্রশংসনীয়। ছাত্রছাত্রীরা মৎস্য শিল্প প্রতিষ্ঠানে ইন্টার্নশীপ করতে গেলে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে বলে শিল্পোদ্যোক্তারা আশ্বাস প্রদান করেন।

কর্মশালায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও বৃহত্তর চট্টগ্রাম অঞ্চলের বিভিন্ন মৎস্য শিল্প প্রতিষ্ঠানের শিল্পোদ্যোক্তা/সরকারি-বেসরকারি শিল্প প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিগণ অংশগ্রহণ করেন।উল্লেখ্য, এ বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ অনুষদের প্রথম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা আগামী সেপ্টেম্বর হতে ছয় মাসের ইন্টার্নশীপ শুরু করবে।

পছন্দের আরো পোস্ট