সংস্কৃতির সংকট নিয়ে খুবিতে বক্তৃতা

মঙ্গলবার (৯ আগস্ট ) বিকেল ৪টায় খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় একাডেমিক ভবনে ইংরেজি ডিসিপ্লিনের উদ্যোগে ‘বাঙালি সংস্কৃতির গ্রহণ-বর্জনের সংকট’ শীর্ষক বিষয়ের উপর বিশিষ্ট কথা সাহিত্যিক রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর হাসান আজিজুল হক বক্তৃতা প্রদান করেন।

কলা ও মানবিক স্কুলের ডিন ও ইংরেজি ডিসিপ্লিন প্রধান প্রফেসর ড. সাবিহা হকের সঞ্চালনায় ও উপস্থাপনায় অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ ফায়েক উজ্জামান। প্রারম্ভিক বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট কবি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর জুলফিকার মতিন।

উপাচার্য তাঁর সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে বিশিষ্ট কথা সাহিত্যিক প্রফেসর হাসান আজিজুল হক, বিশিষ্ট কবি প্রফেসর জুলফিকার মতিনের মতো বিদগ্ধ শিক্ষক পন্ডিত ব্যক্তিত্বের খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে আগমনকে স্বাগত জানিয়ে এবং তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করে বলেন তাদের মতো মনোনশীল গুণী ব্যক্তিদের একান্ত প্রচেষ্টায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় গর্বের স্থানে পৌঁছে এবং আমাদের জাতীয় জীবনের নানা সংকটময় সময় তাঁরা জাতিকে দিকনির্দেশনা দিয়ে সংকট উত্তোরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তাদের কাছ থেকে নতুন প্রজন্ম অনেক কিছুই শিখতে পারবে এবং যে বিষয়ের উপরে বক্তব্য প্রদানের আয়োজন করা হয়েছে সে বিষয়ে তাঁরা পরিস্কার ধারণা পাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

বাঙালি সংস্কৃতির গ্রহণ-বর্জনের সংকট শীর্ষক বিষয়ের উপর টানা প্রায় ২ ঘন্টার বক্তব্যে প্রফেসর হাসান আজিজুল হক আমাদের হাজার বছরের সংস্কৃতির প্রাচীন, মধ্যযুগ ও আধুনিক যুগের নানা ইতিহাস-ঐতিহ্য, ভাষা-সংস্কৃতি, তথ্য-তত্ত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন আকাশের যেমন পূর্ব-পশ্চিম ঠিক করা যায় না, তেমনি সংস্কৃতির কোনো বাঁধা-ধরা সীমানা ঠিক করা কঠিন। সংস্কৃতির কোনো পরিমাপ নেই। তা অনেকটা স্থিতিস্থাপকের মতো। সংস্কৃতি সম্পর্কে শেষ তো দূরের কথা প্রথম কথাই বা কে বলবে? সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য বর্ণনা করে শেষ করা যাবে না।

মানুষের মধ্যে সাধারণ স্পৃহা থাকে জীবনকে সুন্দর করার এবং সেখান থেকেই তার মধ্যে সৃজনশীলতার জন্ম। মানুষের প্রয়োজনের তাগিদেই নানা পেশা ও কর্মের সৃষ্টি হয়। নিতান্ত প্রয়োজনেই সে কিছু কাজে সৌন্দার্য যোগ করে। আবার তার সাথে কিছু অনার্থক কাজও করে। এই অনার্থক কাজই অপসংস্কৃতি তথা সংস্কৃতিহীনতা। তিনি বলেন বিচিত্র ইতিহাসের মধ্য দিয়ে সংস্কৃতি গড়ে ওঠে। ধর্ম ও সংস্কৃতি এক বিষয় নয়। সংস্কৃতিকে যখন ধর্মের মধ্যে টানা হয় তখন তাতে দেয়াল রচিত হয়। ফলে সেই সংস্কৃতি বিকশিত হতে পারে না।

বাংলাদেশে আজ সংস্কৃতি নিয়ে যে সংকট তৈরি হয়েছে তা উত্তরণে বাঙালি সংস্কৃতি চেতনা, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে রক্ষা করতে হবে। তিনি বলেন আমাদের এই ভাষা ও সংস্কৃতির বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে এবং আমাদের নতুন প্রজন্ম তাদের আত্মপরিচয় খুঁজে এই বাঙালি সংস্কৃতিকেই লালন, ধারণ ও সমৃদ্ধতর করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

পরে প্রশ্নোত্তর পর্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্ট্রার অব এক্সিলেন্স ইন টিচিং এন্ড লার্ণিং এর পরিচালক প্রফেসর ড. আফরোজা পারভীন ও ডিসিপ্লিনের শিক্ষার্থী জিন্নাতুর নাহার অংশ নেন। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ডিসিপ্লিন প্রধান, ছাত্র বিষয়ক পরিচালক, বিভাগীয় প্রধান, ইংরেজি ও বাংলা ভাষা সাহিত্য ডিসিপ্লিনের শিক্ষক ও ইংরেজি ডিসিপ্লিনের শিক্ষার্থীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। ##

পছন্দের আরো পোস্ট