শেকৃবিতে জঙ্গিবিরোধী মানববন্ধন

গুলশান ও শেলাকিয়াসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে চলমান জঙ্গি হামলার প্রতিবাদে পূর্বসিদ্ধান্ত অনুযায়ী দেশের সকল বিশ্ববিদ্যালয় ,কলেজ ,স্কুল ও মাদ্রাসাগুলোতে সোমবার(১আগষ্ট) একযোগে সকাল এগারোটা থেকে বেলা বারোটা পর্যন্ত মানববনন্ধন,র‌্যালি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা।এতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অংশ নেওয়ার কথা থাকলেও রাজধানীর প্রণকেন্দ্রে অবস্থিত শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলনে সাধারণ শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহন ছিলনা বললেই চলে।

 

সরেজমিনে দেখা যায় ,বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা পরিচালক অধ্যাপক ড.মোঃ সেকেন্দার আলীর নেতৃত্বে প্রশাসনিক ভবনের সামনে থেকে একটি প্রতিবাদ র‌্যালি বের হয়। র‌্যালিটি ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে প্রশাসন ভবনের সামনে এসে ১০ মিনিট মানববন্ধন শেষে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে মিলিত হয়।কিন্তু এতে তিন থেকে চার শতাধিক লোকের অংশগ্রহন থাকলেও সাধারন শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহন ছিল খুবই কম। যারা ছিলেন তাদের অধিকাংশ ছিলেন ছাত্রলীগের নেতাকর্মী এবং ডিগ্রীর দাবিতে আন্দোলনরত এগ্রিবিজনেস অনুষদের শিক্ষার্থী।

 

জানা যায়,গত ২৬ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি পদ খালি হয়।প্রাক্তন ভিসি অধ্যাপক মোঃ শাদাত উল্লা দায়িত্ব ছেড়ে দেয়ার পর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ন কোন সিদ্ধান্ত নেওয়ার মতো কেউ না থাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীন সকল কাজে স্থবিরতা সৃষ্টি হয়।এরই ধারাবাহিকতায় বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি) কর্তৃক ঘোষিত আজকের জঙ্গি বিরোধী কর্মসূচিতেও ভাটা পড়ে।

 

Post MIddle

আজকের কর্মসূচির সমন্বয়কারী এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা পরিচালক অধ্যাপক ড.মোঃ সেকেন্দার আলীর জানান,গতকাল সিদ্ধান্ত হয় ইউজিসি কর্তৃক ঘোষিত আজকের জঙ্গি বিরোধী র‌্যালী আয়োজনের।কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি না থাকায় এই কর্মসূচি বাস্তবায়নে তেমন কোন প্রস্তুতি আমাদের ছিলনা।আমরা তেমন জোর প্রচারণা চালাতে পারিনি।তাছাড়া শিক্ষার্থীদেরও কিছু গাফেলতি আছে। আমি নিজে গিয়ে তাদের ক্লাস রুমে সবাইকে বলে আসি র‌্যালীতে অংশগ্রহনের জন্য। শিক্ষকবৃন্দ তাদের ক্লাস থেকে ছেড়ে দিলেও শিক্ষার্থীরা পালিয়ে হলে কিংবা বাসায় চলে যায়।এটা খুবই অনুতাপের।

 

শেকৃবি ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক দেবাশীষ দাসের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান,আজকে জঙ্গি বিরোধী র‌্যালী ছিল মূলত বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মসূচি।সেখানে আমি এবং আমার দলের ছোট ভাইয়েরা এসেছি দেশের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে।আমাদের দলের নেতাককর্মীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা আমার কাজ আর সাধারণ শিক্ষাথীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্ব।ভিসি না থাকায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ব্যর্থ হয়েছে।এধরনের কর্মসূচিতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহন নিশ্চিত করা জরুরি।ভবিষ্যতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এ ব্যাপারে আমাদের সাহায্য চাইলে আমরা অবশ্যই প্রশাসনকে সাহায্য করতে প্রস্তুত আছি।

উল্লেখ্য,শেকৃবিতে স্নাতক এবং স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থীদের সংখ্যা দুই হাজারেরও বেশি।##

পছন্দের আরো পোস্ট