নোবিপ্রবিতে হাজারো কণ্ঠে জাতীয় সঙ্গীতে জঙ্গি প্রতিবাদ

বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) জঙ্গি ও মৌলবাদ বিরোধী মানববন্ধন, র‌্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সোমবার (১ আগস্ট) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে সমবেত জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের উদ্ধোধন করেন উপাচার্য প্রফেসর ড. এম অহিদুজ্জামান। এর আগে মাসব্যাপী জাতীয় শোক দিবস পালনের কর্মসূচীর অংশ হিসেবে কালো পতাকা উত্তোলন করা হয়। এসময় সকল শিক্ষক-কমকর্তা-কর্মচারীগণ কালো ব্যাজ ধারণ করেন।

 

পরে র‌্যালি ও এক মানববন্ধন কর্মসূচী অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় চার হাজার শিক্ষার্থী সহ সকল শিক্ষক-কমকর্তা-কর্মচারী জঙ্গিবাদ বিরোধী নানা স্লোগান সম্বলিত ব্যানার ও প্লাকার্ড হাতে নিয়ে এ কর্মসূচীতে অংশগ্রহণ করে। র‌্যালিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করার পর বিভিন্ন সংগঠন ও পরিষদের পক্ষ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকে স্থাপিত বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শেষ হয়।

 

এরপর হাজী মো. ইদ্রিস অডিটোরিয়ামে দেশের বিভিন্ন স্থানে মর্মান্তিক জঙ্গি হামলার প্রতিবাদ ও নিহতদের স্মরণে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা বিভাগের পরিচালক আফসানা মৌসুমির সঞ্চালনায় এতে সভাপতি হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপাচার্য প্রফেসর ড. এম অহিদুজ্জামান, অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. আবুল হোসেন, রেজিস্ট্রার প্রফেসর মো. মমিনুল হক, শিক্ষক সমিতির সভাপতি জনাব মেহেদি মাহমুদুল হাসান, অফিসার্স এসোসিয়েশনের সভাপতি জনাব তারেক মো. রাশেদ উদ্দিন সহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা।

 

বক্তব্যের শুরুতে উপাচার্য প্রফেসর ড. এম অহিদুজ্জামান বলেন, ‘জাগো তারুণ্য জাগো দেশ, জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাস হবে শেষ’ এ মূলনীতিকে এখন থেকে শ্লোগান হিসেবে প্রতিটি তরুণের মননে ধারণ করতে হবে। তবেই এ ক্রান্তিকাল থেকে জাতি রক্ষা পাবে।

 

Post MIddle

বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে এত বিশাল সংখ্যক শিক্ষার্থীর উপস্থিতিকে নজিরবিহীন উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, সবাই মিলে এক সুরে জাতীয় সঙ্গীত উচ্চারণ কেবল পরিবেশন নয়। মূলত এর মাধ্যমে ত্রিশ লাখ শহীদের রক্তে ভেজা আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশ ও বাংলাদেশের মানুষের প্রতি আমাদের অকৃত্রিম ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ করা। পাশাপাশি এর মাধ্যমে এদেশের রাজনীতি, সংস্কৃতি, অর্থনীতি তথা স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার এক অঙ্গিকার ব্যক্ত করা।

 

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্য মাননীয় উপাচার্য বলেন, নোবিপ্রবি জঙ্গি ও সন্ত্রাস মুক্ত একটি অন্যতম শিক্ষাঙ্গন। সুতরাং এ সমস্ত কর্মসূচীর মাধ্যমে আমরা কোনো জঙ্গি খুজছি না। আমরা আমাদের সন্তানদের নজরদারিতে আনতে চাই না, আমরা বরং তাদের যত্ন নিতে চাই। যাতে করে কোনো অপশক্তি কোনো ভ্রান্ত মতবাদ তরুণ শিক্ষার্থীদের বিপথগামী না করতে পারে। আজকের মানববন্ধন, র‌্যালি ও আলোচনা সভার মূল ঐকতান হলো, প্রিয় মাতৃভূমিকে জঙ্গিবাদ সহ যাবতীয় অপশক্তির হাত থেকে রক্ষা করে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে চলমান অগ্রযাত্রাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া।

 

উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. আবুল হোসেন বলেন, সারা বাংলাদেশে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রায় সাড়ে ৬ কোটি শিক্ষার্থী রয়েছে। এ বিশাল সংখ্যক শিক্ষার্থীদের নজরদারিতে আনা জটিল কাজ। তাই আমাদের উচিত তাদের প্রতি যত্নবান হওয়া। তাদের নিয়মিত খোজ-খবর নেয়া, যাতে করে সকলের অগোচরে এরা কোনো দেশবিরোধী সন্ত্রাস ও জঙ্গিপনায় জড়িয়ে না যায়।

 

রেজিস্ট্রার প্রফেসর মো. মমিনুল হক তার বক্তব্যে মানববন্ধনে সর্বোচ্চ উপস্থিতির জন্য ছাত্র-শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী সকলকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, বাবা-মায়ের পর শিক্ষকদেরই সবচেয়ে বেশি সম্মান করে ছাত্র-ছাত্রীরা। সুতরাং শিক্ষকরাই পারেন তাদের ছাত্র-ছাত্রীদের সঠিক দিক নির্দেশনা দিয়ে সুপথের সন্ধান দিতে। পাশাপাশি আমাদের সকলেরই উচিত হবে বিশ্ববিদ্যালয়কে সাংস্কৃতিক বলয়ে নিয়ে আসা যাতে করে শিক্ষার্থীরা জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসী কার্যকলাপের দিকে ঝুঁকতে না পারে। এসময় তিনি উপাচার্যের নেতৃত্বে সমগ্র বিশ্ববিদ্যালয়কে জঙ্গিবাদ মুক্ত রাখতে সকলের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান।

 

অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন, বিভিন্ন হলের প্রভোস্ট, বিভাগের চেয়ারম্যানবৃন্দ, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ।##

পছন্দের আরো পোস্ট