জঙ্গিবাদ ঠেকাতে স্কুলে নজর রাখতে ডিসিদের নির্দেশ

Nahid eduজঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) নিজ নিজ এলাকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ওপর নজর রাখতে নির্দেশ দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। এ সময় ডিসিরা জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে সরকারকে সব সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। জেলা প্রশাসক সম্মেলনের (ডিসি সম্মেলন) দ্বিতীয় দিন বুধবার (২৭ জুলাই) সকালে শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত কার্যঅধিবেশন শেষে শিক্ষামন্ত্রী সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে একথা জানান। শিক্ষাসচিব মো. সোহরাব হোসাইন অধিবেশনে উপস্থিত ছিলেন।

 

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আমরা বলেছি এখনকার সময়ে একটা গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা হচ্ছে দেশ এখন জঙ্গিবাদের মুখোমুখি। সে বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন, অন্যান্য মন্ত্রণালয় থেকেও নির্দেশনা পাবেন। আমাদের শিক্ষা পরিবারের সরাসরি এক-তৃতীয়াংশ লোক যুক্ত। আমাদের তরুণ ছেলেমেয়েরা এর ভিকটিম হচ্ছে, তাদেরকে জঙ্গি বানানোর টার্গেট করছে। সেজন্য আমাদের আরও হুঁশিয়ার থাকতে হবে।

 

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, নতুন প্রজন্মকে আমরা দেশের জন্য জ্ঞান, শিক্ষা, প্রযুক্তি দিয়ে সততা, নিষ্ঠা, ন্যায়বোধ ও দেশ্রপ্রেম দিয়ে উদ্বুদ্ধ করে ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। তারা যদি কেউ বিপদগামী হয়ে এই পথে (জঙ্গি) যায়, তার তাদের জীবন সর্বনাশ, দেশেরও সর্বনাশ হবে।

 

যার জন্য আমরা ইতোমধ্যে স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, মাদ্রাসায় যেসব বিষয়ে নির্দেশনা দিয়েছি সেগুলো ডিসিরা যেন কার্যকরী করেন, এ বিষয়ে তারা যেন নজর রাখেন, দৃষ্টি রাখেন সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে। ডিসিদের বলেছি, নিজ নিজ এলাকায় যেন সতর্ক থাকেন, নির্দেশনাগুলো কার্যকরী করছেন কিনা বা করার জন্য কী করা উচিত সে ব্যাপারে সহযোগিতা করুন।

 

নাম উল্লেখ না করলেও নর্থ সাউথ ইউনির্ভাসিটি প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, যে বড় বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম এসেছে সেখানে আমরা দুই বছর আগে তদন্ত করে বলেছি লাইব্রেরিতে এসব বই থাকা যাবে না, এই ধরনের মনোভাব এখানে থাকা যাবে না। আমরা চাপ দেওয়ার ফলে একজন শিক্ষক অব্যাহতি দিয়েছিলেন। যে ছেলেদের নাম বেরিয়েছে তারা আজকে জঙ্গিবাদের শিকার হয়েছে। আমরা তৎপর আছি।

 

Post MIddle

জঙ্গিবাদ মোকাবেলা করার জন্য শিক্ষকদের আরও দায়িত্বশীল হিসেবে গড়ে তোলা, আরও নজরদারি করা, সব ছেলেমেয়েদের ভালোভাবে চেনা বা বোঝা এবং অভিভাবকদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা, সতর্ক রাখা যেন তার সন্তানের ওপর নজর রাখেন। যাতে করে বিপদগামী না হয়।

 

এসব বিষয়ে জেলা প্রশাসকদের আরও সম্পৃক্ত হওয়ার জন্য বলা হয়েছে জানিয়ে নাহিদ বলেন, আমরা আরও কিছু মেকানিজম করে দেবো যাতে প্রত্যেক স্কুলে নজরদারি আরও বাড়াতে পারি।

 

ডিসিরা নির্দেশনার প্রশংসা করে নির্দেশনা যাতে প্রত্যেক স্কুলে অভিভাবক বা কমিটি কার্যকর করেন নজরদারিতে সহযোগিতা করবেন বলে জানান নাহিদ। ইতোমধ্যে প্রত্যেক প্রতিষ্ঠানের প্রধানের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করা হচ্ছে জানিয়ে নাহিদ বলেন, আমরা সর্বত্র যাবো, এ ব্যাপারে ডিসিদের সহায়তা চেয়েছি।

 

 

শিক্ষার মান বাড়াতে পরামর্শ: ডিসিরা শিক্ষকের সংখ্যা ও মান বাড়ানোর দরকার এবং ট্রেনিং আরও বাড়ানো দরকার বলে জানিয়েছেন। তারা বলেছেন, সব শিক্ষককে ট্রেনিং দিলে মান উন্নয়ন হবে। আমরা প্রশিক্ষণ দিচ্ছি, তবে রাতারাতি বাড়ানো সম্ভব হবে না। আমাদের সব থেকে বড় সমস্যা ছেলেমেয়েদের উপযুক্ত দক্ষ ও মানসম্মত শিক্ষা দেওয়া। এজন্য শিক্ষকদের প্রস্তুত করা।#

 

আরএইচ

পছন্দের আরো পোস্ট