সাংবাদিক লাঞ্চনার প্রতিবাদে কুবিতে মৌন মিছিল

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিক সমিতির সভাপতি ও সদস্যদের লাঞ্চনাকারীর শাস্তির দাবিতে মৌন মিছিল করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিক সমিতি (কুবিসাস)। সোমবার সকাল ১১ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রসাশনিক ভবনের সামনে থেকে এ মৌন মিছিল শুরু হয়।মিছিল টি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে আবার প্রশাসনিক ভবনের সমানে এসে শেষ হয়।

 

মৌন মিছিল শেষে সাংবাদিক সমিতির সভাপতি পরবর্তী কর্মসূচি হিসেবে বুধবার থেকে প্রসাশনিক ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি ঘোষণা দেন। কুবিসাসের মৌন মিছিলে একাত্বতা পোষণ করেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় সাইন্স ক্লাব, থিয়েটার কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়, অনুপ্রাস কণ্ঠচর্চা কেন্দ্র, রক্তদান সংগঠন বন্ধু-সহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন।

 

গত বুধবার (২০ জুলাই) লাঞ্চনাকারীদের শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন করে এবং প্রশাসনকে সময়সীমা বেঁধে দেয় কুবিসাস। কিন্তুু সেই সময়সীমা গতকাল (রবিবার) শেষ হলেও এখন পর্যন্ত কোন দৃশ্যমান শাস্তির ব্যবস্থা করেনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে এই কর্মসূচি।

 

Post MIddle

জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে অনিয়মের সংবাদ পরিবেশন করায় গত ১৭, ১৮ ও ১৯ মে বিভিন্নভাবে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সদস্যদের লাঞ্ছিত করে সেকশন অফিসার জাকির হোসেন, সহকারী প্রকৌশলী মোঃ আব্দুল লতিফ এবং কম্পিউটার অপারেটর মনিরুজ্জামান তুষার। ১৮ মে সাংবাদিক সমিতির সভাপতি রাসেল মাহমুদকে মোবাইল ফোনে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং ক্যাম্পাস ছাড়া করার হুমকি দেয় কম্পিউটার অপারেটর মনিরুজ্জামান তুষার।

 

ঐ ঘটনার প্রতিবাদ ও অভিযুক্তদের শাস্তির দাবিতে ১৯ মে উপাচার্যকে স্মারকলিপি প্রদান করে সাংবাদিক সমিতি। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা না নেওয়ায় গত বুধবার (২০ জুলাই) মানববন্ধন করে সাংবাদিক সমিতি। মানববন্ধন থেকে অভিযুক্তদের বিচারের দাবিতে রবিবার পর্যন্ত প্রশাসনকে সময়সীমা বেধে দেওয়া হয়। এ সময়সীমার মধ্যে কোন দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় তারা এ মৌন মিছিল করেন এবং অবস্থান কর্মসূচিসহ কঠোর কর্মসূচির হুমিয়ারি দেয় সাংবাদিক সমিতি।এর আগে ২০১৪ সালের ২৩ মার্চ সেকশন অফিসার জাকির হোসেন এক শিক্ষককে লাঞ্ছিত করে। এতে জাকির হোসেনের বিচারেরর দাবিতে ক্লাস বর্জন, মৌন মিছিলসহ সপ্তাহ ব্যাপি কর্মসূচি পালন করে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি।

 

কুবিসাস সভাপতি রাসেল মাহমুদ কর্মসূচির বিষয়ে বলেন, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে এর আগেও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও অভিভাবকদের সাথে অশোভন আচরণের লাঞ্ছনার অভিযোগ রয়েছে। এখনই যদি এদেরকে বিচারের আওতায় না আনা হয় তাহলে তারা আরও বড় ধরণের অন্যায় করার সাহস পাবে। যতদিন পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কোন দৃশ্যমান শাস্তির ব্যবস্থা না করবে তত দিন কঠোর থেকে কঠোরতর আন্দোলন চালাবে সাংবাদিক সমিতি।##

পছন্দের আরো পোস্ট