জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে খুবিতে শিক্ষকদের অবস্থান কর্মসুচি

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদের স্থান নেই, ক্যাম্পাসকে যেকোনো মূল্যে এসব কর্মকান্ড থেকে সম্পূর্ণভাবে মুক্ত রাখা হবে, সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদ মোকাবেলায় রাষ্ট্র ও সরকারের গৃহীত সকল সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে সহযোগিতা করবে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমাজ। বুধবার দুপুরে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের হাদী চত্বরে শিক্ষক সমিতির উদ্যোগে ‘গুলশান ও শোলাকিয়ায় সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে এবং দেশব্যাপী ধর্মান্ধ, মৌলবাদি ও জঙ্গীগোষ্ঠীর অপতৎপরতা বন্ধের দাবিতে’ অবস্থান কর্মসূচি চলাকালে এসব কথা বলা হয়।

 

শিক্ষক সমিতির সভাপতি প্রফেসর ড. আহেমেদ আহসানুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অবস্থান কর্মসূচি চলাকালে বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ ফায়েক উজ্জামান। তিনি বলেন, মানুষ সৃষ্টির সেরা জীব। ইসলাম ধর্মে কোনো মানুষকে হত্যার কথা বলা হয়নি। এমনকি পৃথিবীর অন্য কোনো ধর্মের মানুষকেও হত্যার কথা নেই। ইসলামের কাছে সকল ধর্মের মানুষই নিরাপদ। অথচ ইসলামের কথা বলে নির্বিচারে মানুষকে হত্যা করা হচ্ছে। মানুষ হয়ে আরেক মানুষকে হত্যা করা হচ্ছে এটা কোন ধর্ম?

 

তিনি বলেন, মানুষ হত্যার সাথে জড়িত কোনো অপশক্তি কোনোদিন টিকে থাকতে পারেনি, পারবেও না। ৭১ এবং ৯০ সালে এদেশের মানুষ অপশক্তির বিরুদ্ধে যেভাবে ঐক্যবদ্ধ হয়েছিলো সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদের বিরুদ্ধেও তেমনি ঐক্যবদ্ধ হবেন বলে তিনি আশা করেন এবং সেই অবস্থা ইতোমধ্যেই আমরা প্রত্যক্ষ করছি। দলমত ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে মানুষ আজ এক হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, সত্যিকার অর্থে জঙ্গীবাদ রুখতে হলে আগে ঘরের জঙ্গীবাদ, প্রতিষ্ঠানের জঙ্গীবাদ চিহ্নিত করতে হবে। সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদের সাথে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের কারও সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও উপাচার্য হুশিয়ার করে দেন।

 

Post MIddle

তিনি বলেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে এ ব্যাপারে কঠোর নজরদারী শুরু হয়েছে। অবস্থান কর্মসূচি চলাকালে আরও বক্তব্য রাখেন ট্রেজারার খান আতিয়ার রহমান। তিনি বলেন, সন্ত্রাসী জঙ্গীবাদিদের কোনো ধর্ম নেই, দেশ নেই, তারা দেশ প্রেমিক নয়, মানব প্রেমিক নয়, তারা সন্ত্রাসী। তাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলে বঙ্গবন্ধুর এই সোনার বাংলাকে সামনে এগিয়ে নিতে হবে।

 

সভাপতি বলেন, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমাজ সন্ত্রাস, জঙ্গীবাদ ও মৌলবাদকে প্রশ্রয় দেয় না আজ দলমত নির্বিশেষে সকল শিক্ষকের এই অবস্থান কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ তা প্রমাণ করে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় আমরা অসম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়, আমাদের দেশ এসব কার্মকান্ড থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত থাকবে সেটাই আমাদের প্রত্যাশা।

 

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে আগে এ ধরনের ঘটনা ঘটেনি। একদিনে এ অবস্থা সৃষ্টি হয়নি। এর কারণ বিশ্লেষণ করতে হবে। অবস্থান কর্মসূচি সঞ্চালনা করেন সমিতির সাধারণ সম্পাদক প্রফেসর ড. মোঃ সারওয়ার জাহান। এ সময় সমিতির সদস্যবৃন্দসহ সাধারণ শিক্ষকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। ##

পছন্দের আরো পোস্ট