একটি খরগোস ও অতিআত্মবিশ্বাসী মেয়ের গল্প!

একবনে সরল এক খরগোসের বাস ছিল, একদিন সে বনে একটি মেয়ে পিকনিকে গেল। মেয়েটি খুব ভাল ছিল কিন্তু তার একটিই দোষ ছিল। অতি আত্মবিশ্বাসী আর জেদী প্রকৃতির। মেয়েটি বনে একটি প্রজাপতির পিছু ছুঁটতে ছুঁটতে খরগোসটিকে দেখতে পেলো। কোন এক কারণে খরগোসটিকে খুব ভাল লাগলো মেয়েটির। সে সিদ্ধান্ত নিলো- খরগোসটি তার চাই ই চাই। খরগোস প্রথম তার কাছে যেতে চাইলোনা, কিন্ত সে প্রতিদিন বনে যাওয়া শুরু করলো আর খরগোসকে অনেক আদর যত্ন করতে লাগলো।

 

একটা সময় খরগোস ভাবলো মেয়েটি আসলেই তাকে খুব ভালবাসে আর খেয়াল রাখে। তাই সে এই ভালবাসা পাবার নিমিত্তে মেয়েটির সঙ্গে চলে আসে। খরগোস নিজেও মেয়েটিকে অসম্ভব ভালবেসে ফেলে। কিন্তু কিছুদিন যেতে না যেতেই মেয়েটির আচরণে পরিবর্তন আসে। আগের মত খরগোসের যত্ন নিতো না , সময় দিতো না,খেলতো না। সে অন্য বন্ধুদের নিয়ে ব্যস্ত থাকতো, সে ভাবতো খরগোস তো তার হয়েই আছে। কোথায় যাবে আর গেলেও ফিরে আসবে।

 

এদিকে খরগোসের মনে খুব দুঃখ পেলো। যার জন্য সে তার সব বন্ধু ফেলে, জঙ্গল ছেড়ে চলে এলো- সে আজ তাকে এত অবহেলা করে। সে দুঃখ নিয়ে আবার বনে ফিরে গেলো। মেয়েটি তাকে ফেরানোর চেষ্টা করলো না এই ভেবে যে, সে ফিরে আসবে। কিন্তু তা আর হয় নি। খরগোস ফিরলো না।

 

Post MIddle

কিন্তু খরগোসটি মেয়েটিকে ভুলতে পারলোনা, হতাশাগ্রস্ত হয়ে সে দিন পার করতে লাগলো। এদিকে মেয়েটি যখন উপলব্ধি করলো, খরগোস হারিয়ে গেছে। সে ভুল বুঝতে পেরে পাগলের মত খুজতে লাগলো খরগোসটিকে। এক সময় খরগোসটিকে খুঁজে পেলো। কিন্তু ততক্ষনে বড্ড দেরি হয়ে গিয়েছে। শোকে কাতর খরগোসটি আর বেঁচে নেই।

 

মেয়েটি খরগোসের নিস্তেজ হয়ে পড়ে থাকা দেহটার পাশে নিস্তব্ধ হয়ে বসে রইলো এবং নিজেকেই প্রশ্ন করলো- ‘একটি দুঃখ দেয়া, অবহেলা করার, বিশ্বাস ভাঙ্গার জন্য না হয় নিজেকে মাফ করা যাবে কিন্তু একটি হত্যার দায় নিয়ে সারা জীবন কেমন করে কাটাবে? কী ভাবে মাফ করবে নিজেকে?

 

লেখক: ইডেন মহিলা কলেজ, পলিটিক্যাল সাইন্স

পছন্দের আরো পোস্ট