ঈদ উৎসবের আড়ালে না বলা কষ্ট!

অনেক চাওয়া-পাওয়া আর ত্যাগের মাধ্যমে আমরা পালন করি পবিত্র মাহে রমজান ও ঈদুল ফিতর। মুসলিম জাহানের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর। ধর্মের প্রতি একাগ্রতা, সুস্থ চিন্তা-চেতনা, উর্বর নৈতিকতা আর সংযমের সার্বজনীন শিক্ষা আমাদের ভ্রাতৃত্ববোধকে দৃঢ় করে।

 

শিশু থেকে বৃদ্ধ পর্যন্ত সকলেই চায় ঈদকে খুশির জালে জড়িয়ে রাখতে। শিশুরা চায় নতুন জামাকাপড়; মা-বাবা পোশাকের সাথেসাথে সাধ্যমতো ভালো খাবারের ব্যবস্থা করে তাদের সন্তানদের কাছে ঈদকে উৎসবমুখর করে তোলেন। একজন খেঁটে খাওয়া নন-এমপিও শিক্ষকেরও একই কামনা থাকে ঈদের প্রস্তুতিতে। ঘনিয়ে আসা ঈদের দিনকে সামনে রেখে ছোট্ট শিশুটির নন-এমপিও শিক্ষক বাবার কাছে আবদার, “বাবা! আমাকে নতুন জামা কবে কিনে দিবে? ঈদের বাজার কবে করবে? ঈদের দিন আমরা সবাই সেমাই, গোশ, পোলাও খাব, তাই না বাবা?”

 

Post MIddle

এসব কথা শুনে বিপুল সংখ্যক নন-এমপিও দরিদ্র শিক্ষক জনগোষ্ঠীর প্রতিটি প্রতিভূর বুকের মধ্যকার অদৃশ্য কষ্টের আহাজারিতে খোদার আরশ কেঁপে উঠে। ঈদকে তারা ভাবে দারিদ্রের অভিশাপ। এরপরে আবার রমজান মাসে সবকিছুর মূল্যই নিন্ম ও মধ্যবিত্ত শ্রেণীর ধরা-ছোঁয়ার বাইরে চলে যায়। সামাজিক শ্রেণী বৈষম্য বাদ দিলে দুঃখ ও আনন্দের যে অনুভূতি তা তো ধনী দরিদ্র- সকলের কাছেই সমান।

 

বেসরকারি শিক্ষকরা কি আজীবন এই বৈষম্যের বেড়াজালে আবদ্ধ থাকবেন? শিক্ষার মান উন্নয়নের পেছনে ননএমপিও শিক্ষকদের অবদান কম আছে কি? বৈষম্যহীন বিবেককে প্রশ্ন করে দেখার বিনীত অনুরোধ রইলো। একজন নেশাখোর একজোড়া স্যান্ডেল চুরি করে ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালের সামনে বিক্রির জন্য বসে আছে। সে-ও চায় ঈদে একটি নতুন লুঙ্গি কিনতে! কারন নেশাখোর হলেও ঈদের আনন্দের অনুভূতি তার মধ্যে আছে। নন এমপিও শিক্ষকরা ধর্মীয় উৎসবের অনুভূতিকে পাথর চাপা দিয়ে কৃত্রিম হাঁসিতে সবার চোখকে ফাঁকি দেয়।

 

বড় বড় সরকারী চাকরিজীবীরা শতভাগ সরকারী বোনাসের সাথেসাথে বেসরকারি বোনাসও পান। রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ীগনও বেসরকারি বোনাস থেকে বাদ পড়েন না। অন্যদিকে, বেসরকারি স্কুল-কলেজের এমপিও, ননএমপিও শিক্ষকরা যা পায়, তাতে তারা পরিবারে সবার মুখে হাঁসি ফুঁটাতে পারে কি? এভাবেই কি চলতে থাকবে শিক্ষকদের জীবন? বছরে অন্ততঃ একটি দিন শিক্ষকরা তাদের না বলা কষ্ট ভুলে থাকতে পারবেনা? ##

পছন্দের আরো পোস্ট