ছারপোকায় অতিষ্ঠ জাবি শিক্ষার্থীরা

ছারপোকার অত্যাধিক উপদ্রবে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) আবাসিক হলগুলোর শিক্ষার্থীরা। রক্তচোষা এই ক্ষুদ্র পোকার অত্যাচারে রাতে ঘুমাতে পারছেন না আবাসিক হলের শিক্ষার্থীরা। ফলে ব্যাহত হচ্ছে তাদের স্বাভাবিক পড়াশোনা। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ থেকে ছারপোকার উৎপত্তি হয়। তাছাড়া কোন বহিরাগত শিক্ষার্থীর মাধ্যমেও ছারপোকার বিস্তার ঘটতে পারে।

 

প্রাণিবিদ্যা বিভাগের সহযোগি অধ্যাপক কবিরুল বাশার বলেন, ‘বাহির থেকে আসা কোন শিক্ষার্থীর মাধ্যমে ছারপোকার বিস্তার ঘটতে পারে। তবে নিয়মিত ব্যবহার্য জিনিসপত্র প্রখর রোদে শোকাতে দিলে ছারপোকার প্রকোপ কমে। তাছাড়া ছারপোকা বিভিন্ন রোগ ছড়ায়।

 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকাংশ হলে ছারপোকার উপস্থিতি থাকলেও মূলত আ ফ ম কামালউদ্দীন হল, মওলানা ভাসানী হল এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলে ছারপোকার উপদ্রব বেশি। ছারপোকার উপদ্রব থেকে বাঁচতে প্রায় প্রতিদিনই এসব হলের শিক্ষার্থীদেরকে কক্ষ পরিষ্কার করা সহ আসবাবপত্র রোদে দিতে দেখা যাচ্ছে। কেউ কেউ ব্যাক্তিগতভাবে প্রতিষেধক ব্যবহার করছেন।

 

তবে ছারপোকা দমনে ব্যক্তিগত উদ্যোগ যথেষ্ট নয়, চাই প্রশাসনের সহযোগিতা। ছারপোকার উপদ্রবে অতিষ্ঠ মওলানা ভাসানী হলের ৪৩ তম আবর্তনের আবাসিক শিক্ষার্থী সালমান কবির বলেন, ‘হল লাইফে ছারপোকা সবচেয়ে ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতা। ছারপোকার উপদ্রব এত বেশি যে আমরা রাতে ঘুমাতে পারছি না। এমনকি আমাদের স্বাভাবিক পড়াশোনাও ব্যাহত হচ্ছে।’

 

Post MIddle

শুধু সালমান নয়, সালমানের মত এরকম শত শত আবাসিক শিক্ষার্থীকে একই সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। সম্প্রতি ছারপোকার উপদ্রব থেকে সাময়িক রেহাই পেতে অন্য হলে যেয়ে ঘুমানোর ঘটনাও ঘটছে। গত মাসে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের এক আবাসিক শিক্ষার্থী মওলানা ভাসানী হলে তার সহপাঠীর রুমে ঘুমাতে আসেন। জানতে চাইলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ঐ শিক্ষার্থী বলেন, ‘ছারপোকার প্রকোপ এত বেশি যে হলে ঘুমাতে পারছি না।

 

এদিকে ছারপোকার অত্যাচারে শিক্ষার্থীরা অতিষ্ট হলেও প্রশাসনের যেন কোন ভূমিকা নেই। হল অফিসে অভিযোগ করেও কোন লাভ হচ্ছে বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের। শিক্ষার্থীদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে সম্প্রতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল প্রশাসন স্বল্প পরিসরে ছারপোকা নিধনের ওষুধের ব্যবস্থা করেছে। তবে অন্য হলগুলোর প্রশাসন এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে অপরাগতা প্রকাশ করছে।

 

জাবি হল প্রাভোস্ট কমিটির সভাপতি এবং মওলানা ভাসানী হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক সৈয়দ হাফিজুর রহমান বলেন, ‘বিষয়টি শুনেছি। তবে ওষুধ প্রয়োগে তেমন কাজ হয়না বলে উল্লেখ করেন তিনি।##

 

এমএইচ

পছন্দের আরো পোস্ট