এসপির স্ত্রী হত্যায় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের প্রতিবাদ

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনবাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের সভাপতি অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ ও মহাসচিব অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামাল সোমবার এক বিবৃতিতে বলেন, বাংলাদেশ পুলিশের চৌকস কর্মকর্তা এসপি বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা আক্তার মিতুর নিষ্ঠুর ও বর্বরোচিত হত্যাকা-ের ঘটনায় আজ সমগ্র জাতি স্তব্ধ ও বাকরুদ্ধ । আমরা সকল শিক্ষক সমাজের পক্ষ থেকে এই হত্যাকা-ের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। সেইসাথে মাহমুদা আক্তার মিতুর বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি রইল আমাদের গভীর সমবেদনা। আমরা লক্ষ্য করেছি যে, জঙ্গিগোষ্ঠি নানা অজুহাতে জঙ্গিদমনে যুক্ত আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য, প্রগতিশীল এবং মুক্তচিন্তার ধারক-বাহক ব্যক্তিবর্গের উপর হামলা করে আসছে। কিন্তু এই প্রথমবার জঙ্গিদমন তৎপরতায় দায়িত্বরত কোন কর্মকর্তার পরিবারের সদস্যের উপর হামলা করে হত্যাকা- সংঘটিত করা হলো। এ কাপুরুষোচিত গুপ্ত হত্যার প্রতিবাদের ভাষা আমাদের জানা নেই।

 

সাম্প্রতিক সময়ে ক্রমাগতভাবে উগ্র জঙ্গিগোষ্ঠী কর্তৃক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকসহ আরও কয়েকজন প্রগতিশীল ব্যক্তিকে খুন করা হয়েছে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক এ এফ এম রেজাউল করিম সিদ্দিকীসহ বেশ কয়েকজন বিভিন্ন ধর্মালম্বী ব্যক্তিবর্গকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে সাম্প্রতিককালে। এ ধারাবাহিক হত্যাকা-ের সর্বশেষ শিকার পুলিশ কর্মকর্তা বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা আক্তার মিতু। অধ্যাপক এ এফ এম রেজাউল করিম সিদ্দিকী বা পুলিশ কর্মকর্তার স্ত্রী মাহমুদা আক্তার মিতু কেউ ধর্মের বিরুদ্ধে কোনো ভূমিকা রেখেছেন- এমন প্রমাণ পাওয়া যায়নি। বরং তাঁদের জীবনচারিতা থেকে জানা যায়, তাঁরা প্রকৃত ইসলামের চর্চা করতেন। এতে প্রমাণিত হয়, উগ্র জঙ্গিগোষ্ঠী প্রকৃত ইসলাম ধর্মকে রক্ষা নয়, বরং রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত হয়েছে। স্বাধীনতার পক্ষশক্তি ও প্রগতিশীল ব্যক্তিবর্গই এদের আক্রমণের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে, যা প্রকারান্তরে বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রের অস্তিত্বর উপর হামলা।

 

Post MIddle

সাম্প্রতিককালে পুলিশ জঙ্গি দমনে অত্যন্ত সফল অভিযান চালিয়ে আসছিল। বাবুল আক্তার ছিলেন জঙ্গিগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে অভিযানের একজন অকুতোভয় সফল সৈনিক। তিনি দেশের সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তায় জীবনবাজি রেখে লড়াই চালিয়ে গেছেন, অথচ আজ তাঁর পরিবারের নিরাপত্তা বিপন্ন। সততা ও কর্তব্য নিষ্ঠার জন্য যদি এমন চরম মূল্য দিতে হয়, তাহলে ভবিষ্যতে আর কেউ বাবুল আক্তার হতে চাইবে না। আমরা মনে করি, জঙ্গি দমনে তৎপর দেশপ্রেমিক পুলিশের মনোবল ভেঙ্গে দিতেই এ ন্যক্কারজনক হত্যাকা- ঘটানো হয়েছে। জঙ্গিদমনে পুলিশ প্রশাসনের নেয়া সকল পদক্ষেপের প্রতি আমাদের পুর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করছি। এখন সময় এসেছে, এসব ধর্মান্ধ জঙ্গিগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সমাজের সকলের রুখে দাঁড়াবার। আমরা সরকারকে আহ্বান জানাই, দেশের মানুষকে সাথে নিয়ে সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করে এসব জঙ্গিগোষ্ঠী এবং দেশবিরোধী চক্রকে প্রতিহত ও নিশ্চিহ্ন করতে।

 

সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা আক্তার মিতু, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকসহ এ পর্যন্ত সংঘটিত সকল হত্যাকা-ের সাথে জড়িত প্রকৃত অপরাধীদের খুঁজে বের করে অনতিবিলম্বে গ্রেফতার ও দ্রুত বিচারসহ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।#
আরএইচ

পছন্দের আরো পোস্ট