০৫ জুন পাবিপ্রবির অষ্টম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী

পাবনা-বিজ্ঞান-ও-প্রযুক্তি-বিশ্ববিদ্যালয়

আগামী রোববার ০৫ জুন পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় নবম বর্ষে পর্দাপন করছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দুরদর্শী চিন্তা , আধুনিক বিজ্ঞান ভিত্তিক রাষ্ট্র গড়ার পরিকল্পনা, বিজ্ঞানমুখী শিক্ষা ব্যবস্থা বিশেষ করে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি নির্ভর উন্নত বিশ্বের পর্যায়ে সমতা অর্জনের পদক্ষেপের ফসল এই বিশ্ববিদ্যালয়।

 

 

 

 

এই বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের উদ্দেশ্য হলো সারাদেশে উচ্চ শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি , জ্ঞান চর্চা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ক্ষেত্রে যথাযথ গুরুত্ব প্রদানসহ পঠন-পাঠন ও গবেষণার সুযোগ-সুবিধা সৃষ্টি ও সম্প্রসারণ করা। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় ২০০১ সালের ১৫ জুলাই মহান জাতীয় সংসদে “ পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন প্রকল্প’ বিল পাশ হয়। বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার পর থেকে জ্ঞান অর্জনের তীর্থভূমিতে পরিনত হয়েছে। ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নের উপযুক্ত কর্মী তৈরী করছে নবীন এই বিশ্ববিদ্যালয়। এই বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের কারণে পাবনা তথা উত্তরবঙ্গ শিক্ষার নগরীতে পরিনত হয়েছে।

 

 

 
পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন প্রকল্প বিল পাশ হওয়ার পর নানা বাধা বিপত্তি পেরিয়ে ২০০৮ সালে পাবনা শহর থেকে তিন কিলোমিটার পূর্বে ৩০ একর জমির উপর বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপিত হয়। ২০০৯ সালের ০৫ জুন আনুষ্ঠানিক শিক্ষা কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয়।

 

 

 
বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে ০৫টি অনুষদে ২০টি বিভাগের অধীনে প্রায় চার হাজার শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে। রয়েছে একটি আধুনিক ভাষা ইনষ্টিটিউট। এ বিশ্ববিদ্যালয়ে বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং, বিএসসি, বি ফার্ম, বি. আর্ক, বিএসএস, বিএ (অনার্স), বিবিএ, এমএসসি, এমএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং, ইএমবিএ, এমফিল ও পিএইচডি ডিগ্রী চালু আছে। এছাড়া রয়েছে বিভিন্ন সার্টিফিকেট কোর্স।
শুরু থেকেই এখানে মানসম্মত শিক্ষার পাশাপাশি আধুনিক বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে চলার জন্য বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করে চলেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠদান কার্যক্রম সেমিষ্টার পদ্ধতিতে পরিচালিত হয়। আট সেমিষ্টারের সময়সীমায় প্রতিবছর দুইটি সেমিষ্টার। ফলে মাত্র চারবছরেই এখান থেকে শিক্ষার্থীরা শিক্ষাজীবন শেষ করতে পারছে। ইতিমধ্যে দুইটি ব্যাচ শিক্ষাজীবন শেষ করে চলে গেছে। একদিনের জন্যও নেই সেশনজট।

 

 

Post MIddle

 
শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের জন্য নিজস্ব পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে উঠেছে। ওয়াজেদ মিয়া বিজ্ঞান ভবন শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞান চর্চার উর্বর ক্ষেত্র। চালু হয়েছে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল ও শেখ হাসিনা ছাত্রী হল। লাইব্রেরীতে ই-বুক ও ই- জার্নাল এর সুবিধা ছাড়াও যুগোপযোগি ১৬ হাজার বই আছে। এখানকার আধুনিক কম্পিউটার ল্যাব ও বিজ্ঞানাগার সর্বশেষ প্রযুক্তি সরঞ্জাম সমৃদ্ধ। বর্তমান যুগ অনলাইন সংবাদপত্রের যুগ। তারই অংশ হিসেবে গত বছর ০৫ জুন বিশ্ববিদ্যালয় দিবসে জনসংযোগ দপ্তরের উদ্যোগে চালু হয়েছে  pust news  পোর্টাল। বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে এটি ছিল নবযাত্রা। এর মাধ্যমে ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নে অনন্য উদাহরণ তৈরী হয়েছে।

 

 
বর্তমান উপাচার্য প্রফেসর ড. আল-নকীব চৌধুরী দায়িত্ব গ্রহণ করেই বিশ্ববিদ্যালয়ের অটোমেশনের কাজে হাত দেন। এখন পুরো বিশ্ববিদ্যালয় অটোমেশনের দ্বারপ্রান্তে। যা হবে সারাদেশের জন্য যুগান্তকারী ঘটনা। সেন্টার অব এক্সিলেন্স হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়কে গড়ে তোলার জন্য তিনি বিশেষ লক্ষ্যে কাজ করছেন। ভাইস-চ্যান্সেলরের যোগ্য নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার নব উদ্যোমে একাডেমিক ও প্রশাসনিক কাজ শুরু করেছেন। ফলে উন্নয়নের জোয়ার সৃষ্টি হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বক্ষেত্রে। ভাইস-চ্যান্সেলর মহোদয়ের দিক নির্দেশনায় ১৫০ জন তরুন শিক্ষক রাতদিন পরিশ্রম করছেন শিক্ষার্থীরা যাতে আধুনিক বিশ্বের চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষা গ্রহন করতে পারে। নতুন বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যেও শিক্ষকরা আপ্রাণচেষ্টা করছেন শিক্ষার্থীদের সবোর্চ্চ মানসম্মত শিক্ষা দিতে, যাতে তারা আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা পায় এবং শিক্ষার্থীরা প্রতিযোগিতার বাজারে নিজেদেরদেরকে যোগ্য ‘পণ্য’ করে তুলতে পারে।

 

 

 
উপাচার্য প্রফেসর ড. আল-নকীব চৌধুরী শিক্ষার মান বজায় রাখতে বদ্ধ পরিকর। তিনি নিয়মিত শিক্ষকদের একাডেমিক বিষয়সহ বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক বিষয়ে ব্রিফ করেন। বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের স্বপ্ন অল্পদিনেই পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় হবে বাংলাদেশের দ্বিতীয় বুয়েট। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা ড.আল-নকীব চৌধুরীর নেতৃত্বে রাতদিন কাজ করে চলেছেন।

 

 

 

 
পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ফলে পাবনা তথা এই এলাকার মানুষের উচ্চ শিক্ষার পথ সুগম হয়েছে। পাশাপাশি আর্থ- সামাজিক পরিমন্ডলে উন্নয়নের ছোয়া লেগেছে। স্বল্প সময়ে প্রতিষ্ঠিত এই বিশ্ববিদ্যালয় সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। আজকের দিনে আমাদের প্রত্যাশা এই বিশ্ববিদ্যালয় আধুনিক বিজ্ঞান- প্রযুক্তিময় জ্ঞানে সমৃদ্ধ, যুগোপযোগি, দক্ষ ও মানবিকতাবোধ সম্পন্ন মানবসম্পদ সৃষ্টি করে সারা বিশ্বে অনন্য গৌরব অর্জন করবে।

 

 

 

 
স্বাধীনতার সূবর্ণজয়ন্তী উদযাপন উপলক্ষে ২০২১ সালের মধ্যে দেশ পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল যুগে প্রবেশ করবে । ফলে বাংলাদেশের সকল ক্ষেত্রে প্রযুক্তিময় ‘পণ্য’র চাহিদা তৈরী হবে। প্রযুক্তিসমৃদ্ধ সেই ডিজিটাল যুগের জন্য উপযুক্ত ও দক্ষ মানব সম্পদ গড়ার প্রত্যয়ে কাজ করছে বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার। নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন “ভিশন ২০২১” রূপকল্প বাস্তবায়নের লক্ষ্যে উপাচার্য প্রফেসর ড. আল-নকীব চৌধুরীর নেতৃত্বে দক্ষ জনবল গড়ার চ্যালেঞ্জ নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।

 

লেখাপড়া২৪/এমটি/ ১০৫

পছন্দের আরো পোস্ট