বিজ্ঞান মেলায় খুদে বিজ্ঞানীদের নানা উদ্ভাবনা

ভূমিকম্পে গোটা বাড়ি ধসে পড়লেও জীবন রক্ষা করবে বিশেষ সুরক্ষাব্যবস্থা। রেললাইনের স্লিপার খুলে ফেলার সঙ্গে সঙ্গে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংকেত পৌঁছে যাবে নিকটবর্তী স্টেশনে। উপকূলীয় অঞ্চল ও চরাঞ্চলের বাতাসের তীব্রতা কাজে লাগিয়ে তৈরি করা বিদ্যুৎ আলোকিত করবে পিছিয়ে পড়া মানুষের গৃহস্থালি।

 

দেশের খুদে বিজ্ঞানীদের উদ্ভাবিত এ রকমই নানা প্রযুক্তির পসরা বসেছে ৩৭তম বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মেলায়। এখানে স্থান পেয়েছে সারা দেশ থেকে আসা শিক্ষার্থীদের দেড় শতাধিক প্রকল্প। জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহ উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (২ জুন) রাজধানীর আগারগাঁওয়ের জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘরে এই মেলার উদ্বোধন করেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী ইয়াফেস ওসমান।

 

Post MIddle

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা প্রবীণেরা এই দেশটাকে স্বাধীন করেছি সশস্ত্র যুদ্ধের মাধ্যমে। এখন তরুণ প্রজন্মের দায়িত্ব হবে বিজ্ঞান গবেষণার মাধ্যমে দেশটাকে উন্নত দেশের কাতারে নিয়ে যাওয়া।’ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘরের মহাপরিচালক স্বপন কুমার রায়। বক্তব্য দেন সাবেক পরিচালক মোবারক আলী আকন্দ, বাংলাদেশ বিজ্ঞান একাডেমির পরিচালক এম এ মাজেদ ও বিজ্ঞান জাদুঘরের কিউরেটর কাজী হাসিবুদ্দীন আহমেদ।

 

উদ্বোধনী পর্ব শেষে মেলার বিভিন্ন স্টল ঘুরে খুদে বিজ্ঞানীদের আরও কিছু উদ্ভাবন চোখে পড়ে। তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, প্রতিটা উদ্ভাবনের পেছনেই আছে মানুষের জীবনরক্ষার তাগিদ কিংবা নিখাদ আবিষ্কারের আনন্দের অনুপ্রেরণা। এই ভবিষ্যৎ বিজ্ঞানীরা তৈরি করেছে দূষণমুক্ত পরিবেশে সবুজ রসায়ন ও আদর্শ বাড়ির মডেল, দূষণকারী পদার্থ থেকে মূল্যবান জ্বালানি তৈরির প্রক্রিয়া, সর্বাধুনিক প্রযুক্তির যুদ্ধজাহাজ, আধুনিক ড্রোন কিংবা সড়ক, সেতু সুরক্ষাব্যবস্থাসহ চমকপ্রদ সব প্রযুক্তি।

 

প্রতিবছর জেলা পর্যায়ে অনুষ্ঠিত বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মেলায় তিনটি শ্রেণিতে (কনিষ্ঠ, জ্যেষ্ঠ, বিশেষ) প্রথম স্থান অধিকারী খুদে বিজ্ঞানীরা জাতীয় এ মেলায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পায়। সবার জন্য উন্মুক্ত এ মেলা চলবে শনিবার বিকেল চারটা পর্যন্ত। শেষ দিনে জাতীয় পর্যায়ে বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণীর মধ্য দিয়ে শেষ হবে এবারের আয়োজন।#

পছন্দের আরো পোস্ট