বাজেটে শিক্ষাখাতে যা প্রস্তাব করা হয়েছে

buget20160526043417আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০১৬-১৭ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত শিক্ষাখাত সম্পর্কে বলেন,

 

৮১।শিক্ষা ও মানব সম্পদ উন্নয়নকে আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে আসছি তাই সামগ্রিক শিক্ষা খাতের ব্যয়কে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচনা করে এ খাতের উন্নয়নে আমরা বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ করেছি

 

৮২। প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা: সকল প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা চালু করাসহ কারিকুলাম প্রণয়ন,বই মুদ্রণ এবং প্রায় ৩৫ হাজার শিক্ষক নিয়োগের কথা পূর্বেই বলেছি। আরো প্রায় ৩ হাজার শিক্ষক নিয়োগ এবং তাঁদের প্রশিক্ষণ প্রদানের পরিকল্পনা আমাদের রয়েছে।

 

৮৩।  প্রাথমিক শিক্ষা: ২০১৮ সালের মধ্যে প্রাথমিক শিক্ষাকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত উন্নীত করার পরিকল্পনা বাস্তবায়নে আমরা কাজ করছি। এরই মধ্যে ৭৬০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৬ষ্ঠ এবং ৭ম শ্রেণি চালু করা হয়েছে এ ছাড়া, প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে পাঠ্যপুস্তক ও শিক্ষা উপকরণ সরবরাহ,শিক্ষক নিয়োগ ও প্রশিক্ষণ, বিদ্যালয় ও প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান নির্মাণ,পুনঃনির্মাণসহ আমাদের চলমান কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। উপরন্তু,ভর্তির হার বৃদ্ধি ও শিক্ষার্থীদেরকে স্কুলে ধরে রাখার লক্ষ্যে উপবৃত্তির পাশাপাশি স্কুল ফিডিং কার্যক্রমের সম্প্রসারণ এবং এতে বেসরকারি ও ব্যক্তিখাতকে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য ‘জাতীয় স্কুল ফিডিং নীতিমালা প্রণয়ন করা হচ্ছে

 

৮৪। নিরক্ষরতামুক্ত বাংলাদেশ:১৫/৪৫ বছর বয়সের নিরক্ষর জনগণকে মৌলিক সাক্ষরতা ও জীবনদক্ষতামূলক প্রশিক্ষণ প্রদানের লক্ষ্যে উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা খাতে একটি সেক্টর কর্মসূচি প্রণয়নের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে

 

Post MIddle

৮৫।  টেকসই ও মানসম্মত মাধ্যমিক শিক্ষার সম্প্রসারণ: মানসম্পন্ন শিক্ষার প্রসার এবং শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল করে গড়ে তুলতে অব্যাহত রাখতে চাই সৃজনশীল প্রশ্নভিত্তিক পরীক্ষা পদ্ধতি। এর পাশাপাশি অব্যাহত থাকবে উপজেলা আইসিটি ট্রেনিং রিসোর্স সেন্টার ও মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপনের মত চলমান কার্যক্রমসমূহ।

 

৮৬।  বিদ্যালয় নির্মাণ কাজে ব্যক্তি উদ্যোগ:সব রকমের বিদ্যালয়ের নির্মাণ কাজ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বর্তমানে প্রায় ৬৩ হাজার শ্রেণিকক্ষ নির্মাণের প্রয়োজন এ ক্ষেত্রে সামর্থের ঘাটতি থাকায় আমাদের কার্যক্রম এখনও সীমিত। তাই বিদ্যালয় নির্মাণ কাজে ব্যক্তি খাতে উদ্যোগ বাঞ্ছনীয়।

 

৮৭।জরাজীর্ণ বিদ্যালয় সংস্কারঃ প্রাথমিক থেকে সব পর্যায়ের অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সংস্কারের অভাবে জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। এ ছাড়া, শিক্ষা প্রসারের স্বার্থে কোথাও কোথাও কুঁড়েঘরেও বিদ্যালয় স্থাপন করা হয়েছে। এসব জরাজীর্ণ বিদ্যালয় সংস্কারের জন্য ২০১৬-১৭ অর্থবছরের বাজেটে ২০০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করছি।এজন্য একটি নীতিমালা শীঘ্রই প্রণয়ন করা হবে।

 

৮৮। শিক্ষা ক্ষেত্রে বৈষম্য দূরীকরণ: মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্ট ফান্ড হতে বৃত্তি প্রদানসহ গরীব মেধাবী ছাত্র/ছাত্রী এবং দুস্থ শিক্ষকদের এককালীন অনুদান প্রদান অব্যাহত থাকবে।বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের জন্য আমরা অটিস্টিক একাডেমি স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছি।এ ছাড়া, শিক্ষা অবকাঠামোর ডিজাইনে প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের বিষয়ে যথাযথ গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে।

 

৮৯। উচ্চশিক্ষার প্রসার: মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ইতোমধ্যে কয়েকটি বিশেষায়িত পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা হয়েছে।এ ছাড়া, প্রক্রিয়াধীন রয়েছে আরও কারিগরি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের কাজ।

 

৯০।শিক্ষা সহায়তা:২০১৬-১৭ অর্থবছরের বাজেটে বেসরকারি শিক্ষকদের কল্যাণে ‘বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অবসর সুবিধা বোর্ড’ এর অনুকূলে ৫০০ কোটি টাকার এনডাওমেন্ট ফান্ড এবং ১০০ কোটি টাকা এককালীন অনুদান প্রস্তাব করছি। এ ছাড়া, ‘বেসরকারি শিক্ষক কর্মচারীদের কল্যাণ ট্রাস্ট’ এর অনুকূলে এককালীন ৫০ কোটি টাকা বরাদ্দেরও প্রস্তাব করছি।

 

 

পছন্দের আরো পোস্ট