নোবিপ্রবি উপাচার্যকে সাংবাদিক সমিতির শুভেচ্ছা

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম অহিদুজ্জামানকে যোগদানের ১ বছর পূর্তি উপলক্ষে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন নোবিপ্রবি সাংবাদিক সমিতি(নোবিপ্রবিসাস)। বৃহস্পতিবার দুপুর ১টায় উপাচার্যের নিজ কার্যালয়ে তাকে এ শুভেচ্ছা জানানো হয়।

 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের এডুকেশনাল এডমিনিস্ট্রেশন বিভাগের অধ্যাপক ড. এম অহিদুজ্জামান ২০১৫ সালের ২ জুন নোবিপ্রবি-তে উপাচার্য হিসেবে যোগ দেন। বিশ্ববিদ্যালয় আঙিনায় পদার্পন করেই নোবিপ্রবিকে ‘বাংলাদেশের ক্যামব্রিজ’ বানানোর ঘোষণা দেন তিনি। শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের একাডেমিক মানোন্নয়নের লক্ষ্যে পৃথিবীর অন্য বিখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে শিক্ষা সমন্বয় কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এর ই ধারাবাহিকতায় গত ৮-১৪ ডিসেম্বর নোবিপ্রবি ও যুক্তরাজ্যের স্টারলিং বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে একটি সহযোগিতা চুক্তি সম্পাদন হয়।

 

যোগদানের পরপরই বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন বিভাগ, ইনস্টিটিউট ও অনুষদ চালুর উদ্যোগ নেন। বর্তমানে ১৪ বিভাগের একাডেমিক কার্যক্রম চলছে। এছাড়া সোশ্যাল সায়েন্স অ্যান্ড বিজনেস স্টাডিজ নামে একটি অনুষদ; ইনস্টিটিউট অব ইনফরমেশন সায়েন্সেস ও ইনস্টিটিউট অব ইনফরমেশন টেকনোলজি নামে দুটি ইনস্টিটিউট এবং বাংলাদেশ ও মুক্তিযুদ্ধ অধ্যয়ন, ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং ও স্ট্যাটিসটিক্স নামে তিনটি নতুন বিভাগের অনুমোদন হয়েছে। আগামী সেশন থেকে এগুলোর কার্যক্রম শুরু হবে।তরুণ প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থদের জন্য ‘স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ইতিহাস’ নামে একটি বাধ্যতামূলক কোর্স চালু হয়েছে।

 

কেন্দ্রীয় লাইব্রেরীকে ওয়াইফাই জোনের আওতায় আনা ও ক্যাম্পাসে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সংযোগ এর উদ্বোধন করা হয়েছে। পুনরায় শুরু করা হয় আটকে থাকা তিনটি হল ও নতুন কেন্দ্রীয় লাইব্রেরী ভবনের নির্মাণ কাজ। স্থাপিত হয়েছে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দৃষ্টিনন্দন প্রতিকৃতি। একাডেমিক ও অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি বিজয় দিবস, স্বাধীনতা দিবস, ভাষা দিবস, পয়লা বৈশাখ, জাতীয় শোক দিবস, জাতীয় শিশু দিবসসহ নানা কর্মসূচি গুরুত্বের সাথে পালন শুরু হয়। মাত্র বছরখানেক আগেও যেখানে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ঝুলতো তালা, সেখানে আজ নেই কোনো আন্দোলন। বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিরে এসেছে একাডেমিক শৃঙ্খলা ও শান্তি।

 

Post MIddle

সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে উপাচার্য মহোদয় বলেন, একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অগ্রযাত্রা অনেকাংশেই নির্ভর করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শুনামের উপর।কতিপয় স্বাধীনতা বিরোধী একটি চক্র আমার উপর দুর্নীতির মিথ্যে অভিযোগ আরোপ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শুনাম নষ্ট করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে।। যা বিশ্ববিদ্যালয়ের অগ্রযাত্রা কে বাধা গ্রস্থ করছে।কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক, কর্মকর্তা-কার্মচারী সকলের প্রচেষ্টায় আমাদের অগিয়ে যাওয়া অব্যাহত রয়েছে। বিগত ১ বছর ধরতে গেলে আমরা প্রস্তুতি নিয়েছি মাত্র।তারপরও একাডেমীক শৃঙ্খলা ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন সহ টুকটাক অনেক কাজ সম্পন্ন হয়েছে।

 

এ সময় তিনি আরো বলেন, পিতার কাধে সন্তানের লাশ যতটা ভারি,আমার কাছে মিথ্যে দুর্নীতির অভিযোগ ততটাই ভারী।আমি আমার মেধা,সততা,পরিশ্রম ও নিষ্ঠা দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নতির জন্য কাজ করে যাব। নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় হবে দেশের শ্রেষ্ঠ বিশ্ববিদ্যালয়।

 

অন্যান্যদের মধ্যে নোবিপ্রবি শিক্ষক সমিতি, অফিসার্স এসোসিয়েশন, বিভিন্ন বিভাগ, হল প্রভোস্ট ও কর্মচারীবৃন্দ সহ বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয়।#

 

 

আরএইচ

পছন্দের আরো পোস্ট