সোলার লবন দূরীকরণ ইউনিট উদ্ভাবক অধ্যাপক হামিদুল

খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরকৌশল বিভাগের প্রফেসর ড. কাজী হামিদুল বারী’র উদ্ভাবিত এবং বাংলাদেশ পেটেন্ট ডিজাইনস ও ট্রেড মার্কস বিভাগের অনুমোদিত “কলাম টাইপ সোলার লবন দূরীকরণ ইউনিট” শীর্ষক পেটেন্টটির ‘লেটার অব পেটেন্ট’ (পেটেন্ট নং-১০০৫৪৬১) এর একটি কপি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মুহাম্মদ আলমগীর এর কাছে ১৯ মে বৃহস্পতিবার হস্তান্তর করা হয়।

 

নগর ও গ্রাম অঞ্চলে পানীয় জলের উৎসের ব্যাপকতা দিন দিন হ্রাস পাচ্ছে। সমস্যাজনিত এলাকায় বিশেষ করে যেখানে পানির উৎসে লবন ও অন্যান্য ইমপিওরিটিস রয়েছে, এই পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ। এসমস্ত এলাকায় সোলার ডিস্যালাইনেশন পদ্ধতিতে সৌরশক্তি ব্যাবহার করে স্বল্প ব্যায়ে পানীয় জল উৎপাদন সম্ভব। তবে প্রচলিত সোলার ডিস্যালাইনেশন পদ্ধতিগুলোর উৎপাদন হার সাধারণত ৩ থেকে ৫ লিটার প্রতিদিন প্রতি বর্গমিটার নেট-বেজ এরিয়া। সোলার ডিস্যালাইনেশন পদ্ধতিতে পানীয় জলের উৎপাদনের হার বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রফেসর বারী গত ২০০৯ সাল থেকে গবেষণা শুরু করেন, এরই ফলশ্রুতিতে তিনি “কলাম সাইজ সোলার লবণ দূরীকরণ ইউনিট” পদ্ধতি উৎপাদন করেন। যার উৎপাদন হার ১৮ থেকে ২০ লিটার প্রতিদিন প্রতি বর্গমিটার নেজ-বেজ এরিয়া (কলাম উচ্চতা ১.৬ মিটার)।

 

Post MIddle

এই পদ্ধতির একটি বিশেষ সুবিধা হল সুর্যের যে কোন অবস্থানে কলামগুলি সুর্যের তাপ শোষণ করে কলমের চতুর্দিকে বৃত্তাকার ভাবে তাপ ডিস্ট্রিবিউশন করে পুরো কলামের বৃত্তাকার পৃষ্ঠ থেকে লবনমুক্ত জলীয় বাস্প তৈরি ও পাতনের মাধ্যমে লবনমুক্ত পানি উৎপাদন করে, ফলে তুলনামুলক উৎপাদনের হার অনেক বেশি পাওয়া যায় (এ ধরনের প্লান্টের একটি কলাম ছবিতে রয়েছে)। এই পদ্ধতিটি টেকশই ও এর অপারেশন ও রক্ষণাবেক্ষণ অত্যান্ত সহজ। হাউজহোল্ড প্লান্ট সহজেই মানুষের মাধ্যমে পরিচালন যোগ্য যা ১৫ থেকে ২০ টি কলাম দ্বারা গঠিত। কমিউনিটি প্লান্টের জন্য কম্পিউটার কন্ট্রোল্ড পদ্ধতি ব্যবহৃত হতে পারে। এ ধরনের ভার্টিক্যাল (উলম্ব) কলামসমুহ স্থাপনের জন্য তুলনামুলকভাবে খুবই অল্প জায়গার প্রয়োজন হয় এবং এই কলামসমূহ বিল্ডিং এর দক্ষিণ বারান্দার/বেলকনির রেলিং বরাবর স্থাপন করা যেতে পারে অথবা ছাদের রেলিং বরাবর স্থাপন করা যেতে পারে ফলে ছাদের মধ্যবর্তী ফাঁকা স্থান অন্যান্য কাজে ব্যবহার করা যেতে পারে।

 

বর্তমানে স্বল্প ব্যয়ে লবনাক্ততা জনিত সমস্যাভুক্ত এরাকায় পানীয় জল সরবরাহের জন্য এই উদ্ভাবন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিশেষ অবদান রাখতে পারে বিশেষ করে যখন আমরা জলবায়ুর পরিবর্তনের কারনে শুস্ক ও মরু অঞ্চলের পানের যোগ্য পানির স্বল্পতা নিয়ে চিন্তা করছি। আশা করা যায় এ ধরনের প্লান্টের ব্যাপক ব্যবহার এর উৎপাদন মুল্য কমাবে ফলে এটি ঐ সকল মানুষের দোড় গোড়ায় পোঁছাতে পারে যাদের পানীয় জলের অত্যান্ত অভাব রয়েছে। উল্লেখ্য, প্রফেসর বারী ইতোপূর্বে অন্য একটি সংযুক্ত পেটেন্টের অনুমোদন পান যার শিরোনাম হলো, “আর্সেনিক ও আয়রণ দরীকরণের জন্য সহজ সিরামিক ফিল্টার”।#

 

 

আরএইচ

পছন্দের আরো পোস্ট