কানেক্টিং স্টার্টআপস বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা

IMG_4041কানেক্টিং স্টার্টআপ বাংলাদেশ প্রতিযোগিতায় সেরা ৫০টি স্টার্টআপ বাছাই করা হয়েছে।

 

স্টার্টআপ কি?
সাধারনত একজন বা কয়েকজন মিলে নিজেদের মেধা ও চেষ্টার মাধ্যমে যখন তথ্যপ্রযুক্তি নির্ভর নতুন এবং মৌলিক কোন সেবা কিংবা কোন পণ্য নিয়ে ব্যবসা শুরু করে তখন তাকে স্টার্টআপ বলা হয়। স্টার্টআপের উদ্দেশ্য হলো, মৌলিক একটি উদ্যোগকে ছোট থেকে ধীরে ধীরে প্রসার ঘটানো এবং দেশে-বিদেশে ব্যবসায়িকভাবে সফল করা।

 

বিশ্বের শীর্ষ স্টার্টআপগুলো
প্রযুক্তি বিশ্বে বর্তমানে নামকরা যেসকল প্রতিষ্ঠান আছে, তার প্রায় সবগুলোরই শুরু হয়েছিল খুব ছোট আকারে। বর্তমানে যা স্টার্টআপ নামে পরিচিত। গুগল, মাইক্রোসফট, ইউটিউব, ফেসবুক, আলীবাবা, অ্যামাজন, ব্লুমবার্গ, ওরাকল একটি স্টার্টআপ থেকে মিলিয়ন, বিলিয়ন ডলারের শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার অনন্য উদাহরণ।

 

বাংলাদেশে স্টার্টআপ
আমরা যদি বড় কোম্পানি বা স্টার্টআপে শীর্ষ দেশগুলো যেমন যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, যুক্তরাজ্য, ব্রাজিলের কথা বিবেচনা করি তাহলে দেখা যাবে সেখানে সরকারি-বেসরকারি যৌথ উদ্যোগে স্টার্টআপকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। বাংলাদেশে এ ধরণের উদ্যোগ ছিলো না। তাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্ঠা সজীব ওয়াজেদ জয় আইসিটি ডিভিশন ও বেসিসকে নিয়ে বাংলাদেশের সম্ভাবনাময় স্টার্টআপগুলোকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রচেষ্টা শুরু করেন। এরই ধারাবাহিকতায় গতবছরের ১৮ অক্টোবর ‘কানেক্টিং স্টার্টআপস বাংলাদেশ’ শীর্ষক প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করা হয়। এখানে বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষ জায়গা ও প্রয়োজনীয় উপকরণ দিয়ে, বেসিস আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান ও তথ্যপ্রযুক্তিতে শীর্ষ ব্যক্তিদের অংশগ্রহণ নিশ্চিতসহ সম্ভব সকল সহযোগিতা, বাংলালিংক ডিজিটাল ইনকিউবেটর সেন্টার তৈরিসহ সরকারি-বেসরকারি নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

 

কানেক্টিং স্টার্টআপস বাংলাদেশ
‘কানেক্টিং স্টার্টআপস বাংলাদেশ’ এমনই একটি ফিল্টারিং প্লাটফর্ম যার মাধ্যমে দেশে ও বিদেশে প্রতিষ্ঠা পেতে পারে এমন উদ্যোগগুলো বের করে আনা হচ্ছে। তাদেরকে জায়গা বরাদ্ধের পাশাপাশি উচ্চগতির ইন্টারনেট, নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ব্যবস্থা, বড় কনফারেন্স রুম ব্যবহারের সুবিধাসহ আর্থিক বিনিয়োগের মাধ্যমে উদ্যোগটি যাতে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ভূমিকা রাখতে পারে তার ব্যবস্থা করা হবে। এছাড়া স্টার্টআপগুলোকে নিয়ে পরবর্তীতে বছরব্যাপী কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে। শীর্ষ দশটি স্টার্টআপ এক বছরের জন্য জায়গা বরাদ্ধসহ সকল সহযোগিতা পাবে। এছাড়া আরও ৪০টি উদ্যোগ কো-ওয়ার্কিং জায়গা পাবে ও ৩ মাস মেয়াদি মেন্টারিং পাবে। এর মাধ্যমে ২০২১ সাল নাগাদ ১০০০ উদ্ভাবনী আইসিটি পণ্য তৈরির লক্ষ্যমাত্রা সহজ হবে। এছাড়া ডিজিটাল বাংলাদেশ ভিশন বাস্তবায়নে সহায়ক হবে।

 

প্রতিযোগিতার ধাপ
আইডিয়া স্টেজ স্টার্টআপস ও গ্রোথ স্টেজ স্টার্টআপস নামে আলাদা ক্যাটাগরিতে ‘কানেক্টিং স্টার্টআপস বাংলাদেশ’ প্রতিযোগিতার জন্য আবেদন করার সুযোগ পান আগ্রহীরা। গত ৩০ জানুয়ারি আবেদন গ্রহণ শেষ হয়। আবেদনপ্রক্রিয়ায় বেসিস সর্বাত্মক সহযোগিতা করে। কানেক্টিং স্টার্টআপস বাংলাদেশের একটি টিম ও বেসিস স্টুডেন্টস ফোরাম দেশের প্রায় একশ বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিযোগিতার প্রচারণা করে। এছাড়া ডিজিটাল মিডিয়াতেও ব্যাপকভাবেপ্রচারণা চালানো হয়। এর মাধ্যমে প্রতিযোগিতায় ৪৩৭টি উদ্যোগ আবেদন করে, যার মধ্যে গ্রোথ স্টেজক্যাটাগরিতে ১২৩টি ও আইডিয়া স্টেজ ক্যাটাগরিতে ৩২৪টি উদ্যোগ ছিলো। আবেদনকারীদের প্রথমেই একটিঅরিয়েন্টেশন প্রোগ্রামের মাধ্যমে উৎসাহিত করা ও বিচারিক কার্যক্রমে টিকে থাকার জন্য বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ ওনানা দিক নির্দেশনা দেওয়া হয়।

 

নির্বাচন প্রাথমিক জুরি বোর্ডের মাধ্যমে স্টার্টআপগুলোকে প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের জন্য বিবেচিত কিনা সেটি বাছাই করা হয়। এরপর দেশি ও আন্তর্জাতিক বিচারকদের সামনে অংশগ্রহণকারী দল তাদের প্রকল্পগুলো উপস্থাপন করেন। এর মাধ্যমে উভয় ক্যাটাগরি থেকে ১০০টি উদ্যোগ বাছাই করা হয়। দ্বিতীয় ধাপে শীর্ষ ৫০টি উদ্যোগ নির্বাচিত হয়।

 

বিচারক প্যানেল
বিচারিক কার্যক্রমকে স্বচ্ছ করতে সরকার, আয়োজন প্রতিষ্ঠান, আন্তর্জাতিক এক্সিলারেটর ও বিনিয়োগকারীদের নিয়ে বিচারক প্যানেল তৈরি করা হয়। তারা দেশি ও আন্তর্জাতিক চাহিদা ও গুরুত্বের কথা বিবেচনা করে উদ্যোগগুলো নির্বাচন করেন। যা থাকবে বিজয়ীদের জন্য বিজয়ী স্টার্টআপগুলো কাওরান বাজারের জনতা সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্কে জায়গা বরাদ্ধ পাবে। এর মধ্যে ১০টি স্টার্টআপ বিনামূল্যে এক বছর ও বাকি ৪০টি স্টার্টআপ কো-ওয়ার্কিং জায়গা ব্যবহার করতে পারবে। সকল উদ্যোগ ডেডিকেটেড অ্যাক্সিলারেটর সহযোগিতা পাবে। আন্তর্জাতিকভাবে সফল স্টার্টআপ ও ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান তাদের সঙ্গে সাক্ষাত, আলোচনা ও গাইডলাইন দেবে। বিনিয়োগের জন্য ফান্ড পাওয়ার সুযোগ তৈরি ও বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে পরিচিত হওয়ারও ব্যবস্থা করা হবে। আর এর মাধ্যমে দেশি ও আন্তর্জাতিকভাবে উদ্যোগগুলো সফল করার সকল ব্যবস্থা করা হবে।#

 

আরএইচ

পছন্দের আরো পোস্ট