ড্যাফোডিলে উদ্যোক্তা বিষয়ে বক্তৃতামালা

pশঠতা, কারচুপি, দুর্নীতি ও অনিয়মের ধূর্ত পন্থা পরিহার করে কঠোর পরিশ্রম ও সততার মাধ্যমে যারা নিজেদেরকে তিল তিল করে সফল উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলেছেন, সেই সব উদ্যোক্তাদের মুখ থেকে তাদের পরিশ্রমী ও অধ্যবসায়ী জীবনের কথা শোনার ব্যবস্থা করেছে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনির্ভার্সিটি (ডিআইইউ)।

 

বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনোভেশন এন্ড ইনকিউবেশন সেন্টার এ উপলক্ষ্যে দেশের শিল্পখাতের মোট ১২ জন উদ্যোক্তাকে নিয়ে ডিআইইউ আয়োজন করেছে “উদ্যোক্তা উন্নয়ন বিষয়ক ডিআইইউ ইন্ডাস্ট্রি একাডেমিয়া বক্তৃতা মালা” (‘DIU Industry Academia Lecture Series on Entrepreneurship Development’’) ।

 

১২ পর্বের লোকবক্তৃতামালার প্রথমটি শুরু হয় বুধবার  (৩০ মার্চ) । ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনির্ভার্সিটি’র মিলনায়তনে আয়োজিত এ লোকবক্তৃতামালার প্রথম অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন পিএইচপি গ্রুপের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব সুফী মোঃ মিজানুর রহমান। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনির্ভার্সিটির ট্রাষ্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান মোঃ সবুর খান, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. ইউসুফ মাহাবুবুল ইসলাম ও ইনোভেশন এন্ড ইনকিউবেশন সেন্টারের পরিচালক মোঃ আবু তাহের।

 

সুফী মিজানুর রহমান তার বক্তৃতায় দীর্ঘ সংগ্রামের পথ পাড়ি দিয়ে আজকের এ সাফল্যের শিখওে উঠে আসার কাহিনী দর্শকদের সামনে তুলে ধরেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্ন করে প্রথম জীবনে ব্যাংকিং খাতে ক্যারিয়ার শুরু করলেও স্বাধীনতার পর পর আত্বীয়স্বজন ও বন্ধুবান্ধাবের কাছ থেকে মাত্র ১৪৮৩ টাকা পুঁজি নিয়ে ব্যবসা শুরু করেন। ১৪৮৩ টাকা পুঁজি দিয়ে শুরু করা পিএইচপি গ্রুপের বার্ষিক টার্নওভার এখন ২০ বিলিয়ন টাকা। আর এ সবই সম্ভব হয়েছে কঠোর পরিশ্রম, সততা, নিষ্ঠা আর অধ্যবসায়ের মাধ্যমে।

 

আমন্ত্রিত এই ১২ জন সফল উদ্যোক্তার বক্তৃতাসমূহ নিয়ে পরবর্তিতে একটি গ্রন্থ প্রকাশিত হবে, যা বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের ব্যবসা, অথনীতি ও উদ্যোক্তা উন্নয়ন সংশ্লিষ্ট বিভাগসমূহের শিক্ষার্থীদের জন্য রেফারেন্স পুস্তক হিসাবে ব্যবহারের সুযোগ সৃষ্টি করবে আশা করা যায়। এ পুস্তক শিক্ষার্থীদেরকে তাদের অধিত তাত্ত্বিক জ্ঞানকে বাস্তবতার আলোকে বুঝতে ও শিখতে সাহায্য করবে বলে ধারনা করা হচ্ছে। উল্লিখিত ১২জন উদ্যোক্তার উপর ডিআইইউ থেকে ১২টি প্রামাণ্যচিত্রও নির্মণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

 

ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনির্ভার্সিটি আশা করছে যে, এ লোকবক্তৃতামালা নতুন প্রজন্মের সৎ, শিক্ষিত ও মেধাবী উদ্যোক্তাদেরকে সাহস, নিষ্ঠা ও দক্ষতার সাথে সামনে এগিয়ে যেতে সাহায্য ও অনুপ্রাণিত করবে। উদ্যোক্তা উন্নয়নের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ তার সম্ভাবনার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ গতিতে এগুতে পারছে না বলে যে ধারণা চালু রয়েছে, এ লোকবক্তৃতামালা, সে সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে ওঠতে অনেকখানি সাহায্য করবে আশা করা যায়। অনুষ্ঠানে দেশের শিল্প ও ব্যাবসায়খাতের নেতৃবর্গ, অর্থনীতিবিদ, শিক্ষক, গবেষক, আমলা, রাস্ট্রদূত ও নাগরিক সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। ##

 

লেখাপড়া২৪.কম/এমএইচ

পছন্দের আরো পোস্ট