বিদেশি শিক্ষার্থী বিতাড়ন বন্ধে বাধ্য হলো যুক্তরাজ্য

00ইংরেজি দক্ষতা যাচাই পরীক্ষায় জালিয়াতির অভিযোগ তুলে গণহারে বিদেশি শিক্ষার্থীদের বিতাড়ন করে আসছিল যুক্তরাজ্য। ভুক্তভোগী এক বাংলাদেশি ছাত্রের মামলায় শেষ পর্যন্ত যুক্তরাজ্যের আদালত এমন বিতাড়নকে অবৈধ ঘোষণা করেছেন। গত বুধবার দেশটির ‘ইমিগ্রেশন ও অ্যাসাইলাম’ বিষয়ক আপার ট্রাইব্যুনাল যুগান্তকারী এই রায় দেন।

 

এই রায়ের ফলে যেসব শিক্ষার্থী অন্যায়ভাবে বিতাড়নের শিকার হয়েছে, তাদের পুনরায় যুক্তরাজ্যে ফেরা কিংবা ক্ষতিপূরণ দাবির সুযোগ উন্মোচিত হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। এদিকে হাজার হাজার বিদেশি শিক্ষার্থীর প্রতি অন্যায় আচরণের বিষয়ে জবাবদিহি করতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তেরেসা মে কে ডাকা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রবিষয়ক পার্লামেন্টারি কমিটির চেয়ার কিথ ভাজ।

বাংলাদেশি ওই শিক্ষার্থীর নাম শরীফ আহমদ মজুমদার। তার বাড়ি ফেনীর ফুলগাজীতে। শরীফ আহমদের পক্ষে বাঙালি মালিকানাধীন ইউনিভার্সেল সলিসিটর্স মামলাটি পরিচালনা করে। ২০১৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে বিবিসিতে প্রচারিত ‘প্যানারমা’ অনুষ্ঠানে দেখানো হয়, ভিসার মেয়াদ বাড়াতে প্রয়োজনীয় ইংরেজি দক্ষতার প্রমাণ দিতে বিদেশি শিক্ষার্থীরা প্রতারণার আশ্রয় নিচ্ছে। পূর্ব লন্ডনের একটি সেন্টারে একজনের পরীক্ষা আরেকজন দিয়ে ‘টেস্ট অব ইংলিশ ফর ইন্টারন্যাশনাল কমিউনিকেশনস’ বা টয়েক সনদ অর্জন করছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রতিষ্ঠান এডুকেশন টেস্টিং সার্ভিস (ইটিএস) ওই সেন্টার পরিচালনা করত।

 

এমন ঘটনার পর তদন্ত শেষে ওই বছরের জুলাই মাসে যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র দপ্তর দাবি করে, অন্তত ৪৬ হাজার টয়েক সনদ জালিয়াতির ঘটনা ঘটেছে। ইংরেজি দক্ষতার প্রমাণ হিসেবে টয়েক সনদকে অযোগ্য ঘোষণা করে সরকার। এরপর থেকে যারা টয়েক সনদ ব্যবহার করে ভিসার মেয়াদ বাড়িয়েছে তাদের বিতাড়ন করতে শুরু করে দেশটি। অনেকে শিক্ষাজীবন শেষ করে কর্মজীবী বা পারিবারিক ভিসা কিংবা স্থায়ী হওয়ার জন্য আবেদন করেছেন, কিন্তু অতীতে কোনো এক সময় টয়েক সনদ ব্যবহার করায় তাদেরও আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হয়। অনেকের ভিসা বাতিল করা হয়। সেই সঙ্গে ৬০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিদেশি শিক্ষার্থী পড়ানোর লাইসেন্স বাতিল করা হয়। এতে বিপাকে পরে বাংলাদেশিসহ হাজারো বিদেশি শিক্ষার্থী।

 

বাংলাদেশি শিক্ষার্থী শরীফ আহমদ মজুমদার বলেন, ২০১৪ ইউনিভার্সিটি অব ওয়েস্ট লন্ডনে এমবিএ পড়া অবস্থায় তিনি বাংলাদেশে গিয়েছিলেন বেড়াতে। ফেরার পথে তাঁকে হিথ্রো বিমানবন্দরে আটক করা হয়, কারণ তিনি ২০১২ সালে টয়েক সনদ ব্যবহার করে ভিসার মেয়াদ বাড়িয়েছিলেন। দীর্ঘ ১০ ঘণ্টা আটকে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাঁর ভিসা বাতিল করে দেওয়া হয়। বিষয়টি তিনি আদালতে চ্যালেঞ্জ করেন। বিবিসির প্যানারামা অনুষ্ঠানের সনদ জালিয়াতি তুলে ধরা সাংবাদিক রিচার্ড ওয়াটসনের সঙ্গে তিনি যোগাযোগ করেন। রিচার্ড ওয়াটসন তখন শরীফের পক্ষে আদালতে সাক্ষ্য দিয়ে বলেন, একটি সেন্টারে অনিয়মের কারণে টয়েকের সবগুলো সনদ বাতিল এবং বিদেশি শিক্ষার্থীদের প্রতি আচরণের ঘটনায় তিনি নিজে হতবাক। পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ ইটিএসকে দায়ী না করে বিদেশি শিক্ষার্থীদের প্রতারক হিসেবে চিহ্নিত করার বিষয়েও প্রশ্নের মুখে পড়ে দেশটির স্বরাষ্ট্র দপ্তর। ইটিএস এর মাধ্যমে বিদেশি শিক্ষার্থীদের নিয়ম ভাঙতে ফাঁদে ফেলা হয়েছিল কিনা-সে প্রশ্নও ওঠে। সরকারের পক্ষে আদালতে সাক্ষ্য দিতে যায়নি ইটিএস।

 

স্বরাষ্ট্র দপ্তর বিষয়ক সংসদীয় কমিটির চেয়ার কিথ ভাজ ইনডিপেনডেন্ট পত্রিকাকে বলেন, হাজার হাজার নিরপরাধ বিদেশি শিক্ষার্থীর প্রতি যে অন্যায় আচরণ করা হয়েছে সেটা স্পষ্ট। এমন আচরণের বিষয়ে স্বরাষ্ট্র দপ্তরকে তাদের অবস্থান পরিষ্কার করতে হবে। এক বিবৃতিতে দেশটির স্বরাষ্ট্র দপ্তর বলেছে, এই রায়ের পর তারা আপিলসহ পরবর্তী করণীয় নিয়ে ভাবছে।#

 

আরএইচ

পছন্দের আরো পোস্ট