নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে বঙ্গবন্ধুর জন্মজয়ন্তী উদযাপন

2 (2)১৭ মার্চ বাঙালির হাজার বছরের শ্রেষ্ঠসন্তান জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান-এর ৯৭তম জন্মজয়ন্তী ও জাতীয় শিশু দিবস উদ্যাপন উপলক্ষ্যে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘গাহি সাম্যের গান’ মঞ্চে জাতীয় সঙ্গীত এবং সূচনা সঙ্গীতের পর আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

 

আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এম.পি। প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী বলেন, ‘যতদিন চন্দ্র-সূর্য থাকবে ততদিন বঙ্গবন্ধু থাকবে। ইতিহাসের সেই মহানায়কের নাম কখনই কেউ মুছে দিতে পারবে না।’ মন্ত্রী বলেন, ‘রাজনীতি করলেই ক্ষমতা আসে না, তার জন্য লড়াই-সংগ্রাম করতে হয়। আর জনসেবা করতে হলে ক্ষমতার প্রয়োজন হয়। আমার যেটুকু ক্ষমতা রয়েছে তা আমি জনসেবায় প্রয়োগ করি। আমি ভাষণ দিতে চাই না, কাজ করতে চাই। আমি নিজেকে কর্মী ভাবি, মন্ত্রী মনে করি না ।

 

প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ দেশকে উন্নয়নের পথে এগিয়ে নিচ্ছেন দুইটি অস্ত্র সততা ও সাহসের মাধ্যমে। সাড়ে আটাশ হাজার কোটি টাকা নিজস্ব অর্থায়নে নির্মিত হচ্ছে দেশের দীর্ঘতম পদ্মা সেতু। প্রধান মন্ত্রী কখনও বলেন নি ঐ প্রজেক্টটি অমুককে দিন। বরং তিনি আমাকে বলেছেন আপনার ওখানে আপনি সততার সাথে কাজ করুন। কোন প্রকার দুর্নাম যেন আমি না শুনি। আর আমি তাই করে যাচ্ছি। আমাদের লক্ষ্য পরবর্তী নির্বাচন নয় আমাদের লক্ষ্য পরবর্তী জেনারেশন।’
শিক্ষার্থীদের দাবির প্রেক্ষিতে মন্ত্রী বিশ্ববিদ্যালয়কে দুইটি বাস প্রদানের আশ্বাস প্রদান করেন।

 

আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহীত উল আলম। সভাপতি মন্ত্রীকে বেশি সময় দেওয়ার লক্ষ্যে প্রধান অতিথিসহ অন্যান্য অতিথিবৃন্দ, শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী, শিক্ষার্থীবৃন্দ, সাংবাদিকবৃন্দসহ উপস্থিত সকলকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেই তাঁর সংক্ষিপ্ত বক্তব্য শেষ করেন।

 

আলোচনা অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার প্রফেসর এ এম এম শামসুর রহমান। স্বাগত বক্তব্য রাখেন বঙ্গবন্ধুর জন্মজয়ন্তী- ২০১৬ উদ্যাপন কমিটির সদস্য-সচিব দিদ্ধার্থ দে। ‘বঙ্গবন্ধুর উন্নয়ন দর্শন’ শীর্ষক প্রবন্ধ পাঠ করেন অর্থনীতি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর ড. মো: নজরুল ইসলাম এবং ‘বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ’ শীর্ষক প্রবন্ধ পাঠ করেন ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের প্রফেসর ড. বিজয় ভূষণ দাস। আলোচনা সভায় সম্মানিত আলোচক হিসেবে আলোচনা করেন ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডীন প্রফেসর ড. সুব্রত কুমার দে এবং কলা অনুষদের ডীন প্রফেসর ড. মোঃ মাহবুব হোসেন। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন প্রগতিশীল ছাত্র নেতা ছাব্বির আহমেদ এবং আপেল মাহমুদ। আলোচনায় বঙ্গবন্ধুর জীবন, আদর্শ ও অবদান নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। এসময় শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

 

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে আবৃত্তি, চিত্রাঙ্কন ও দেশের গান প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি এবং উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহীত উল আলম।

পছন্দের আরো পোস্ট