যেমন আছে জাবির চিকিৎসা কেন্দ্র

4569_JU_Medical_Centerঅযত্ন, অবহেলা এবং নানা সমস্যায় জর্জরিত জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারটি। বছর খানেক আগে নতুন ভবন নির্মিত হলেও তেমন বাড়েনি সেবার মান। দীর্ঘ ৩৮ বছর পেরিয়ে গিয়ে আধুনিকতা এ সমায়েও মেডিকেল সেন্টারটির জরাজীর্ণ অবস্থা কাটেনি। মেডিকেল সেন্টারের জীর্ণ-শীর্ণ অবস্থার কারণে ক্যাম্পাসে বসবাসকারী শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সুচিকিৎসা না পেয়ে নানা দূর্ভোগের শিকার হচ্ছে। ক্যাম্পাসে বসবাসকারী শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং তাদের আত্মীয়-স্বজনসহ ২০ হাজার জনের চিকিৎসায় নিয়োজিত মেডিকেল সেন্টারটিতে গড়ে মাত্র ১ টি বেড, ২ জন ডাক্তার নিয়োজিত রয়েছে। যা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই নগণ্য বলে জানা গেছে।

 

মেডিকেল সূত্রে জানা যায়, ১৯৭১ সালে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় দেশের একমাত্র আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে যাত্রা শুরু করে। বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারটি প্রথমে আল বেরুনী হলের সিঁড়ির নীচে স্থাপিত হয়। পরে এটি ওই আল বেরুনী হল নির্মাণের সময় ঠিকাদারদের থাকার জন্য নির্মিত রুমে স্থানান্তরিত করা হয়। একপর্যায়ে আরো ২ টি রুম তৈরি করে চিকিৎসা কার্যক্রম চলতে থাকে। যেটি বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টার নামে পরিচিত।

 

১৯৭৪ সালে এই মেডিকেলটির আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। তখন বিশ্ববিদ্যালয়ে ৫ হাজার শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী বসবাস করতেন। বর্তমানে তার সংখ্যা বেড়ে ২০ হাজারে দাঁড়িয়েছে। তাঁদের চিকিৎসার জন্য মাত্র ৯ জন ডাক্তার ও ৩ জন নার্স রয়েছে। মারাত্মক আহতদের জন্য চিকিৎসার কোন সুব্যবস্থা নেই। মুমূর্ষু রোগী পরিবহনের জন্য ২ টি এ্যাম্বুলেন্স থাকলেও চালক মাত্র ৩ জন। আবার একটি এ্যাম্বুলেন্স রিকুইজশনে নিয়ে গেলে সেইদিন ইমার্জেন্সি রোগীদের চরম দূর্ভোগ পোহাতে হয়। তাছাড়া এই এ্যাম্বুলেন্সগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাবশালী শিক্ষক-কর্মকর্তাদের বাজার করার কাজে ব্যবহার করা হয় বলে জানা গেছে।

 

সূত্রে আরো জানা গেছে, ১৯৭৪ সালের ভাঙ্গাচুরা ও পুরাতন যন্ত্রপাতি দিয়ে কাজ চলছে। এখানে ১টি অনুবীক্ষণ যন্ত্র, ১টি ফটো ইলেকট্রিক কালার মেশিন, ১টি ফ্রিজ ও ১টি হট ইয়ার ওপেন মেশিন রয়েছে। আর স্টেইলেজার মেশিন থাকলেও সেটি নষ্ট অবস্থায় পড়ে আছে। একটি এক্সরে মেশিন শুরুতেই থাকলেও সময়ের ব্যবধানে সেটি আর নেই। শুরুতেই ১৮ টি টেস্ট করা হলেও যন্ত্রপাতি এবং দক্ষ কারিগরীর অভাবে এখন ১১ টি টেস্ট করা হয়। ফলে এসব যন্ত্রপাতি পুরাতন ও অকার্যকর হয়ে যাওয়ায় টেস্ট রিডিং প্রায়ই ভুল আসে। এছাড়া কতিপয় ডাক্তারের অবহেলা, পর্যাপ্ত ওষুধপত্র ও চিকিৎসা সরঞ্জামাদির অভাবসহ নানা সমস্যায় জর্জরিত মেডিকেল সেন্টারটি শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মুকর্তা-কর্মচারীদের চিকিৎসা দিতে ব্যর্থ হচ্ছে।

 

ডাক্তারদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিতরে থাকার কথা থাকলেও তাদের অধিকাংশই বাইরে থাকেন। যার কারণে প্রায়ই ডাক্তারের অভাবে ফার্মাসিস্টরা ওষুধ দিয়ে থাকেন। যার ফলে রোগীদের নানা ভোগান্তির শিকার হতে হয়। সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ভাল ওষুধ দেয়ার কথা থাকলেও অত্যন্ত নিম্নমানের ওষুধ সরবরাহ করা হয়। ক্যাপসুল, ট্যাবলেট, ইনজেকশন, সেরাপ এন্টাসিডসহ মাত্র ১২-১৫ প্রকারের ওষুধ আছে বলে জানা গেছে। অধিকাংশ ওষুধগুলো শিক্ষার্থীদের বাইরে থেকে কিনতে হয়।

 

 

পছন্দের আরো পোস্ট