ইবির বাস বন্ধ হলেই শিক্ষকদের কর্মবিরতি

IUযেকোন দাবি আদায়ে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের চিরাচরিত আন্দোলনের রুপ হচ্ছে প্রধান ফটকে অবরোধ করে বাস চলাচল বন্ধ করে দেয়া। প্রায় প্রতি মাসেই বাস বন্ধ করে দেয়ার মত ঘটনা ঘটে। এতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা, কর্মচারীসহ সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হচেছ প্রতিনিয়ত। তাই এবার বাস বন্ধ করে আন্দোলন করার বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা।

 

বাস বন্ধ হলেই পরদিন স্বয়ংক্রিয় ভাবে কর্মবিরতি পালনের হুমকি ও সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা। রবিবার সকাল ১০ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সাধারণ সভায় এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

 

অনুষদ ভবনের ৪২৭ নং কক্ষে সমিতির সভাপতি প্রফেসর ড. এমতাজ হোসেনের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক প্রফেসর ড. অলীউল্ল্যাহর পরিচালনায় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন শতাধিক শিক্ষক উপস্থিত ছিলেন।

 

সভায় উপস্থিত শিক্ষকরা সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন দাবি আদায়ের কৌশল হিসেবে ফটক অবরোধ করে বাস চলাচল বন্ধ করে দেয়ার বিপক্ষে সর্বসম্মত ভাবে একমত হন। এ বিষয়ের উপর আলোচনায় শিক্ষকরা বলেন, দাবি আদায়ের জন্য আলোচনার টেবিল আছে। এছাড়া আরো নানা ভাবে আন্দোলন করে দাবি আদায় করা যায়। কিন্তু কুচক্রি মহল বিশ্ববিদ্যালয়কে অস্থিতিশীল করার পায়তারা হিসেবে চুন থেকে পান খসলেই বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস চলাচল বন্ধ করে দেয়। এভাবে কোন বিশ্ববিদ্যালয় চলতে পারেনা। যদি কারো কোন দাবি থাকে তারা যেন নিয়মতান্ত্রিক ভাবে আন্দোলন করে।’ কাউকে জিম্মি করে কোন আন্দোলন শিক্ষকরা বরদাস্ত করবে না বলেও শিক্ষকরা তাদের বক্তব্যে বলেন।

 

সভায় গৃহিত ৮ম সিদ্ধান্তে বলা হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন পূর্ব নির্ধারিত সিডিউল পরিবহণ কোন পূর্ব ঘোষণা ছাড়া যদি আকস্মিক ভাবে বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে স্বয়ংক্রিয় ভাবে শিক্ষকরা পরের দিন প্রতিবাদ হিসেবে কর্মবিরতি পালন করবে।

 

এদিকে শিক্ষকদের এই সিদ্ধান্তে মনিরা ইসলাম, সানজিদা আক্তার, সাজ্জাদ হোসাইন, সাকিবুল হাসানসহ বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন-‘আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের নিত্য নৈমিত্তিক সমস্যার মধ্যে বাস চলাচল বন্ধ করে দেয়ার ঘটনা সব থেকে কষ্টদায়ক। প্রায়ই আমাদেরকে লাইন বাস বা ট্রাকে চড়ে ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করতে হয়। বাস বন্ধের ঘটনা রুখতে শিক্ষকরা যে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা তার সাথে সম্পূর্ণ একমত। বাস বন্ধ ঠেকাতে পারলে আমাদের ক্যাম্পাস অনেক এগিয়ে যেতো।’

 

শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক প্রফেসর ড. অলীউল্ল্যাহ বলেন-‘শিক্ষক সমিতি শিক্ষকদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট দরকষাকষি কর্তৃপক্ষ হলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের বৃহত্তর স্বার্থে কাজ করতে বদ্ধ পরিকর। দলমত নির্বিশেষে সকল শিক্ষক বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রী ও অন্যান্যদের মঙ্গল কামনা করেন। ছাত্র-ছাত্রীদের স্বার্থ রক্ষা ও বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার সুষ্ঠ পরিবেশ নিশ্চিত করতে শিক্ষকরা প্রতিজ্ঞ।’

 

 

পছন্দের আরো পোস্ট