ঢাবির কুয়েত মৈত্রী হলে বৃত্তি ও স্বর্ণপদক প্রদান

????????????????????????????????????
শনিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলাদেশ কুয়েত মৈত্রী হলের ‘বার্ষিক সাহিত্য-সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ এবং মৈত্রী ফাউন্ডেশন কর্তৃক স্বর্ণপদক ও বৃত্তিপ্রদান’ অনুষ্ঠান হলের অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. সহিদ আকতার হুসাইন প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে মেধাবী ছাত্রীদের মাঝে স্বর্ণপদক ও বৃত্তি প্রদান করেন। একইসঙ্গে হলের সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ করেন প্রো-উপাচার্য।

 

বাংলাদেশ কুয়েত মৈত্রী হলের প্রাধ্যক্ষা অধ্যাপক ড. মুবিনা খোন্দকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. কামাল উদ্দীন বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে “বিজ্ঞান ও নারী” শীর্ষক মৈত্রী ফাউন্ডেশন বক্তৃতা প্রদান করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণরসায়ন ও অণুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. হাসিনা খান।

 

অধ্যাপক ড. হাসিনা খান তাঁর বক্তৃতায় বেশি সংখ্যক নারীকে বিজ্ঞানে অন্তর্ভুক্ত করা প্রসঙ্গে আলোচনা করেন। তিনি বলেন, বর্তমান সময়ের চাহিদা পূরণের জন্য সমাজের সবার, বিশেষ করে নারীর অংশগ্রহণ একান্তভাবে প্রয়োজন। জলবায়ু পরিবর্তন, অর্থনৈতিক মন্দা প্রভৃতি সমস্যার সমাধান ও নিয়ন্ত্রণে নারী-পুরুষ সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টার প্রয়োজন। সেক্ষেত্রে নারীকে ন্যায্য এবং সমান সুযোগ দেয়াতেই সকলের জন্য মঙ্গল।

 

বিজ্ঞানে নারীদের স্বল্প অংশগ্রহণের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিজ্ঞানে নারীর স্বল্প অংশগ্রহণের জন্য আমাদের সামাজিক এবং প্রাতিষ্ঠানিক দৃষ্টিভঙ্গিই দায়ী। অর্থনৈতিক এবং সামাজিক উন্নয়নে নারীশিক্ষার উপকারিতা জানা সত্ত্বেও দরিদ্র দেশগুলোতে ছেলেদের তুলনায় মেয়েরা বিজ্ঞান শিক্ষা অর্জনের সুযোগ কম পায়। তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রম-ঘর সামলানো থেকে শুরু করে গার্মেন্টস, প্রশাসন ও পেশাদারি চাকরি প্রভৃতিতে নারীরা যেমন নেতৃস্থানীয় ভূমিকা রেখেছে তেমনি বিজ্ঞানেও তাদের অগ্রনী ভূমিকা পালন করতে হবে।

 

প্রধান অতিথির বক্তব্যের শুরুতেই প্রো-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. সহিদ আকতার হুসাইন স্বর্ণপদক ও বৃত্তিপ্রাপ্ত ছাত্রীদের আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা এবং ফাউন্ডেশন বক্তাকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, বিজ্ঞানে নারীরা এখন অনেক এগিয়ে রয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রীরা প্রতিবছর মেধার স্বাক্ষর রেখে চলেছে। শুধুমাত্র বিজ্ঞানেই নয় খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক বিভিন্ন কর্মকান্ডেসহ সর্বক্ষেত্রে নারীরা এগিয়ে রয়েছে। ভবিষ্যতেও তারা আরও এগিয়ে যাবে। আর নারীরা যদি এগিয়ে যায় তবেই দেশে শান্তি বিরাজ করবে, পৃথিবী এগিয়ে যাবে।

 

পরে প্রো-উপাচার্য (প্রশাসন) বাংলাদেশ কুয়েত মৈত্রী হলের মেধাবী ছাত্রীদের মাঝে স্বর্ণপদক ও বৃত্তি প্রদান করেন। ২০১৬ শিক্ষাবর্ষে হলের স্বর্ণপদক পেয়েছেন – মাহমুদা আক্তার পলি (শেষ বর্ষ, ইতিহাস বিভাগ)। মেধাবৃত্তি লাভ করেছেন – মোসা: আমিনা খাতুন (শেষ বর্ষ, সমাজবিজ্ঞান বিভাগ), মেহজাবিন ইসলাম (শেষ বর্ষ, ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগ), প্রীতি কনা শিকদার (শেষ বর্ষ, আইন বিভাগ), নাহিদা সুলতানা প্রীতি (শেষ বর্ষ, ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগ), সিনথিয়া হোসেন (শেষ বর্ষ, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ), আজরিন আফরিন শেষ বর্ষ, ইতিহাস বিভাগ) ও জাকিয়া রহমান (শেষ বর্ষ, মার্কেটিং বিভাগ)। সাধারণ বৃত্তি পেয়েছেন- আফরিন সুলতানা (২য় বর্ষ, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ), উম্মে হানিয়া (৩য় বর্ষ, একাউন্টিং এন্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগ), রুমানা আফরোজ রিমি (৩য় বর্ষ, ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগ), নাছিমা খাতুন (১ম বর্ষ, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ) ও সোহানা আক্তার (১ম বর্ষ, ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস বিভাগ) এবং এককালীন বই সাহায্য বৃত্তি পেয়েছেন মোসা: মূর্শিদা খাতুন (১ম বর্ষ, স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউট), সাবিনা (১ম বর্ষ, উর্দু বিভাগ), ছামছুন্নাহার সুমি (১ম বর্ষ, ইতিহাস বিভাগ) ও মোসা: মাফরুহা বিথী (১ম বর্ষ, ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগ)।

 

এছাড়া, বাংলাদেশ কুয়েত মৈত্রী হলের বার্ষিক সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন জান্নাত-ই-ফেরদৌস ও রানার্স আপ হয়েছেন পায়েল ব্যানার্জী এবং সাহিত্য প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন শ্যামা দাশ ও রানার্স আপ হয়েছেন নাঈমা নওরীন।##

 

লেখাপড়া২৪.কম/এমএইচ

পছন্দের আরো পোস্ট