`নিজ ভাষায় পড়ার সুযোগ পায় না ৪০ ভাগ মানুষ’

unescoবিশ্বের প্রায় ৪০ শতাংশ মানুষ নিজের ভাষায় পড়াশোনা করার সুযোগ পায় না। জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি–বিষয়ক সংস্থা ইউনেসকো শুক্রবার এক বৈশ্বিক প্রতিবেদনে এ কথা জানিয়েছে। শিশুরা বুঝতে পারে—এমন ভাষায়ই তাদের পড়তে দেওয়া উচিত বলে প্রতিবেদনটিতে বলা হয়।

 

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে প্রকাশিত গ্লোবাল এডুকেশন মনিটরিং (জিইএম) রিপোর্টটিতে লেখা হয়েছে: ‘যদি বুঝতেই না পারেন, শিখবেন কীভাবে?’ এতে যুক্তি দেখানো হয়, নিজ ভাষার পরিবর্তে অন্য ভাষায় পড়ানো হলে শিশুদের শিক্ষায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ে, বিশেষত দারিদ্র্যপীড়িত শিশুরা এর শিকার হয়।

 

ইউনেসকোর মহাপরিচালক ইরিনা বোকোভা শিশুদের নিজ ভাষায় পড়তে দেওয়ার মৌলিক নীতির ওপর গুরুত্ব দিয়ে বলেন, বৈশ্বিক শিক্ষার নতুন লক্ষ্য: সবার জন্য গুণগত মান, সমতা এবং জীবনব্যাপী শেখার সুযোগ নিশ্চিত করার জন্য মাতৃভাষায় পাঠদান এবং শেখার বিষয়ে উৎসাহ দেওয়া এবং ভাষাবৈচিত্র্য রক্ষা করা অপরিহার্য। সব ভাষার অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষার নীতি বাস্তবায়ন হলে শেখার উচ্চহার অর্জনের পাশাপাশি সহনশীলতা, সামাজিক সংযোগ এবং শান্তিও বজায় থাকবে।

 

একাধিক ভাষায় পড়ানোর ব্যবস্থা চালু হওয়ার পর কয়েকটি দেশে শিক্ষার পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। গুয়াতেমালায় ছাত্রছাত্রীরা বিদ্যালয়ে দুই ভাষায় পড়তে পারে। সেখানে তাদের একই শ্রেণিতে একাধিকবার পড়া এবং ঝরে পড়ার হার কমেছে। আবার তারা সব বিষয়েই ভালো নম্বর তুলতে পারছে। ইথিওপিয়ায় দুই ভাষায় পড়ার সুযোগ পেয়ে ছাত্রছাত্রীরা গত আট বছরে উন্নতি করেছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, বহু নৃগোষ্ঠীর দেশ তুরস্ক, নেপাল, পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও গুয়াতেমালার মতো দেশগুলোতে বিদ্যালয় পর্যায়ে প্রভাবশালী একটি ভাষা চাপিয়ে দেওয়ার ফলে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অসমতার মতো বৃহত্তর বিষয়ে জনমনে ক্ষোভ রয়েছে।#

 

লেখাপড়া২৪.কম/আরএইচ

 

পছন্দের আরো পোস্ট