ফিরে দেখা বাকৃবির ৬ সমাবর্তন

বাকৃবি / BAUসমাবর্তন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের কাছে একটি অতি আকাঙ্খিত মুহূর্ত। এর মাধ্যমে শিক্ষাগত যোগ্যতার মূল সনদ হাতে পান শিক্ষার্থীরা। প্রতিটি শিক্ষার্থীর স্বপ্ন থাকে সমাবর্তনের মাধ্যমে জীবনের পরম অর্জন সার্টিফিকেটটি গ্রহণ করার। কিন্তু অনেকাংশে তা আর সম্ভব হয়ে ওঠে না। নানা সমস্যার কারণে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে নিয়মিত সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয় না। মান সম্মত উচ্চতর কৃষি শিক্ষা ব্যবস্থার নিশ্চয়তা বিধানের লক্ষে ১৯৬১ সালে যাত্রা শুরু করেছিল দক্ষিন-পূর্ব এশিয়ার কৃষি শিক্ষার সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি)।

 

বিভিন্ন প্রতিকূলতা ও সমস্যার জন্য বাকৃবিতে নিয়মিত কোনো সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়নি। দীর্ঘ প্রতীক্ষা আর জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃতি কৃষিবিদগণদের জ্ঞান, দক্ষতা ও মেধার বাস্তবসম্মত ও সৃজনশীল কর্মকান্ডকে অব্যাহত রেখে দেশের জন্য কৃষি উন্নয়নে শক্তিশালী বুনিয়াদ নির্মাণে সফলকাম হওয়ার প্রার্থনা করে আগামী ২৩ ফেব্রুয়ারি বাকৃবিতে ৭ম সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে দীর্ঘ ৫৪ বছরে মাত্র ৬ বার সমাবর্তন হয়েছে।

 

 

প্রথম সমাবর্তন:
বিশ্বদ্যিালয় প্রতিষ্ঠার পর ১৯৬৮ সনের ২৮ মার্চ তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের গর্ভনর ও বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর আবদুল মোনায়েম খানের নেতৃত্বে প্রথম সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়।

 

দ্বিতীয় সমাবর্তন:
স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ অভ্যুদয়ের পর ১৯৭২ সনের ৩১ ডিসেম্বর দ্বিতীয় সমাবর্তনে চ্যান্সেলর ও রাষ্ট্রপতি আবু সাঈদ চৌধুরীর হাত থেকে কৃষি গ্রাজুয়েটগণ সনদপত্র গ্রহণ করেন।

 

তৃতীয় সমাবর্তন:
১৯৯৪ সনের ৫ জুন ছিল বাকৃবির জন্য একটি ঐতিহাসিক ঘটনা। কারণ এদিনই বাকৃবিতে প্রথম তদানীন্তন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া বিশ্বদ্যিালয়ের তৃতীয় সমাবর্তনে চ্যান্সেলর হিসেবে কৃষি গ্রাজুয়েটদের মধ্যে সনদপত্র বিতরণ করেন। ওই সমাবর্তনে মোট ১৫১৫ জন শিক্ষার্থীকে সনদপত্র এবং ১৯ জনকে স্বর্ণপদক প্রদান করা হয়।

 

চতুর্থ সমাবর্তন:
১৯৯৭ সনের ২০ ডিসেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর শেখ হাসিনা এতে সভাপতিত্ব করেন। ওই সমাবর্তনে মোট ৬৫৫ জন শিক্ষার্থীকে সনদপত্র এবং ২১ জনকে স্বর্ণপদক প্রদান করা হয়।

 

পঞ্চম সমাবর্তন:
২০০৩ সনের ৫ ফ্রেবুয়ারি অনুষ্ঠিত পঞ্চম সমাবর্তনে চ্যান্সেলর হিসেবে গ্রাজুয়েটদের মাঝে সনদপত্র বিতরণ করেন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক ড. ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ। ওই সমাবর্তনে মোট ৬১৯ জন শিক্ষার্থীকে সনদপত্র প্রদান করা হয়।

 

বিশেষ সমাবর্তন
১৯৯৮ সনের ১৮ এপিল প্রথম বিশেষ সমাবর্তনের মাধ্যমে সবুজ বিপ্লবের জনক ‘নোবেল লরিয়েট ড. আর্নেস্ট বোরলগ’ কে সম্মানসূচক ডক্টর অব সায়েন্স ডিগ্রি প্রদান করেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

 

ষষ্ঠ সমাবর্তন:
সর্বশেষ ২০১১ সনের ৮ মার্চ অনুষ্ঠিত ষষ্ঠ সমাবর্তনে চ্যান্সেলর হিসেবে গ্রাজুয়েটদের মাঝে সনদপত্র বিতরণ করেন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি মো. জিল্লুর রহমান। ওই সমাবর্তনে স্নাতক ডিগ্রিপ্রাপ্ত ৫৯৯২ জন, মাস্টার্স ডিগ্রিপ্রাপ্ত ৬৪৩৮ জন এবং পিএইচডি ডিগ্রিপ্রাপ্ত ১০৩ জন শিক্ষার্থীকে সনদপত্র প্রদান করা হয়।#

 

 

লেখাপড়া২৪.কম/আরএইচ

পছন্দের আরো পোস্ট