রাবিতে শহীদ ড. শামসুজ্জোহা স্মারক বক্তৃতা

????????????????????????????????????

ব্রিটিশদের রেখে যাওয়া জঞ্জাল, পাকিস্তানের রেখে যাওয়া জঞ্জাল, সামরিক শাসকদের রেখে যাওয়া জঞ্জাল আগলে রেখে বাংলাদেশে গণতন্ত্র নিরাপদ হবে না, সামনেও এগুবে না। এ জঞ্জাল দুর্গন্ধ জড়াবে-বিষবাস্প ছড়াতেই থাকবে। তাই দেশের গণতন্ত্রকে নিরাপদ করতে এবং এ সকল জঞ্জাল পরিস্কারের কোনো বিকল্প নেই। এইজন্য প্রয়োজন জাতীয় ঐক্য।

 

বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয় ‘শহীদ ড. শামসুজ্জোহা স্মারক বক্তৃতা’ অনুষ্ঠানে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রী হাসানুল হক ইনু এমপি এসব কথা বলেন।

 

তিনি ‘বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে জঞ্জালমুক্ত করতে হবে’ শীর্ষক প্রবন্ধে বলেন, মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর পরাজয় ও অধিকৃত বাংরাদেশ মুক্ত হবার এক বছরের মধ্যে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে বাংলাদেশের জনগণ পেয়েছিলো পৃথিবীর অন্যতম শেষ্ঠ গণতান্ত্রিক সংবিধান। কিন্তু সংবিদান অনুয়ায়ী দেশ পরিচালনা করার জন্য যে রাজনৈতিক রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার প্রয়োজন ছিলো তা দুর্ভাগ্যক্রমে হয়নি। এটা না হওয়ার কারণে ইতিহান জঞ্জাল আর ঐতিহাসিক কিছু দুর্বলতা-প্রতিবন্ধকতাকে বুকের উপর নিয়েই স্বাধীন বাংলাদেশ যাত্রা শুরু করে।

 

তিনি তার প্রবন্ধে বলেন, বাংলাদেশে ‘গণতন্ত্র’ বিষয়ে সকল পর্যায়ে প্রায় প্রতি মুহুর্তেই আলোচনা, তর্ক, গবেষণা, বিচার-বিশ্লেষণ হচ্ছে। কারণ বাঙালির ভাষার সংগ্রাম, স্বাধীকারের সংগ্রাম, স্বাধীনতার সংগ্রাম মূলত গণতান্ত্রিক সংগ্রাম। স্বাধীন বাংলাদেশ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠাও গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রামেরই পরিণতি। স্বাধীন বাংলাদেশেও নির্বাচিত সরকারের স্বৈরাচারী প্রবণতা কিংবা সামরিক স্বৈরতন্ত্রের বিরুদ্ধেও গণতন্ত্রের জন্য জাতি বার বার সংগ্রাম করেছে। তাই বাংলাদেশে গণতন্ত্র নিয়ে আলোচনা হবেই।

 

তথ্য মন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেন, মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তির অনাকাঙ্খিত বিভাজন, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থেকে রাজনৈতিক বৈরিতা, রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলার মধ্যে অনুষ্ঠিত ১৯৭৩ সালের জাতীয় নির্বাচন দেশকে একটি সংসদ উপহার দিলেও গণতন্ত্রের পথ চলাকে শক্তি ভিত্তি দিতে পারেনি। জরুরী অবস্থা জারি, বাকশাল ব্যবস্থা প্রবর্তন, সশস্ত্র বিপ্লবের পন্থা গ্রহণ কতটা সময়োপযোগী ছিল, কতটা সঠিক ছিল সেটা নিয়েও তর্ক করা যায়। সেটার বিচারের ভারও ইতিহাসের উপর ছেড়ে দেয়া যায় বলে মন্তব্য করেন তিনি।

 

বাংলাদেশকে তাই আরেক ধাপে উঠতে হলে জঙ্গী দমনের যুদ্ধ, নিজের শক্তি উন্নয়নের যুদ্ধ এবং বৈষম্য অবসান, সুশাসনের যুদ্ধ- এই যুদ্ধ চালাতে হবে, বিজয়ী হতে হবে। আর সে বিজয়ের প্রধান রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত হচ্ছে ‘গণতন্ত্রে জঞ্জাল থাকবে না’। জঞ্জাল বাদ দিতেই হবে। তবেই কেবল বাংলাদেশ শান্তির মুখ দেখবে, সমৃদ্ধির স্বাদ গ্রহণ করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তথ্য মন্ত্রী হাসানুল হক ইনু ।

 

রসায়ন বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক মো. নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে এ অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন রাবি উপাচার্য অধ্যাপক মুহম্মদ মিজানউদ্দিন। সেখানে আরো বক্তব্য রাখেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক চৌধুরী সারওয়ার জাহান ও কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক সায়েন উদ্দিন আহমেদ। অনুষ্ঠানে শহীদ ড. জোহার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে এক মিনিট নীরবতা পালন ও তার রুহের মাগফিরাত কামনা করে মোনাজাত করা হয়। রসায়ন বিভাগের শিক্ষক ড. বিলকিস জাহান লুম্বিনীর উপস্থাপনায় অনুষ্ঠানে শহীদ ড. জোহার জীবনালেখ্যও পাঠ করা হয়।

 

এর আগে শিক্ষক দিবসের অন্যান্য কর্মসূচির অংশ হিসেবে সকাল ৬.৪৫ টায় উপাচার্য, উপ-উপাচার্য, কোষাধ্যক্ষ ও রেজিস্ট্রারসহ প্রশাসনের ঊর্ধতন কর্মকর্তাগণ শহীদ ড. জোহার সমাধি ও জোহা স্মৃতিফলকে পুস্পস্তবক অর্পণ ও এক মিনিট নীরবতা পালন করেন। এরপর রসায়ন বিভাগ ও শহীদ শামসুজ্জোহা হলসহ অন্যান্য আবাসিক হল, বিভিন্ন বিভাগ, পেশাজীবী সমিতি ও ইউনিয়ন, এ্যালামনাই এসোসিয়েশন ইত্যাদি প্রভাত ফেরীসহ শহীদ জোহার সমাধি ও স্মৃতিফলকে পুস্পস্তবক অর্পণ করেন। দিবসের কর্মসূচিতে আজ ভোরে প্রশাসন ভবনসহ অন্যান্য ভবনে কালো পতাকা উত্তোলন করা হয়।

 

এছাড়া বাদ জোহর কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে কোরআন খানি ও বিশেষ মোনাজাত, শহীদ শামসুজ্জোহা হলে আলোচনা সভা ও প্রদীপ প্রজ্বালনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এ দিন শহীদ স্মৃতি সংগ্রহশালা সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত দর্শকদের জন্য খোলা রাখা হয়েছে।

 

 

পছন্দের আরো পোস্ট