স্কুল শিক্ষিকার মেয়ের সাথে প্রেমের পরিনতি

image26-580x395স্কুলের হিন্দি শিক্ষিকার মেয়ের সঙ্গে বন্ধুত্ব ছিল সপ্তম শ্রেণির বিনয় কুমার মাহতোর। মেয়েটি ছিল তারই সহপাঠী। এতে আপত্তি ছিল শিক্ষিকা ও তার পরিবারের। তার জেরেই ছক কষে খুন করা হয় বিনয়কে। পুলিশের দাবি, প্রচণ্ড মারধরের পর অজ্ঞান বিনয়কে শিক্ষক আবাসনের ছাদ থেকে নিচে ফেলে দেওয়া হয়েছিল।

 

মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে ভারতের রাঁচিতে। রাঁচির এসএসপি কুলদীপ দ্বিবেদী জানিয়েছেন, বিনয়কে খুনের অভিযোগে ওই স্কুলের হিন্দি শিক্ষিকা নাজিয়া হুসেন, তার স্বামী আরিফ আনসারি, তাদের ছেলে ও মেয়েকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আরিফ রাঁচির একটি নামী বেসরকারি স্কুলের অঙ্কের শিক্ষক। নাজিয়ার ছেলে একাদশ শ্রেণির ছাত্র।

 

পুলিশকর্তা জানান, বিনয়ের সঙ্গে তার মেয়ের বন্ধুত্ব পছন্দ করতেন না নাজিয়া। বারবার তাদের নিষেধ করলেও লাভ হয়নি। শুক্রবার রাতে বিনয়কে নৈশাহারের কথা বলে নিজের আবাসনে ডেকে পাঠায় নাজিয়া। বিনয় সেখানে যেতেই বোনের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে তাকে জেরা শুরু করে নাজিয়ার ছেলে। সেখানে ছিল নাজিয়া ও তার মেয়ে। তদন্তকারীদের বক্তব্য, এর পর দু’জন মিলে বিনয়কে বেধড়ক মারধর করতে শুরু করে। যন্ত্রণায় জ্ঞান হারায় বিনয়। তখন ওই আবাসনের দোতলার ছাদ থেকে তাকে ঠেলে নিচে ফেলে দেওয়া হয়। ঘরে ছড়িয়ে থাকা রক্তের দাগ ধুয়ে ফেলে তারা। পুলিশের বক্তব্য, আরিফ ঘটনাস্থলে না থাকলেও, এই ষড়যন্ত্রে সে-ও জড়িত। ওই সময় সেখানে হাজির ছিল তাদের মেয়েও। সে জন্যই চার জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

 

পুলিশ জানিয়েছে, বিনয়ের ছাত্রাবাসের একটি সিসিটিভি ক্যামেরায় দেখা গেছে, সেই রাতে সে ঘর থেকে বেরিয়ে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের আবাসনের দিকে যাচ্ছে। কিন্তু ঠিক কোথায় গিয়েছিল, তা ক্যামেরায় ধরা পড়েনি। পুলিশ কয়েকজন শিক্ষককে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে। ঘটনাস্থলে যান ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞরা। নিয়ে আসা হয় স্নিফার কুকুর। শিক্ষক আবাসনের বিভিন্ন জায়গা ঘুরে দেখেন তদন্তকারীরা। পরে নাজিয়ার ঘরে রক্তের হালকা দাগ দেখতে পান ফরেন্সিক দলের সদস্যরা। জল দিয়ে ধুয়ে ফেলা হলেও, দেওয়ালের ওই দাগ বিশেষজ্ঞদের নজর এড়ায়নি।

 

সেই রক্তের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। তা মিলে যায় বিনয়ের রক্তের সঙ্গে। এসএসপি জানান, শিক্ষক আবাসনের ক্যামেরায় বিনয়কে মারধর বা ছাদ থেকে ফেলে দেওয়ার ছবি না উঠলেও, কিছু শব্দ ধরা পড়ে। গ্রিলের দরজা খোলা, ফিসফিসিয়ে কথা বলা, পা টিপে চলার কম্পন, কিছু পরিষ্কার করার আওয়াজ ও দোতলা থেকে ভারী জিনিস ফেলে দেওয়ার আওয়াজ ফুটেজে রয়েছে। কুলদীপ বলেন, ”অভিযুক্তের ঘরের দেওয়ালে রক্তের নমুনা, সিসিটিভির অডিও ক্লিপ থেকে পরপর ঘটনাক্রম সাজাতেই সব কিছু পরিষ্কার হয়ে যায়। নাজিয়া ও তার স্বামী পরে পুলিশের জেরার মুখে ভেঙে পড়ে।”

 

উল্লেখ্য, গত শনিবার ভোরে ওই স্কুল চত্বরে পাওয়া গিয়েছিল বিনয়ের ক্ষতবিক্ষত দেহ। তার বাবা মনবহাল মাহতো ছেলেকে খুনের অভিযোগ দায়ের করেন। অভিভাবকদের বিক্ষোভে স্কুলের শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়।

 

 

সূত্র: আনন্দবাজার

পছন্দের আরো পোস্ট