ব্রিটেন ও বাংলাদেশের চিকিৎসার অভিজ্ঞতা বিনিময়

DSC07592সাতক্ষীরায় ব্রিটেনের চিকিৎসা ও বাংলাদেশের চিকিৎসার অভিজ্ঞতা বিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার রাতে সাতক্ষীরা সার্কিট হাউজে এ অভিজ্ঞতা বিনিময় সভায় গর্ভধারিনী মায়ের সিজারিয়ান হার কমিয়ে আনার ব্যাপারেও পরামর্শ ও বিনা খরচে নিরাপদ প্রসব ও মাতৃস্বাস্থ্য সেবা দিতে ব্রিটেনের চার সদস্যের একটি চিকিৎসক প্রতিনিধি দল ব্রিটেনের চিকিৎসা ও বাংলাদেশের চিকিৎসার অভিজ্ঞতা বিনিময় করেন।

 

এসময় উপস্থিত ছিলেন চিকিৎসক দলটির নেতা ড. রেহানা ইয়াসমিন জামান, প্রধান মিড ওয়াইফ নিকোলি স্টিভেনসন (Nicole Stevenson), টেরি ফলার (Terri Fowler) এবং সার্লট গিয়ারিং (Charollte Gearing) ও কারুনিটা ইনভেস্টমেন্ট এডভাইসার্সের ডিরেক্টর মো.কামরুজ্জামান রাসেল, সাতক্ষীরার বিশিষ্ট চিকিৎসক সাবেক প্রতিমন্ত্রী ডা. আফতাবুজ্জামান, ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের কনসালটেন্ট মোহাম্মাদ নজরুল ইসলাম, ডাঃ মনোয়ার, এনটিভির জেলা প্রতিনিধি সুভাষ চৌধুরী, বাংলা ভিশনের জেলা প্রতিনিধি আসাদুজ্জামান, দৈনিক কাফেলার স্টাফ রিপোর্টার আব্দুর রহমান, সময়ের খবরের জেলা প্রতিনিধি রুহুল কুদ্দুস, দৈনিক কালের চিত্রের নাজমুল হক, রাহাত রাজা প্রমুখ।

 

ড. রেহানা ইয়াসমিন জামান জানান, সম্পূর্ন ব্যক্তিগত উদ্যোগে বিনা খরচে চিকিৎসা সেবা দেওয়ার লক্ষ্যে তার দল সাতক্ষীরায় এসেছে। এবারই শেষ নয়, পরে আরও কর্মসূচি দিয়ে তারা বাংলাদেশে মাতৃত্বজনিত সেবা দিতে চান বলে উল্লেখ করেন তিনি। তিনি বলেন ব্রিটেনে কোন হাসপাতালে শতকরা ২৫ শতাংশের বেশী গর্ভধারিনীর সিজারিয়ান অপারেশন করার নিয়ম নেই। এর ব্যতিক্রম হলে ডাক্তারদের কারন দর্শানোর নোটিশের জবাব দিতে হয়।

 

বাংলাদেশে গর্ভধারিনীর সিজারিয়ানের সংখ্যা শতকরা ৭৫ ভাগের কম নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন ব্রিটেনে গ্রামে ও শহরের সব মায়েরাই একই মানের সেবা লাভ করে থাকেন। তিনি জানান প্রসবকালীন চিকিৎসার জন্য প্রাথমিকভাবেই অভিজ্ঞ মিড ওয়াইফরাই রোগীর ধরন নির্ধারন করেন। পরে তিনিই সিদ্ধান্ত দেন এ রোগীর ক্ষেত্রে নি¤œ নাকি উচ্চ মাত্রার ঝুঁকি রয়েছে। সে অনুযায়ী মিড ওয়াইফরাই ব্যবস্থা গ্রহন করেন উল্লেখ করে ড. ইয়াসমিন জামান আরও বলেন, মাতৃ ও শিশুমৃত্যু রোধে আরও কি কি ব্যবস্থা নেওয়া যাবে সে ব্যাপারেও তারা পরামর্শ দিতে চান। নিরাপদ ডেলিভারি নিশ্চিত করার জন্য আরও কি কি ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন সে বিষয়ের ওপরেও আলোকপাত করেন তিনি। তিনি বলেন বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে এ ধরনের চিকিৎসা সেবা দেওয়ার জন্য তারা ব্যক্তিগত উদ্যোগে একটি তহবিল গঠন করার চেষ্টা করছেন। এই তহবিলের ওপর ভিত্তি করেই বিনা খরচে এ ধরনের চিকিৎসা সেবা ধারাবাহিকভাবে চালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন তিনি।#

 

 

লেখাপড়া২৪.কম/আরএইচ

পছন্দের আরো পোস্ট