জিকা ভাইরাস প্রতিরোধে সর্তক থাকুন

Abdur Rahmanল্যাটিন আমেরিকার দেশগুলোতে জিকা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়তে শুরু করেছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা হুশিয়ারি দিয়ে বলেছে, মশাবাহিত এই ভাইরাসে বিশ্বব্যাপী প্রায় ৪০ লাখ মানুষ আক্রান্ত হতে পারে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ইতিমধ্যে এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়া রোধে বিভিন্ন ব্যবস্থা নিয়েছে। বাংলাদেশে এখনো এ ভাইরাসের কোনো সংক্রমণ দেখা না গেলেও ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর তালিকায় এর অবস্থান রয়েছে।সবচেয়ে আশঙ্কার বিষয় হচ্ছে জিকা ভাইরাসে আক্রান্ত হলে তার কোনো চিকিৎসাও নেই আর এর কোনো প্রতিষেধকও নেই। ফলে বিশ্বজুড়ে এক আতঙ্কের নামে পরিণত হয়েছে জিকা ভাইরাস।

 

গবেষকেরা জানিয়েছেন, এই রোগের প্রতিষেধক তৈরি করে মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে দশ বছরেরও বেশি সময় লাগতে পারে। অপরদিকে যুক্তরাষ্ট্র দাবি করছে এ বছরের শেষ নাগাদ তারা মানুষের ওপর পরীক্ষা চালানোর জন্য একটি প্রতিষেধক প্রস্তুত করতে পারবে।

 

জিকা ভাইরাস:
১৯৪৭ সালে আফ্রিকার উগান্ডায় বানরের শরীরে জিকা ভাইরাস প্রথম সনাক্ত করা হয়। এডিস মশার কামড় থেকে জিকা ভাইরাস ছড়ায়। গর্ভবতী নারী জিকা ভাইরাসে আক্রান্ত হলে তার সন্তানের মধ্যে জিকা ভাইরাস সংক্রমিত হয়। জিকা ভাইরাসের কোনো প্রতিষেধক নেই। এখন পর্যন্ত ২০টি দেশে জিকার প্রকোপ দেখা গেছে। জিকা আক্রান্ত প্রতি ৫ জনের একজনের দেহে জ্বর, ত্বকের প্রদাহ, মাংসপেশী ও জোড়ায় ব্যথা, মাথা ব্যথা এবং চোখ লাল হতে দেখা যায়।

 

জিকামুক্ত থাকতে করণীয়:
জিকামুক্ত থাকতে যতোটা সম্ভব মশার কামড় এড়াতে হবে। মশারি টাঙিয়ে ঘুমাতে হবে। বিশেষ করে মশা প্রতিরোধী কীটনাশকযুক্ত মশারি ব্যবহার করা গেলে ভালো। আক্রান্ত এলাকায় গর্ভাবস্থায় ভ্রমণ থেকে বিরত থাকতে হবে। যদি একান্তই যেতে হয় তবে আবাসস্থলের দরজা-জানালায় ফাঁক-ফোকর রাখা যাবে না। অনেকটা শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষের মতো পুরো সিল করে দিতে হবে।

 

বেশিদিন পানি জমে থাকে এমন কোনো পাত্র, ফুলের টব, ডাবের খোসা এসব আশেপাশে রাখা যাবে না। হাত ও পায়ের অংশ ভালোভাবে ঢাকে এমন মোটা কাপড় পড়তে হবে। অফ, কাটার, আল্ট্রাথন, স্কিন সো সফট, রিপেল-এর মতো কয়েকটি মশা নিরোধক ক্রিম-লোশন, স্প্রে ব্যবহার করা যেতে পারে।

 

ডিইইটি, পিকারিডিন কিংবা কেবিআর, লেমন ইউক্যালিপ্টাসের তেল সমৃদ্ধ মশক নিরোধক পণ্য ব্যবহার করতে পারেন। শরীরে মশা নিরোধক ব্যবহারের আগে সানস্ক্রিন ক্রিম লাগিয়ে নিন। দুই মাসের কম বয়সী শিশুদের শরীরে মশা নিরোধক ক্রিম-লোশন দেবেন না। তাদেরকে পর্যাপ্ত কাপড় দিয়ে মুড়ে রাখুন এবং তাদের দোলনা মশারি দিয়ে ঢেকে রাখুন।

 

জিকা ভাইরাস নিয়ে বিশ্বব্যাপী আতঙ্ক কাজ করলেও বাংলাদেশে শঙ্কার কিছু নেই বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, জিকা ভাইরাস নিয়ে ভয়ের কিছু নেই। সতর্কতা অবলম্বন করলেই এ ভাইরাস থেকে মুক্ত থাকা সম্ভব।

 

তবে,জিকা ভাইরাস যেহেতু এডিস নামক মশার মাধ্যমে বাহিত হয়। আর আমাদের দেশেও যেহেতু এই মশা রয়েছে, সেহেতু জিকা ভাইরাসের ব্যাপারে অবহেলা প্রদর্শনের সুযোগ নেই। প্রসঙ্গত, এশিয়া মহাদেশের আবহাওয়া এই মশার বংশবিস্তারের জন্য অত্যন্ত অনুকূল। কোনো ভাবে যদি এই ভাইরাস বাংলাদেশে প্রবেশ করে তাহলে জ্যামিতিক হারেই এর বিস্তার ঘটবে। স্মরণে রাখা দরকার, উপযুক্ত চিকিৎসায় ডেঙ্গু রোগে সুস্থ হওয়ার নিশ্চয়তা থাকে, কিন্তু জিকা ভাইরাসে ক্ষতি হয় সুদূরপ্রসারী। তাই জিকা ভাইরাসের ব্যাপারে কোনো ধরনের অবহেলা প্রদর্শন না করে সব ধরনের প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে।

মো.আব্দুর রহমান
শিক্ষার্থী, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহ-২২০২

 

 

লেখাপড়া২৪.কম/আরএইচ

পছন্দের আরো পোস্ট