রাবির আইবিএস হোস্টেলে আধুনিকতার ছোঁয়া

RU IBS hostel photo(5)-1 febরাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ স্টাডিজ (আইবিএস)-এর গবেষক ও অতিথিদের থাকার হোস্টেলে এখন আধুনিকতার ছোঁয়া লাগতে শুরু করেছে। হোস্টোলের অভ্যার্থনা কক্ষ, ডাইনিং কক্ষ, রান্নাঘর থেকে শুরু করে প্রতিটি স্থানেই সংস্কার করা হয়েছে। সংযোজন করা হয়েছে আধুনিক আসবাবপত্র। ১৯৮২ সালের পর হোস্টেলের ওয়ার্ডেনে কক্ষে এবারই প্রথম বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি লাগানো হয়েছে।

 

আইবিএসের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. কামরুজ্জামান ওই হোস্টেলের ওয়ার্ডেন হিসেবে প্রথম বারের মতো দায়িত্ব নিয়ে নানা প্রকার উন্নয়ন করেছেন। গত তিনমাস ধরে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার চলছে ওই গবেষণা প্রতিষ্ঠানটিতে।
আইবিএসের হোস্টেলের কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের পূর্বপাড়ায় বিনোদপুর গেটের পার্শে¦ অবস্থিত আইবিএস নামের ওই গবেষণা প্রতিষ্ঠানটি। ১৯৭৪ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের একান্ত আগ্রহে ওই প্রতিষ্ঠানটি গড়ে ওঠে। এরপর ধীরে ধীরে গবেষণা প্রতিষ্ঠানটির পাশেই বিশাল এলাকা জুরে তৈরী করা হয় একটি হোস্টেল। ১৯৮৩ সালের ২৪ জানুয়ারি মো. ফররুখ হোসেন প্রথম আইবিএস হোস্টেলের ওয়ার্ডেন হিসেবে দায়িত্ব শুরু করেন। ওই হোস্টেলের দুটি পৃথক ভবনে ফ্যামিলি স্যূট রয়েছে ২৪টি। এছাড়াও অবিবাহিত গবেষকদের জন্য ৩৬টি ও অতিথিদের থাকার জন্য ১০টি সিট রয়েছে। মেধাতালিকা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে আইবিএসের এমফিল ও পিএইচডি গবেষকরা সেখানে সিট বরাদ্দ পেয়ে থাকেন।

 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আইবিএসের ওই হোস্টেলকে কেন্দ্র করে সেখানে তৈরী করা হয়েছিল একটি পুকুরপাড় ও বিশাল খোলা জায়গা। কিন্তু সময়ের আবর্তে তা দখল করেছে আগাছা। পুকুরের পানিও শুকিয়ে গেছে। হোস্টেলের পেছনে ঝাউ-জঙ্গলে ভরে ছিল তিন মাস আগেও। সাপের ভয়ে গবেষকরা হোস্টেলে টাঙ্গিয়ে রাখতেন কার্বোলিক এসিড। পুরো হোস্টেলের সামনে এবং পেছনে জঙ্গলে ভরে থাকতো। সন্ধ্যার পর অন্ধকারে ডুবে থাকতো হোস্টেলের চারিপাশ। ডাইনিংয়ের রান্না কক্ষে ছিল না ভালো চুলা। তবে গত তিন মাসে নানা উদ্যোগ নিয়ে ওই হোস্টেলের ওয়ার্ডেন মো. কামরুজ্জামান বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ করছেন। এতে করে সেখানে এখন লাগতে শুরু করেছে আধুনিকতার ছোঁয়া।

 

হোস্টেলের দায়িত্বে থাকা দুইজন কর্মচারীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ২০১৪ সালের ১ অক্টোবর বর্তমান ওয়ার্ডেন দায়িত্ব নিয়ে হোস্টেলের বেশ কিছু উন্নয়নমূলক কাজ করেছেন। অন্ধকারে ডুবে থাকা হোস্টেলের চারিপাশে অন্তত শতাধিক বৈদ্যুতিক (এলার্জি) বাল্প লাগানো, হোস্টেলের পুকুরপাড়সহ পুরো এলাকার ঝোঁপ-ঝাড় পরিস্কার, হোস্টেলের সামনে ও ভেতরে কয়েকটি নতুন ফুল বাগান তৈরী, গোটা হোস্টেলের বৈদ্যুতির তার ও সুইচবোর্ড নতুনভাবে লাগানো, রান্নাঘরে নতুন চুলা স্থাপন, ডাইনিং কক্ষ দুটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র স্থাপন, দরজা-জানালা নতুন করে স্থাপন, ২৪ বছর পর হোস্টেলের টিভি কক্ষ ও অভ্যার্থনাসহ কয়েকটি কক্ষের অন্তত ১২সেট সোফার (৩৬জন বসতে পারে) কাভার নতুনকরে লাগানো, ভবনের ভেতরে চুনকাম, হোস্টেলের বিভিন্ন স্থানে নতুন বেসিন ও খাবার পানির ফিল্টার স্থাপন, নামায ঘরের পাশে নতুন ওজুখানা স্থাপন, নতুন কমোড স্থাপন, ডাইনিং কক্ষের নতুন জানালা স্থাপনসহ বিভিন্ন কাজ করা হয়েছে।

 

বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও আইবিএস হোস্টেলের আবাসিক গবেষক মো. মোতাছিম বিল্যাহ বলেন, ‘কিছুদিন আগেও হোস্টেলের পেছনে ঝোঁপ-ঝাড়ের কারণে ভয়ে ওই দিকে কেউ যেতে সাহস পেত না। সাপের ভয়ে বাসায় কার্বোলিক এসিড রাখা লাগতো। কিন্তু এখন সেই আগাছা পরিস্কার করা হয়েছে। রাতের বেলা এখন বৈদ্যুতিক আলো জলে।’

 

হোস্টেলের ওয়ার্ডেন ড. মো. কামরুজ্জামান বলেন, ‘আমি যখন আইবিএসের হোস্টেলে ওয়ার্ডেন হিসেবে দায়িত্ব নেই তখন এখাকার তহবিলে ছিল মাত্র ৮ হাজার ৪২৬টাকা। দায়িত্ব নেওয়ার কিছুদিন পরেই ওয়ার্ডেনের কক্ষে প্রথমবারের মতো বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি লাগানো হয়েছে। সেখানে নতুন অনেক আসবাপত্র সংযোজন হয়েছে। হোস্টেলের অতিথি কক্ষের বাথরুমসহ বিভিন্ন কিছু নতুনকরে সংস্কার করা হয়েছে। পুরো হোস্টেল এলাকায় বৈদ্যুতিক বাতি লাগানোর কারণে পুরো এলাকা আলোতে ভরে থাকে। ওয়াইফাই লাগনোর জন্য প্রায় দেড় লাখ টাকা বরাদ্দ হয়েছে।’

 

তিনি আরও বলেন, ‘গত তিন মাসে হোস্টেলের অনেক কিছু সংস্কার করার কারণে এখন তাতে আধুনিকতার ছোঁয়া লাগতে শুরু করেছে। এসব কাজে পুরোপুরি সহায়তা করেছেন আইবিএসের বর্তমান পরিচালক। তবে কিছু দিনের মধ্যে আরও কিছু উন্নয়নমূলক কাজ করা হবে। বিকেল বেলা যাতে হোস্টেলের পেছনে গবেষকরা বসে আড্ডা দিতে পারেন সে জন্য পুকুরপাড়ে কয়েকটি ব্রেঞ্চ দেওয়া হবে। এছাড়া পুরো ভবনটি চুনকাম করতে পারলে তা দৃষ্টিনন্দন হবে।’

 

সামগ্রিক বিষয়ে আইবিএসের পরিচালক অধ্যাপক স্বরোচিষ সরকার বলেন, ‘তিনি (মো. কামরুজ্জামান) কিছুদিনের মধ্যেই দায়িত্ব নিয়ে কাজগুলো করেছেন। এতে করে আইবিএসের হোস্টেলে সুবিধা অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে আইবিএস ভবনের একটি আধুনিক গেট স্থাপন করতে পারলে এই প্রতিষ্ঠানটি আরও দৃষ্টিনন্দন হবে। আমরা দ্রুতই সেটা করার চেষ্টা করছি।’

 

লেখাপড়া২৪.কম/রাবি/তমাল/এমএএ

পছন্দের আরো পোস্ট