আরও ৬ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় অনুমোদন

JMS_Edu048বর্তমান বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে অধিকাংশের বিরুদ্ধেই নানা অনিয়ম ও বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনার শর্ত ভঙ্গের অভিযোগ আছে। আর এই পরিস্থিতির মধ্যেই আরো ছয় নতুন বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের অনুমোদন দিয়েছে সরকার। এ নিয়ে দেশে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা দাঁড়ালো ৮৯-এ। অনুমোদন পাওয়া বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে ঢাকায় দুটি এবং চট্টগ্রাম, খুলনা, কুষ্টিয়া ও মানিকগঞ্জে একটি করে বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। এ বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় একটি আদেশ জারি করেছে।

 

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (বিশ্ববিদ্যালয়) হেলাল উদ্দিন বাংলামেইলকে জানান, কয়েক দিন আগেই এই ছয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন দেয়া হয়েছে। সব প্রক্রিয়া শেষ করে তিন মাসের মধ্যে এ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করতে হবে।

 

জানা গেছে, ঢাকায় বাড্ডার প্রগতি সরণিতে প্রতিষ্ঠার জন্য অনুমোদন পেয়েছে ‘দি ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব স্কলার’। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোক্তা হিসেবে আছেন অধ্যাপক মোহাম্মদ জামিল হাবিব। ৩৮৭, তেজগাঁও শিল্পাঞ্চলের ঠিকানায় অপর বিশ্ববিদ্যালয়টির নাম ‘কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ’। এর উদ্যোক্তা চৌধুরী নাসির সরাফত।

 

চট্টগ্রামে চট্টগ্রামের চান্দগাঁওয়ে বিশ্ববিদ্যালয় করার জন্য অনুমোদন পেয়েছেন মুহাম্মদ ওসমান। তার বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম ‘ইউনিভার্সিটি অব ক্রিয়েটিভ টেকনোলজি’। খুলনায় অনুমোদন পেয়েছে নর্দান ইউনিভার্সিটি। ঢাকায় অবস্থিত নর্দান ইউনিভার্সিটির শাখা ক্যাম্পাস ছিল খুলনায়। সেটিই এখন বিশ্ববিদ্যালয় হবে। এ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা মো. আনছার আলী।

 

কুষ্টিয়ায় ‘রবীন্দ্র মৈত্রী বিশ্ববিদ্যালয়’ প্রতিষ্ঠার অনুমোদন পেয়েছেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের সাবেক ডিন মোহাম্মদ জহুরুল ইসলাম। বিশ্ববিদ্যালয়টির ট্রাস্ট্রি বোর্ডে রয়েছেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু ও তার স্ত্রী আফরুজা হক রিনা। এছাড়া মানিকগঞ্জে ‘এন পি আই ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ’ নামে একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য অনুমোদন পেয়েছে। যৌথভাবে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোক্তা হিসেবে রয়েছেন ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শামসুর রহমান ও ইসহাক আলী খান পান্না।

 

এদিকে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনিয়ম ও মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্বয়ং শিক্ষামন্ত্রী। তিনি আজেই শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের এক অনুষ্ঠানে গিয়ে বলেন, ‘আজকে আমাদের দেশে ৩৮টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা ৮০টির অধিক। এর মধ্যে অনেক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ধনীরা মুনাফা লাভের উদ্দেশ্যে বিনিয়োগ করছে। দু-একটা ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে সার্টিফিকেট বিক্রি করছে। সেখান থেকে ২০১০ সালে নতুন আইন করে অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয়কে নিজস্ব ক্যাম্পাসে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়েছে। আমরা বাধ্য হয়েছি ১৪-১৫টা বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ করে দিতে। কিন্তু উচ্চ আদালতের রায়ে তারা এখনো টিকে আছে। রায়ের ফয়সালা হয়ে গেলে তারা টিকে থাকতে পারবে না। ওই রকম বিশ্ববিদ্যালয় চাই না, যারা মুনাফা লুঠার জন্য আসবে। শিক্ষায় মুনাফা লুঠার সুযোগ নেই।’ অথচ তার সরকারই সম্প্রতি আরো ছয়টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার অনুমোদন দিয়েছে।

 

লেখাপড়া২৪.কম/এমএএ-০৬১৮

পছন্দের আরো পোস্ট