ঢাবি ইতিহাস বিভাগ অ্যালামনাইয়ের পুনর্মিলনী

ঢাবিবর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্যে ‘আনন্দে জাগি আজ প্রাণের উষ্ণতায়, বন্ধন হোক অটুট ইতিহাসের এ মিলনমেলায়’ এ স্নোগানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ইতিহাস বিভাগ অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের ১৫তম পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার দিনব্যাপী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রে (টিএসসি) এ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত হয়। দিনব্যাপী নানা আয়োজনের মধ্যে ছিল আলোচনা সভা, স্মৃতিচারণ অনুষ্ঠান, সম্মাননা ও বৃত্তি প্রদান, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, র‌্যাফেল ড্র প্রভৃতি।

 

ক্যাম্পাস জীবনের অসংখ্য স্মৃতিচারণের লক্ষে প্রাণের টানে, শেকড়ের সন্ধানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগ থেকে পাস করা বিভিন্ন পেশার প্রায় পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থী এ পুনর্মিলনীতে উপস্থিত ছিলেন। সকালে বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা অর্থনীতিবিদ ড. আকবর আলি খান। পরে টিএসসির মিলনায়তনে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

 

আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. আকবর আলি খান বলেন, বাংলাদেশে শিক্ষাব্যবস্থায় উন্নত বিশ্বের নিকৃষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অনুকরণে পাঠ্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। এ ধরনের পাঠ্যক্রম মোটেও দেশের জন্য মঙ্গলজনক নয়। এ দেশে সর্বস্তরে, এমনকি শিক্ষাব্যবস্থায়ও গ্রেশাম’স ল চলছে। গ্রেশাম’স ল হচ্ছে অর্থনীতির একটি সূত্র। যার মূল কথা হচ্ছে ‘ভালো লোকদের তাড়িয়ে দেয় খারাপ লোকরা’। তিনি বলেন, আমরা এখন সব বিষয়ে অনার্স পড়াচ্ছি। উন্নত বিশ্বে যেমন হার্ভার্ট, অঙ্ফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো বিশ্ববিদ্যালয়ে এমনটি হয় না। অনার্সে সাধারণত কিছু মৌলিক বিষয় শেখানো হয়। এরপর ওপরের বিষয়ে পড়াশোনা করা হয়; কিন্তু আমাদের দেশে শিক্ষার ক্ষেত্রে নিচের দিক থেকে বিশেষায়ণ শুরু করেছি, ওপরের দিকে আর বিশেষায়ণ খুঁজে পাচ্ছি না। এতে শিক্ষার্থীদের পরে নানা সমস্যা দেখা দেয়। তাই এ অবস্থা বিরাজ করতে থাকলে শিক্ষা ক্ষেত্রে আমরা ক্রমশ অন্ধকারের দিকে যাব। এ সময় তিনি উন্নত দেশগুলোর বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যক্রম অনুসারে দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় পরিবর্তন আনার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানান।

 

আলোচনা সভায় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আবদুল মুয়ীদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন ইতিহাস বিভাগের চেয়ারম্যান ও অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ড. সোনিয়া নিশাত আমিন, ড. আবদুল মোমেন চৌধুরী, মোফাক্কারুল ইসলাম প্রমুখ। আবদুল মুয়ীদ চৌধুরী বলেন, ১৯২১ সালে যে কয়েকটি বিভাগ নিয়ে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের যাত্রা; তার মধ্যে অন্যতম ছিল ইতিহাস বিভাগ। এরই মধ্যে এ বিভাগ দীর্ঘ পথ অতিক্রম করছে। কিন্তু এ বিভাগে আমরা যারা অধ্যয়ন করছি তাদের সবার মধ্যে এক যোগসূত্র স্থাপন করছে ইতিহাস বিভাগ অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন। এ সংগঠনের কল্যাণে আমরা বছরের একটি নির্দিষ্ট দিনে মিলিত হই প্রাণের টানে, শেকড়ের সন্ধানে। আশা করি এ ধারা আগামীতেও অব্যাহত থাকবে। ড. সোনিয়া নিশাত আমিন বলেন, যে কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বিভাগের জন্য সাবেক শিক্ষার্থীদের পুনর্মিলনী তথা মিলনমেলা একটি অনন্য সাধারণ বিষয়। এর মাধ্যমে সাবেক ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে একটি আনন্দঘন পরিবেশ সৃষ্টি হয়।

 

অনুষ্ঠানে ‘অনন্য সাহিত্য পুরস্কার- ২০১৫’ ও ‘বাংলা একাডেমি পুরস্কার- ২০১৪’ লাভের জন্য ড. সোনিয়া নিশাত আমিন ও অধ্যাপক ড. আবু মোঃ দেলওয়ার হোসেনকে সম্মাননা ক্রেস্ট দেয়া হয়। এছাড়া, বিভাগের গরিব ও মেধাবী ১৭ শিক্ষার্থীকে বৃত্তি প্রদান করা হয়। টিএসসি মিলনায়তনে আলোচনা অনুষ্ঠান শেষে শুরু হয় স্মৃতিচারণ অনুষ্ঠান। এতে বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থীরা তাদের শিক্ষা জীবনের নানা স্মৃতিচারণ করেন।#

 

লেখাপড়া২৪.কম/ঢাবি/সং/আরএইচ

পছন্দের আরো পোস্ট