বিইউবিটির যথাযোগ্য মর্যাদায় বিজয় দিবস উদযাপন

1যথাযোগ্য মর্যাদায় বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস এন্ড টেকনোলজি (বি ইউ বি টি) তে উদযাপিত হল মহান বিজয় দিবস, ২০১৫। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাস মিলনায়তনে গত শনিবার (১৯ ডিসেম্বর) এ উপলক্ষে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক, বাংলাদেশের সংবিধানের অন্যতম প্রণেতা ও সুপ্রীম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ব্যারিস্টার এম. আমীর-উল ইসলাম।

 

বিশেষ অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. শফিক আহমেদ সিদ্দিক এবং সভাপতি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর মোঃ আবু সালেহ। বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার প্রফেসর মোঃ এনায়েত হোসেন মিয়া অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন। তিনি স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় পাক বাহিনীর নৃশংসতার বর্ণনা দেন এবং এর বিচারের দাবী করেন। প্রফেসর ড. শফিক আহমেদ সিদ্দিক মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনা, ভারতে বাংলাদেশী শরণার্থীদের দেখাশোনা, বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সমর্থন সৃষ্টির জন্য বিভিন্ন দেশের সাথে সম্পর্ক রক্ষা ইত্যাদি বিষয়ে প্রবাসী সরকারের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করেন।

 

ব্যারিস্টার এম. আমীর-উল ইসলাম ব্রিটিশ পরবর্তী তৎকালীন পাকিস্তানের রাজনৈতিক অবস্থা, ভাষা আন্দোলন, পরবর্তী সময়ে আন্তার্জাতিক রাজনীতির পট পরিবর্তন, ঐতিহাসিক ৬ দফা আন্দোলন, আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা, ১৯৭০ এর নির্বাচন পরবর্তী অবস্থা ইত্যাদি বর্ণনার মাধ্যমে স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন। তিনি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে তাঁর নিবিঢ় সম্পর্কের বিভিন্ন স্মৃতিচারণ করেন এবং প্রবাসী বাংলাদেশ সরকার গঠন ও বাংলাদেশের সংবিধান প্রণয়নে তাঁর সক্রিয় অংশগ্রহণের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেন। তিনি সংবিধানের বিভিন্ন অংশ ও মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন দলিলের উদ্ধৃতিসহ বর্ণনা দেন। বক্তব্য শেষে প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর ব্যাখ্যাসহ প্রদান করেন। প্রফেসর মোঃ আবু সালেহ ১৬ই ডিসেম্বরে ঢাকা শহরে ঠিক কি ঘটেছিল তার ঐতিহাসিক ঘটনাপঞ্জি বর্ণনা করেন, যা অনেক শিক্ষার্থীর অজানা ছিল।

 

আলোচনা অনুষ্ঠানের পরবর্তীতে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এতে কবিতা আবৃত্তি, গান ও নাচ পরিবেশিত হয়। অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে বিজয় দিবস উদযাপন কমিটির সচিব ও বিশ্ববিদ্যালয়ের জয়েন্ট রেজিস্ট্রার জনাব এ.এইচ.এম. আজমল হোসেন অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথি ও আয়োজক কমিটির সদস্যদের প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন।

 

উক্ত অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডের সম্মানিত সদস্যবৃন্দ, বিভিন্ন অনুষদের ডীন, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।

 

লেখাপড়া২৪.কম/খুবি/পিআর/এমএএ-০৪২৫

পছন্দের আরো পোস্ট