চবিতে শহীদ বুদ্ধিজীবী আলোচনা সভা

DSC_0189চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগে যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগম্ভীর পরিবেশে আজ (১৪ ডিসেম্বর) শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস পালন করা হয়। সোমবার সকাল সাড়ে ৮টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতি সৌধে পুস্পমাল্য অর্পণ করা হয়।

 

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী সবার প্রথমে পুস্পমাল্য অর্পণ করেন। উপাচার্যের পর শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতি সৌধে পুস্পমাল্য অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন শিক্ষক সমিতি, অনুষদ সমূহের ডিনবৃন্দ, হল সমূহের প্রভোস্টবৃন্দ, বিভাগীয় সভাপতি এবং ইনস্টিটিউট ও গবেষণা কেন্দ্রের পরিচালকবৃন্দ, অফিসার সমিতি, চ.বি. ক্লাব (ক্যাম্পাস ও শহর), সমন্বয় কর্মকর্তা বিএনসিসি, চবি ল্যাবরেটরী স্কুল এন্ড কলেজ, কর্মচারি সমিতি, কর্মচারি ইউনিয়ন, সাংবাদিক সমিতি, বঙ্গবন্ধু পরিষদ সহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন সমূহ।

 

শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে কর্মসূচির অংশ হিসেবে কালো ব্যাজ ধারণ করে শহীদ মিনার থেকে শোক র‌্যালী অনুষ্ঠিত হয় এবং শোক র‌্যালী শেষে সকাল ৯ টায় বঙ্গবন্ধু চত্বরে মাননীয় উপাচার্যের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা।পরে উপাচার্য চবি বঙ্গবন্ধু চত্বরে মহাকালের মহানায়ক স্বাধীন বাংলাদেশের মহান স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুস্পমাল্য অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

 

উপাচার্য তাঁর ভাষণে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু, বঙ্গবন্ধু পরিবারের শহীদ সদস্যবর্গ, জাতীয় চারনেতা, মহান মুক্তিযুদ্ধে অগণিত শহীদ এবং শহীদ বুদ্ধিজীবীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে বলেন নয়মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর স্বাধীনতার ঊষালগ্নে জাতিকে মেধাশুণ্য করার হীন চক্রান্ত্রে লিপ্ত স্বাধীনতার পরাজিত শক্তি ১৪ ডিসেম্বর নৃশংস ও নারকীয় হত্যাকান্ড ঘটিয়েছিল।

 

তিনি বলেন এ হত্যাকান্ডের নীল নকসার অন্যতম কারণ ছিল বুদ্ধিজীবীরা নিবিড়ভাবে সত্যকে ধারণ করেন এবং সত্য প্রতিষ্ঠা ও দেশ-জাতিকে এগিয়ে নিতে দিক নির্দেশনামূলক কার্যকর ভূমিকা রাখেন। উপাচার্য বুদ্ধিজীবী হত্যার সাথে সম্পৃক্ত নরপশুদের বিচার কাজ দ্রুত সম্পন্ন করে জাতিকে কলংক মুক্ত করার জোর দাবী জানান। উপাচার্য বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠায় বঙ্গবন্ধু তনয়া দেশরত্ন শেখ হাসিনার উন্নয়ন ও অগ্রগতির যে জোয়ার চলছে এর সাথে যুক্ত হয়ে শোককে শক্তিতে পরিণত করে ঐক্যবদ্ধভাবে সর্বস্তরের জনগণকে কাজ করার উদাত্ত আহবান জানান।অনুষ্ঠানে শহীদ বুদ্ধিজীবীদের সম্মানে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়।

 

এছাড়া অনুষ্ঠান শুরুতে পবিত্র কোরআন, পবিত্র গীতা ও পবিত্র ত্রিপিটক থেকে পাঠ করা হয়। আালোচনা সভায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ডিনস কমিটির আহবায়ক প্রফেসর ড. মো. সেকান্দর চৌধুরী, শিক্ষক সমিতির সভাপতি প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আবুল মনছুর ও সাধারণ সম্পাদক ড. কাজী এস এম খসরুল আলম কুদ্দুসী, সিনেট সদস্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ জসীমউদ্দিন, সিন্ডিকেট সদস্য ও প্রভোস্ট কমিটির আহবায়ক প্রফেসর ড. সুলতান আহমেদ, রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) প্রফেসর ড. মোহাম্মদ কামরুল হুদা, অর্থনীতি বিভাগের সভাপতি প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আবুল হোসাইন, প্রক্টর জনাব মোহাম্মদ আলী আজগর চৌধুরী, চবি ক্লাব (ক্যাম্পাস) এর সভাপতি প্রফেসর ড. মো. আনোয়ারুল ইসলাম, চবি ক্লাব (শহর) এর কার্যনির্বাহী সদস্য প্রফেসর বেনু কুমার দে, বঙ্গবন্ধু পরিষদের সভাপতি প্রফেসর ড. অরুণ কুমার দেব, অফিসার সমিতির সভাপতি জনাব এ কে এম মাহফুজুল হক, কর্মচারী সমিতির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জনাব মো. ওমর ফারুক ও কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি জনাব জোস মোহাম্মদ। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন ডেপুটি রেজিস্ট্রার (তথ্য) জনাব মো. ফরহাদ হোসেন খান।

 

এছাড়াও শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস পালন উপলক্ষে কর্মসূচির অংশ হিসেবে সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভবনসমূহে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত এবং কালো পতাকা উত্তোলন করা হয়। ফজরের নামাজের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল মসজিদে শহীদ বুদ্ধিজীবীদের রূহের মাগফেরাত কামনা করে মুনাজাত এবং অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের স্ব স্ব উপাসনালয়ে শহীদ বুদ্ধিজীবীদের আত্মার সদগতি কামনা করে প্রার্থনা করা হয়।

 

লেখাপড়া২৪.কম/চাবি/কাইয়ূম/এমএএ-০৩৮৫

পছন্দের আরো পোস্ট