ঢাবিতে এম এ জি ওসমানী স্মারক বক্তৃতা ও বৃত্তি প্রদান

8-12-2015জেনারেল এম এ জি ওসমানী স্মারক বক্তৃতা ও বৃত্তি প্রদান আজ (৮ ডিসেম্বর) মঙ্গলবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিরাজুল ইসলাম লেকচার হলে অনুষ্ঠিত হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ইতিহাস বিভাগ এবং জেনারেল এম এ জি ওসমানী বৃত্তি ফান্ড’র উদ্যোগে এই স্মারক বক্তৃতার আয়োজন করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

 

ইতিহাস বিভাগের চেয়ারপার্সন অধ্যাপক ড. সোনিয়া নিশাত আমিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট মানবাধিকারকর্মী এবং আইন ও সালিশ কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল “বর্তমানের দর্পণে ইতিহাস ও ঐতিহ্যের প্রতিফলন: নাগরিক চেতনা” শীর্ষক স্মারক বক্তৃতা প্রদান করেন। অনুষ্ঠানে ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক ও জেনারেল এম এ জি ওসমানী স্কলারশীপ ফান্ডের ব্যবস্থাপনা বোর্ডের চেয়ারপার্সন অধ্যাপক ড. শিরীন হাসান ওসমানী স্বাগত বক্তব্য রাখেন।

 

সুলতানা কামাল তাঁর বক্তব্যে বাংলাদেশের সামাজিক, রাজনৈতিক সর্বোপরি মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং ধর্ম-নিরপেক্ষতা প্রসঙ্গ আলোচনা করে বলেন, দেশ ও জাতিকে নির্মাণের প্রক্রিয়ায় একজন সচেতন নাগরিকই যথার্থ ভূমিকা পালন করতে পারেন। এক্ষেত্রে গণসচেতনতার সম্মিলিত শক্তি জন্ম দেয় স্বাধীন সার্বভৌম সামাজিক সক্রিয়তা। সেটা অর্জন করতে ইতিহাস ঐতিহ্যের ধারক হয়েই রচনা করা যায় ভবিষ্যতের স্বর্গ তোরণ।

 

উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বক্তৃতার শুরুতে এই ডিসেম্বর মাসে সকলকে বিজয়ের শুভেচ্ছা জানান। তিনি বলেন, ‘এই ডিসেম্বর মাস যেমন আনন্দের তেমনি বেদনার। এই ক্যাম্পাস থেকে ১৪ ডিসেম্বর আমাদের প্রিয়জন শিক্ষক, বুদ্ধিজীবীদের ক্যাম্পাস থেকে তুলে নিয়ে হত্যা করা হয় মিরপুর বদ্ধভূমিতে। আমি তাঁদের স্মরণ করছি। বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য শিক্ষক, ছাত্র যারা শহীদ হয়েছেন তাদের এবং মুক্তিযুদ্ধের ৩০ লক্ষ মানুষের আত্মাহুতিসহ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্মরণ করছি।’ তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধে এম এ জি ওসমানীর অসামান্য অবদান স্মরণ করে বঙ্গবীর এম এ জি ওসমানীর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

 

তিনি সুলতানা কামালের বক্তৃতার সূত্র ধরে বলেন, দেশের একটি স্বার্থান্বেষী মহল নানাভাবে নানা সময়ে ইতিহাস বিকৃতির ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিল। এদের ব্যাপারে ইতিহাসবিদদের সচেতন থাকতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল কাজ হলো যেমন সত্যের অন্বেষণ করা, ইতিহাসবিদরা এক্ষেত্রে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবেন। উপাচার্য বলেন, ইতিহাস ঐতিহ্যের ধারক-বাহক শুধু নয় এই প্রজন্মকে শুধুমাত্র একাডেমিক সাফল্য নয়, তার সাথে সত্যের শক্তিতে বলীয়ান হয়ে নৈতিক শক্তি ও সত্য প্রতিষ্ঠার সাধনা করতে হবে। সত্যের অনুসন্ধানে দায়বদ্ধতা ধারণ করে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে।

 

উপাচার্য এ প্রসঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক এস এন বোসের প্রসঙ্গ উত্থাপন করে বলেন, তিনি এক সময় দু’বছরের ছুটি নিয়ে ইউরোপ গিয়েছিলেন গবেষণার জন্য। দু’বছর সমাপ্ত হওয়ার পর তিনি নিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে নিজ দেশে ফেরত আসেন। ফেরত আসার প্রশ্নে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের প্রতি তাঁর দায়বদ্ধতার কথা স্মরণ করেন।

 

তিনি সেসময় যদি ইউরোপে থাকতেন তিনি হয়তো নভেল পুরস্কার পেতেন। তাঁর-ই ‘বোসন কণা’ নিয়ে গবেষণা করে নভেল পাচ্ছেন বিজ্ঞানীরা, অব্যাহত রয়েছে গবেষণা। উপাচার্য আরও বলেন, সঠিক সময়ে সঠিক কথা বলতে হবে। আমাদের দেশে জাতীয় সংকটের সময় অনেকে নিরপেক্ষতার কথা বলেন; নিরপেক্ষতা এক ধরনের অসততা। নিরপেক্ষতা সত্যকে পিছিয়ে দেয়। ইতিহাস চর্চার মূল কথা সত্য ও সততা। তাতে বর্তমান দর্পণে ইতিহাস ঐতিহ্যের প্রতিফলন ঘটবে জীবনে ও জাতীয় পেক্ষাপটে।

 

এর আগে ইতিহাস বিভাগের স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শ্রেণিতে কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফল অর্জন করায় ১৯জন শিক্ষার্থীকে বঙ্গবীর এম এ জি ওসমানী বৃত্তি, আঞ্জুমান মফিদুল ইসলাম বৃত্তি এবং ইতিহাস বিভাগ বৃত্তি প্রদান করা হয়। এছাড়া, বিভাগের আইটি সেন্টারের বিভিন্ন ব্যাচের সর্বোচ্চ নম্বরপ্রাপ্তদের সনদপত্র প্রদান করা হয়।

 

লেখাপড়া২৪.কম/ঢাবি/পিআর/এমএএ-০৩৩৭

পছন্দের আরো পোস্ট