‘শিক্ষার উদ্দেশ্য ও ধারায় পরিবর্তন আনা জরুরি’

03_102‘অর্গানাইজিং অ্যান্ড ম্যানেজিং লিটারেট এনভায়রনমেন্ট’ শীর্ষক পাঁচ দিনব্যাপী এক উপআঞ্চলিক কর্মশালা রোববার ঢাকায় শুরু হয়েছে। বাংলাদেশ ন্যাশনাল কমিশন ফর ইউনেস্কো এবং ইউনেস্কো ঢাকার সহায়তায় ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন এ কর্মশালার আয়োজন করে। বাংলাদেশ ছাড়াও এতে ভারত, নেপাল ও ভুটানের সরকারি-বেসরকারি প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করছেন।
রোববার সকালে ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন মিলনায়তনে কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ব্যুরো অব নন ফরমাল এডুকেশন বাংলাদেশের মহাপরিচালক ড. রুহুল আমিন সরকার। ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের সভাপতি কাজী রফিকুল আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ন্যাশনাল কমিশন ফর ইউনেস্কোর সেক্রেটারি মঞ্জুর হোসেন। উদ্বোধনী পর্বের শুরুতেই বাংলাদেশের বিভিন্ন ঐতিহ্য সংবলিত ডকুমেন্টারি প্রদর্শন করা হয়। কর্মশালার বিষয়বস্তু সম্পর্কে ধারণা দেন ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের শিক্ষা ও প্রশিক্ষণমূলক প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (সিনেড) চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার শাহনেওয়াজ খান। এ সময় ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর ড. এহছানুর রহমান এবং সিনেডের ফ্যাকাল্টি মেম্বার রঘুনাথ দাসসহ আয়োজক প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. রুহুল আমিন বলেন, বর্তমান প্রেক্ষাপটে এ কর্মশালা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বিভিন্ন দেশের অভিজ্ঞ ব্যক্তিরা এতে অংশ নিয়েছেন। তিনি বলেন, শিক্ষা ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বাজেট বরাদ্দ দেয় বাংলাদেশ সরকার। উপআঞ্চলিক অন্য দেশগুলোতেও একইভাবে বরাদ্দ দেয়া হয়। বাস্তবে সাক্ষরতার হার ভারতে ৭১ শতাংশ, বাংলাদেশে প্রায় ৭০ শতাংশ, ভুটানে ৬৪ শতাংশ এবং পাকিস্তানে ৫৯ শতাংশ। অথচ উন্নত দেশগুলোতে সাক্ষরতার হার ৯৯ শতাংশ। এ অঞ্চলের দেশগুলোতে সাক্ষরতার হার কম হওয়ার প্রকৃত কারণ খুঁজে বের করে কার্যকর শিক্ষা চালু করতে হবে। সবার জন্য শিক্ষা নিশ্চিত করতে এ কর্মশালায় অভিজ্ঞতা বিনিময় করার আহ্বান জানান তিনি। এছাড়া উপআঞ্চলিক এ কর্মশালা আয়োজন করায় ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন এবং বাংলাদেশ ন্যাশনাল কমিশন ফর ইউনেসকোকে ধন্যবাদ জানান তিনি।
মঞ্জুর হোসেন বলেন, এমডিজিতে শিক্ষাসহ সব ক্ষেত্রেই সফলতা অর্জন করেছে বাংলাদেশ। কিন্তু এসডিজি পূরণ কঠিন চ্যালেঞ্জের বিষয়। উপআঞ্চলিক এ কর্মশালায় বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনেক কাজে আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
সভাপতির বক্তব্যে কাজী রফিকুল আলম বলেন, সারা বিশ্বে সমাজের সর্বত্র বিস্ময়করভাবে পরিবর্তন আসছে। কারও পক্ষে এ পরিবর্তনের বাইরে থাকা সম্ভব নয়। বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট এবং নতুন জাতীয় ধারণার ভিত্তিতে শিক্ষার উদ্দেশ্য ও এর ধারায় পরিবর্তন আনা জরুরি হয়ে পড়েছে। তিনি বলেন, এসডিজি কর্মসূচি অর্জন এবং সংশ্লিষ্ট উন্নয়নে সবাইকে অঙ্গীকার করতে হবে। এক্ষেত্রে একুশ শতকের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কেউ যাতে শিক্ষা ও দক্ষতার বাইরে না থাকে, সে ধরনের সক্রিয় পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে।
পাঁচ দিনব্যাপী এ কর্মশালার মাধ্যমে অংশগ্রহণকারী প্রতিনিধিরা তাদের দেশের গুরুত্বপূর্ণ ও মূল্যবান মতবিনিময় এবং সামনে এগিয়ে যাওয়ার একটি প্লাটফর্ম তৈরি করতে পারবেন। এছাড়া শিক্ষার পরিবেশ উন্নয়নে কার্যকরী পরিকল্পনা গ্রহণে বিশেষ ভূমিকা রাখার সুযোগ পাবেন। ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন এ সংক্রান্ত যে কোনো দায়িত্ব নিতে প্রস্তুত বলে আশ্বাস দেন তিনি। কর্মশালায় অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের আন্তরিক অভিন্দন জানান কাজী রফিকুল আলম।
আয়োজকরা জানান, পাঁচ দিনব্যাপী কর্মশালায় ‘সাসটেনেবল ডেভেলপমেন্ট গোল’- এসডিজি অর্জন, সাক্ষরতার হার বৃদ্ধি তথা শিক্ষার বর্তমান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নতুন নতুন পন্থা উদ্ভাবন নিয়ে আলোচনা এবং কর্মকৌশল নির্ধারণ করা হবে। ১০ ডিসেম্বর কর্মশালা শেষ হবে।#

 

লেখাপড়া২৪.কম/আরএইচ-৪৮৪৭

পছন্দের আরো পোস্ট