চিতোর দূর্গের বীরত্বের কাহিনী

CHITOR FORT 01ছোটবেলা থেকে রাজ রাজাদের কাহিনি আমরা প্রায় সবাই শুনেছি, কিন্তু গল্পের রাজাদের সাথে বাস্তবের রাজাদের মিল খুব কম থাকে । কিন্তু চিতোর দূর্গের রাজ বংশের রাজাদের কথা সম্পূর্ন ভিন্ন । এরা ছিলো বীর ও প্রজাদরদি শাসক । রাজ্য ও প্রজাদের অত্যাচারি সম্রাজ্যবাদিদের দাসত্ব থেকে রক্ষা করতে তারা প্রান হাতে নিয়ে যুদ্ধ করতো , তাদের রাজ্যকে মাতৃভূমি বলে তারা মায়ের মর্যাদা দিতো এবং এই মাতৃভূমিকে রক্ষা করতে শরীরের শেষ রক্ত বিন্দুটি দিয়ে লড়াই করতো ।
এই রাজাদের মধ্যে ছিলো রানা সাংঘা, মহারানা উদয় সিং, মহারানা প্রতাপ সিং । এই চিতোর দূর্গের একটু বর্ননা দেই, যদিও এটা নিজের চোখে দেখার সৌভাগ্য এখনো আমার হয়নি কিন্তু এই দূর্গ সম্পর্কে যতোটুকু পড়ছি তার উপর ভিত্তি করেই লিখতেছি – চিতোর দূর্গ ভারতের রাজস্থান প্রদেশের মেবার রাজ্যের রাজধানী চিতোরে অবস্থিত । এই দূর্গটির বিশেষত্ব এর উচ্চতা, প্রায় ৫৯০ ফিট উচু পাহাড়ে এই বিশাল দূর্গটির অবস্থান । এছাড়াও এই দূর্গটির দেওয়াল প্রচুর চওড়া । এমন উচ্চতার কারনে অনেক বড় সৈনো বাহিনীও এই দূর্গ দখলের চিন্তা মাথায় আনেনি, তবে আকবরের হাতে চিতোর পতন ঘটে ।
আকবরকে চিতোর দূর্গ দখল করতে ষাট হাজার মোঘল সৈন্য দিয়ে চারদিক থেকে দূর্গকে ঘিরতে হয়েছে, আর মোঘলদের বিপক্ষে দূর্গতে ছিলো হাজার খানেক রাজপুত সৈন্য, যারা আমৃত্যু লড়াই করেছে দূর্গকে রক্ষা করার জন্য, কিন্তু এতো প্রান বিসর্জন দেওয়ার পরেও দূর্গ ও দূর্গে থাকা সাধারন জনগনকে বাচাতে পারে না আর দূর্গে উপস্থিত পাঁচহাজার রাজপুত নারী নিজেদের মান সম্মান রক্ষার্থে আগুনে ঝাপ দিয়ে প্রান দিয়ে দেয়। এখানেই চিতোর রাজ পরিবারের শেষ না, চিতোর রাজ পরিবারকে নিয়ে ঐখান থেকে পালিয়ে গিয়ে রানা উদয় সিং একটি নতুন রাজধানী নির্মান করেন যার নাম হয় উদয়পুর ।
মেবারের রাজা উদয় সিংএর পুত্র প্রতাপ বহু চেষ্টার পরেও চিতোর দূর্গোকে উদ্ধার করতে পারেনি কিন্তু জাহাঙ্গীর উদয় সিংএর নাতি ও প্রতাপ সিংএর পুত্র অমর সিংকে চিতোর ফিরিয়ে দেয় । চিতোরের জোহার প্রথা : রাজপুত নারীরা যুদ্ধের সময় শত্রুপক্ষের হাতে দূর্গ দখল হওয়ার আশংকা দেখলে শত্রুর হাত থেকে নিজেদের মান সম্মান রক্ষা করতে আগুনে ঝাপ দিয়ে নিজেদের অস্তিত্ব শেষ করে দেওয়ার এই প্রথাকে জোহার বলে । সব থেকে অদ্ভুত ব্যাপার এই প্রথাটা পালন করা হয় উৎসবের মতো করে, পুরো অন্দরমহলকে সাজানো হয় ফুল দিয়ে, ভালো খাবারে ব্যাবস্থা করা হয় তারপর স্বামী সন্তান ও আপনজনদের থেকে বিদায় নিয়ে আগুনে ঝাপ দেয় বীর রাজপুত নারীরা ।
চিতোর দূর্গে মোট তিনটি জোহার হয়েছে, ১ম রানী পদ্মাবতী করেছেন ২য় বার করেছেন রানী কর্নাবতী ও ৩য়বার জোহার হয় চিতোর পতনের সময় । মেবারের গর্ব ছিলো চিতোর দূর্গ , এই দূর্গ ভারতের সব থেকে বড় দূর্গগুলোর একটি ।
লেখাপড়া২৪.কম/সিলেট/সাফকাত/এমএএ-০২৮০
পছন্দের আরো পোস্ট