সামাজিক অবক্ষয়ের প্রতিচ্ছবি ‘ঐশী’

আতিকবর্তমান সময়ে সামাজিক অবক্ষয়ের প্রতিচ্ছবি হিসেবে ঐশীর চরিত্র আমাদের সকলের সামনে এক বিরাট উদাহরণ। এতো অল্প বয়সে তার নষ্ট হওয়া, পরিবারের উদাসিনতায় মাদকাসক্ত হওয়া, বাবা-মাকে নির্মমভাবে হত্যা করা, হত্যার দায়ে আদালত কর্তৃক আবার তার মৃত্যুদন্ডের সাজা পাওয়া, ইত্যাদি ঘটনাই প্রমান করে আমাদের চারপাশে বেড়ে উঠা মানুষগুলোর মধ্যে মূল্যবোধ ও নৈতিকতার চরম ঘাটতি পাশাপাশি সমাজে বেড়ে উঠা নানা অবক্ষয় আমাদেরকে ক্রমাগত ভয়ঙ্কর এক অন্ধকার গহবরের দিকে কিভাবে ধাপিত করছে।

 

বর্তমান সমাজে মানুষের মধ্যে মূল্যবোধ ও নৈতিকতার অবক্ষয় এমন এক অবস্থায় উপনিত হয়েছে যে, সন্তান বাবা-মাকে, বাবা-সন্তানকে, স্বামী-স্ত্রীকে, স্ত্রী-স্বামীকে, ভাই-ভাইকে হত্যা করতে বিন্দুমাত্র দ্বিধা করতে না। যা প্রতিদিনকার পত্র-পত্রিকায় দৃশ্যমান। এখান থেকে আমাদের শিক্ষা নিতে হবে, ভাবতে হবে ভবিষ্যতের উত্তরসূরি আমাদের এই তরুণরা দিনদিন কোন পথে ধাপিত হচ্ছে। তাই মাথা কেটে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা না করে অতিদ্রুত আমাদের এর শিকর খুঁজে বের করতে হবে। যদিও এই ধরনের সামাজিক অবক্ষয় হওয়ার পেছনে শিক্ষার অধোগতি, বিচারহীনতার সংস্কৃতি, ক্ষমতার অপব্যবহারের সাথে গোলক ধাঁধাঁর ভোগবাদী পশ্চিমা পণ্য-সংস্কৃতির খপ্পরে পড়ে আমরা আমাদের আপন বিশ্বাস, মানবিক ও সামাজিক মূল্যবোধ, সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকার হারাতে বসেছি। আর বিশ্বায়নের যুগে সাম্রাজ্য শক্তি বিশ্বায়নের থাবায় বিশ্বমানুষের সাংস্কৃতিক চেতনাকে ক্রমাগত আক্রমন করছে। যার প্রবণতা শহর থেকে গ্রামে গিয়ে পৌঁছেছে। পরিণতিতে ব্যাপকভাবে বাড়ছে আত্মসর্বস্বতা, আত্মকেন্দ্রিকতা ও জনবিচ্ছিন্নতা। যার সূদূরপ্রসারী ক্ষতিকর প্রভাব পড়ছে মানুষের নৈতিক মূল্যবোধের উপর। যদিও আজকের এই তথাকথিত বিশ্বায়ন মানুষের সম্পর্ককে শুধু অর্থনৈতিক করতে চাচ্ছে। মূল্যবোধের এই অবক্ষয় তাই আজ সমাজে যেন স্বাভাবিক ঘটনায় পরিণত হচ্ছে। তথাকথিত বিশ্বায়ন নারী-পুরুষের সামাজিক স্বীকৃতিকে অগ্রাহ্য করতে শিখাচ্ছে। এতে ভাঙ্গছে পরিবার, মানুষ নিঃসঙ্গ হয়ে পড়ছে, আগামী প্রজন্ম আসছে শিকড়বিহীন। যা দেশের ভবিষ্যত প্রজন্ম এই তরুণ সমাজের বেড়ে উঠার পথে প্রধান অন্তরায় বলে মনে করি। এক দিকে গোলকায়ন মানুষের চিরন্তন সম্পর্কগুলোকে শেষ করে দিচ্ছে অন্যদিকে সমাজে মাদকের সর্বগ্রাসী বিস্তার আমাদের তরুণ সমাজকে তিলে তিলে ধ্বংশ করছে? বাবা-মার আদরের ঐশী যার স্বীকার। তাই আশা করবো অতি অল্প বয়সে ঐশীর এমন পরিনতিকে সংশ্লিষ্টরা কেবল বিচ্ছিন্ন ঘটনা বলে উড়িয়ে না দিয়ে, দেশের প্রাণশক্তি এবং উন্নয়ণের প্রধান কারিগর তরুণ সমাজকে সকলপ্রকার সামাজিক অবক্ষয়ের হাত থেকে রক্ষা করতে হবে। দেশে প্রতিটি অঞ্চলে ভয়াবহ মাদকবিস্তার রোধে রাষ্ট্র ও সমাজ তথা প্রতিটি নাগরিকের তরফ থেকে দৃশ্যমান উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। পাশাপাশি সন্ত্রাসবাদ সকল কর্মকান্ড থেকে তরুণ সমাজকে দূরে রাখতে হবে। বর্তমানে চাকরি পাওয়ার এহেন পুঁজিবাদী শিক্ষার পাশাপাশি তরুণ যুবসমাজকে অবশ্যই মূল্যবোধ ও নৈতিকতার শিক্ষা প্রদানে সংশ্লিষ্টদের উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। সর্বপ্রথম পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে শিশুদেরকে ভাল-মন্দের ব্যবধান বুঝাতে হবে। শুভবোধ সম্পন্ন মানুষ তৈরির জন্য যে নৈতিক ও ধর্মীয় জ্ঞান শিক্ষার্থীদের প্রয়োজন তা প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ-মাধ্যমিক শিক্ষাসূচিতে অবশ্যই অন্তরর্ভুক্ত করতে হবে। দেশের ইতিহাস, সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ, সততা, মানবতা, ঐতিহ্য ও পারিবারিক বন্ধন সম্পর্কে জ্ঞান দানের মাধ্যমে প্রতিটি সন্তানকে তথা তরুণদের সজাগ করে গড়ে তুলতে হবে।

 

picযদিও বলতে দু:খ হয়, দেশে বিরাজমান ভয়াবহ সামাজিক অবক্ষয় প্রতিকারের বিপরীতে অর্থের জোরে অপরাধ করে অতি সহজে পার পাওয়া, দোষারোপের রাজনৈতিক, দূর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার, বিচারহীনতা, জবাবদিহীতার যে অপ-সংস্কৃতি আমাদের রাষ্ট্র তথা এই সমাজে মাথা চাড়া দিয়ে উঠছে এর পরিণতি ও ভয়াবহ ছোবলে হয়তো বা সকলকেই আক্রান্ত করতে পারে। যার পরিণতি অদূর ভবিষ্যতে হয়তো বা আরো ভয়াবহ রূপ ধারণ করতে পারে। তাই সময় থাকতেই সাধু সাবধান। যতদ্রুত সম্ভব সামাজিক সকলপ্রকার অবক্ষয় প্রতিরোধে নিজ নিজ জায়গা থেকে সকলকে সোচ্চার হতে হবে। সমাজে মাদকের বিস্তার রোধ, অন্যায় ও অপকর্মের বিরুদ্ধে সকলকে ঐক্যবন্ধ হয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। প্রতিটি পরিবার ও সমাজ থেকে এই কাজটি শুরু করতে হবে। ব্যক্তিস্বার্থে অসামাজিক কর্মকান্ড পরিচালনা সুযোগ গ্রহণ তথা হীন উদ্দেশ্যে কেউ যাতে আমাদের সন্তানদেরকে আর বিপথে ঠেলে দিতে না পারে সেদিকে সরকার, স্থানীয় প্রশাসন, সমাজ তথা পরিবারকে অধিক খেয়াল রাখতে হবে। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমাদের এই ভবিষ্যত প্রজন্ম তরুণদের রক্ষা করতে হবে। এখনো রাষ্ট্র তথা সমাজের আনাচে-কানাচে ঐশীর মতো অজানা আরো যেসব ঐশীরা এই ভাবে বেড়ে উঠছে তাদেরকে বাঁচাতে হবে। পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সমাজ, রাষ্ট্র তথা মিডিয়াগুলোকে এ ব্যাপারে দূত কার্যকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। সমাজে আর যেন কাউকে ঐশী ও ঐশীর বাবা-মার মতো নির্মম পরিনতির স্বীকার হতে না হয়।

 

সামাজিক অবক্ষয়, নৈতিকতা ও মূল্যবোধকে রক্ষা করতে প্রথমে ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচাতে হবে আমাদের শিক্ষাকে। যে কোন উপায়ে হোক রাষ্ট্রীয় শিক্ষাব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে হবে, কেননা দরিদ্র জনগোষ্ঠীর ভরসা শুধু এখানেই। যদিও বর্তমানে শিক্ষাকে পুঁজি ও জীবিকার প্রতিশ্রুতি হিসাবে গ্রহণ করায় শিক্ষায় পুঁজিবাদী বিকাশে নীতি-নৈতিকতার বিষয়গুলো যে ভাবে উপেক্ষিত হচ্ছে, তা রোধে শিক্ষা ক্ষেত্রে মানবিক বিষয়গুলো অন্তভ’ক্ত করার ব্যাপারে সংশ্লিষ্টদের অধিক জোড় দিতে হবে। এতে মানবসম্পদ উন্নয়নের সাথে সাথে শিক্ষার্থীরা নৈতিকতা, মানবিক মূল্যবোধ, আত্মসম্মান, মানবাধিকার ও স্বাধিকারের বিষয়গুলো জানতে শিখবে। এতে রাষ্ট্র তথা সমাজের প্রতিটি মানুষ নৈতিক মূল্যবোধে জাগ্রত হবে, নিজ নিজ সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকারকে ধারণ ও লালন করতে শিক্ষবে। পাশাপাশি তাদের কর্মদক্ষতা ও আত্মসম্মান বাড়িয়ে তুলবে। এই বিষয়গুলো মাথায় নিয়ে বর্তমান ধারায় পরিচালিত শিক্ষা কার্যক্রমের ক্রুটিগুলো বিবেচনা করে রাষ্ট্রীয় শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরো শক্তিশালী করতে হবে। নিজে বড় হও অন্যকে মাড়িয়ে যাও, এই ধরনের মানসিকতা পরিহার করতে হবে। আমরা রাষ্ট্রের কাছে এমন শিক্ষা ব্যবস্থা চাই, যে শিক্ষা আমাদের তরুণ প্রজন্মকে জ্ঞানী, দক্ষ ও ভাল-মন্দ বুঝার মতো করে গড়ে তোলার পাশাপাশি হৃদয়বান, রুচিশীল, নান্দনিক, নৈতিক ও মানবিক বোধসম্পন্ন, গণতান্ত্রিক, দেশপ্রেমিক ও সর্বোপরি আলোকিত মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে পারে। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্টদের সদিচ্ছা জরুরি।

 

নৈতিকতা ও মূল্যবোধের যে ঘাটতি নিয়ে আমাদের সন্তানরা সমাজে বড় হচ্ছে এবং যেভাবে তাদের চারিত্রিক বৈশিষ্ট ও গুণাগুন গুলো চরম বিপর্যয়েরর মুখোমুখি হচ্ছে এর দায় যেমন রাষ্ট্র, সমাজ, পরিবার রয়েছে, ঠিক তেমনি প্রতিটি নাগরিকের উচিত নিজ নিজ উদ্যোগে মাদকসহ নানাবিধ সামাজিক অবক্ষয় রোধে ঐক্যবন্ধ আন্দোলন গড়ে তোলা। আদালত কর্তৃক ঐশীকে তার বাবা-মাকে হত্যার দায়ে মৃত্যুদন্ড দিয়েছে এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানাজনের নানা মতামত উঠে এসেছে যা ইতিবাচক। এখান থেকে সংশ্লিষ্টদের শিক্ষা নিতে হবে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে আমাদের চারপাশে ঘটে যাওয়া নানাবিধ সামাজিক অবক্ষয় প্রতিরোধে আমরা নিজ নিজ জায়গা থেকে কতটুকু ভুমিকা পালন করছি? কেননা এইসব দুর্বৃত্তরা আমাদের সমাজেরই লোক সরকারের আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর পাশাপাশি আমাদেরকেও উদ্যোগ নিতে হবে সমাজে এইসব অনৈতিক কর্মকান্ড প্রতিরোধে। আমাদের সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে সামাজিক অবক্ষয়কে সমাজ থেকে চির বিদায় দিতে হবে। কেবল একে অপরকে দোষারোপ না করে সমাজের একজন নাগরিক হিসেবে আমি নিজে এই সমাজকে কতটুকু দিতে পারছি সেই কথাটাও ভাবতে হবে, যা অধিক জরুরি।

 

যদিও সামগ্রিকভাবে বলতে গেলে দেশ তথা সমাজে হতাশা, আর্দশহীনতা, বিচারহীনতা, রক্ষক হয়ে ভক্ষকের ভ’মিকায় অবতীর্ন হওয়া, দারিদ্র্যতা, ভিনদেশীয় স্যাটেলাইট চ্যানেলগুলোর দৌরাত্ব, নানামুখী বিভ্রান্ত, বেকারত্ব, সঙ্গদোষ, কৌত’হলপ্রিয়তা, মনস্তাত্ত্বিক বিশৃঙ্খলা, মাদকগ্রহণে সহজ আনন্দ লাভের বাসনা, সন্তানের প্রতি বাবা-মার অধিক দৃষ্টি ও তাদের সময় না থাকা, সন্তানের প্রতি পরিবারিক কর্তব্যহীনতা, পারিবারিক কলহ, পরিবারের অভ্যন্তরে মাদকের প্রভাব, ধর্মীয় মূল্যবোধের বিচ্যুতি, পাঠ্যসূচিতে নৈতিকতা ও মূল্যবোধের শিক্ষার অভাব, রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় অবৈধ্য ব্যবসার সুযোগ লাভ, রাজনৈতিক অস্থিরতা, মাদকের সহজলভ্যতা, গডফাদারদের আইনের আওতায় আনতে প্রশাসনের ব্যর্থতা, মূল অপরাধীরের সাঁজা না পাওয়া, সামাজিক অবক্ষয়ের বিরুদ্ধে সমাজ থেকে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে না তোলার পাশাপাশি সামাজিক, ধর্মীয় ও নৈতিক মূল্যবোধের অবক্ষয় আমাদের তরুণ সমাজকে প্রতিনিয়ত ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে এবং সমাজে প্রতিনিয়ত শত শত ঐশীর জন্ম দিচ্ছে। তাই এখনই প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে না পারলে এর পরিণতি সকলকেই ভোগ করতে হবে। যা দেশ তথা সমাজের জন্য হবে অতি ভয়াবহ বিপর্যয়ের কারণ।

 

তাই যতদ্রুত সম্ভব উক্ত সমস্যাগুলো প্রতিরোধে সংশ্লিষ্টদের অতিদ্রুত মাদকদ্রব্যের উৎপাদন ও আমদানি নিষিদ্ধকরণের জন্য সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সাথে সম্বলিত কার্যক্রম গ্রহণ করে প্রতিরোধ ব্যবস্থা জোরদার করা; আন্তর্জাতিক চোরচালানী চক্রকে প্রতিহত করতে হবে; সীমান্ত এলাকাগুলোতে অধিক নজরদারি বাড়াতে হবে; স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন পাঠ্যসূচিতে মাদকের ক্ষতিকর দিকগুলো অন্তভর্’ক্ত করতে হবে এবং শিক্ষার্থীদের ছোট বেলা থেকেই নৈতিক মূল্যবোধ সম্পর্কিত বিষয়গুলোর ওপর জ্ঞান দিতে হবে; বিভিন্ন সভা, সেমিনার, আলোচনা ও মিডিয়ায় মাধ্যমে অনুষ্ঠান প্রচার করে জনগণের ভেতর নৈতিক মূল্যবোধ জাগ্রত এবং মাদকের ভয়াবহতার বিষয়গুলো তুলে ধরে মাদক প্রতিরোধে প্রতিটি সমাজ থেকে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তোলার জন্য জনগণকে উদ্যোগী করে তুলতে হবে; মাদক প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত আইনের বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে; রক্ষককে ভক্ষকের ভ’মিকা পালন থেকে বিরত থাকতে হবে; অপরাধী যে দলেরই হোক না কেন তাকে নিয়ন্ত্রণে সরকার তথা প্রশাসন ব্যর্থ হলে তার বিরুদ্ধে সমাজ থেকে ঐক্যবন্ধ আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে; দেশের বেকারত্ব নিরসন ও দারিদ্র্য বিমোচনে গুরুত্ব দেওয়া, গ্রামিন অর্থনীতি জোরদার ও গ্রামীন উন্নয়নের দিকে সরকারকে অধিক দৃষ্টি দিতে হবে; অধিক জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে দৃশ্যমান উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে; শিক্ষা ক্ষেত্রে বৈষম্য রোধ করতে হবে এবং কর্মমুখী শিক্ষার ওপর অধিক গুরুত্ব দিতে হবে; আকাশ সংস্কৃতি তথা অপসংস্কৃতির অবাধ প্রসার রোধে শিক্ষামূলক এবং সপরিবার দেখার মতো চ্যানেল রেখে বাকি চ্যানেল বন্ধের ব্যাপারে সংশ্লিষ্টদের তরফ থেকে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে; পিতা-মাতাকে সন্তানের-সন্ততির ব্যাপারে অধিক খেয়াল রাখতে হবে এবং সন্তানের সঙ্গে বন্ধুসলভ আচরণ গড়ে তুলতে হবে; প্রতিটি মানুষের ভিতরে ধর্মীয় বোধ জাগ্রত করতে ধর্মীয় শিক্ষার উপর গুরুত্ব দিতে হবে কেননা ধর্মীয় অনুভ’তি মানুষের বিবেকের রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করে।

 

পরিবেশে বলতে চাই, সমাজে মাদকের অবাধ বিস্তার ও সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয় এমন একটি অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতি, যা সমাজে প্রতিষ্ঠিত মূল্যবোধ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ধ্বংস করে। এর ফলে সমাজের সর্বত্র হতাশা ও বিশৃঙ্খলতা সৃষ্টি হয়। বাংলাদেশে সম্প্রতিকালে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন ঘটনা যেন এরই প্রমানবহণ করে। এখনিই যদি এগুলোর বিরুদ্ধে সমাজ থেকে সম্মিলিত ভাবে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে না পারি তবে হয়তো উক্ত সামাজিক অবক্ষয়ের মাধ্যমে আমাদের এই সোনার বাংলাটি ক্রমান্বয়ে হারিয়ে যেতে পারে, ধ্বংসের অতল গহবরে বিলীন হয়ে যেতে পারে পৃথিবীর সভ্য দেশের মানচিত্র থেকে। আবার যদি আমরা সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এই অবস্থার উন্নতি করতে পারি তবে হয়ে উঠতে পারি একটি আধুনিক সভ্য ও উন্নত জাতি এবং রাষ্ট্র হিসেবে, যা হয়তো সকলেরই কাম্য। তাই যতদ্রুত সম্ভব আমাদের অনাগত ভবিষ্যত তরুণসমাজ ও দেশের জন্য হলেও সমাজ থেকে মাদক প্রতিরোধ ও সামাজিক মূল্যবোধ অবক্ষয় রোধকল্পে সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগকারী সংস্থার পাশাপাশি প্রত্যেকের নিজ নিজ জায়গা থেকে উপরোক্ত সমস্যাগুলো সমাধানে সকলকে সম্মিলিত উদ্যোগ গ্রহণে এগিয়ে আসতে হবে। পাশাপাশি সরকারের তরফ থেকে রাজনৈতিক সুবিধাভোগীদের অনৈতিকতা ও দুস্কৃতিকারীদের প্রতিহত করতে হবে। সেইসঙ্গে সমাজে মাদকাসক্তি সমস্যা সমাধানে সরকারকে স্বল্প ও দীর্ঘ মেয়াদি প্রতিকারমূলক, প্রতিরোধমূলক ও পূর্ণবাসনমূলক ব্যবস্থা জোরদার করার প্রতি অধিক গুরুত্বারোপ করতে হবে। সরকারের পাশাপাশি মাদকাসক্তি নিরাময় ও প্রতিরোধ আন্দোলনে দেশের আপামর জনগণকে এগিয়ে আসতে হবে। এর পূর্বশর্ত হিসেবে ধূমপান ও মাদকবিরোধী আন্দোলনকে বেগবান করতে হবে। সরকারিমহল থেকে শুরু করে গণমাধ্যম, রাজনীতিবিদসহ ক’টনীতিবিদ, সুশীলসমাজ, শিক্ষকমন্ডলী, বুদ্ধিজীবী, আইনজীবী, সমাজকর্মী, সমাজবিজ্ঞানী, রাষ্ট্রবিজ্ঞানী, অর্থনীতিবিদসহ সকল শ্রেণীর মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে সম্মিলিতভাবে সামাজিক অবক্ষয় ও মাদকের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। যা হয়তো এদেশকে মাদকমুক্ত করে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম তথা সবার জন্য একটি সুন্দর বাস উপযোগী দেশ উপহার দিতে সক্ষম হবে।- এ ব্যাপারে প্রতিটি নাগরিকের সদিচ্ছা অধিক জরুরি।#

  • মো. আতিকুর রহমান, কলাম লেখক, উত্তরা, ঢাকা।atik@buft.edu.bd

 

লেখাপড়া২৪.কম/আরএইচ-৪৬১৯

পছন্দের আরো পোস্ট