রাজধানীর সরকারি স্কুলে প্রথম শ্রেণীর ভর্তি লটারি ২৬ ডিসেম্বর

স্কুলে ভর্তিরাজধানীর ৩৫টি সরকারি স্কুলে প্রথম শ্রেণির ভর্তির লটারি অনুষ্ঠিত হবে ২৬ ডিসেম্বর। এবার ভর্তির আবেদন ফরম পূরণ, জমা, আবেদন ফরমের ফি গ্রহণ ও ফলাফলের কাজ হবে সম্পূর্ণভাবে অনলাইনে। ১ ডিসেম্বরের প্রথম প্রহর (১২টা ১ মিনিট) থেকে ১৩ ডিসেম্বর রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত gsa.teletalk.com.bd ঠিকানায় আবেদন করতে হবে। ঢাকার ৩৫টি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়কে তিনটি গুচ্ছ করে প্রথম শ্রেণিতে লটারি ও দ্বিতীয় শ্রেণি থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত ভর্তির জন্য পরীক্ষা হবে। দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণিতে ৫০ নম্বরের এবং চতুর্থ থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত ১০০ নম্বরের পরীক্ষা হবে।

 

প্রথম শ্রেণিতে ভর্তির জন্য লটারি হবে ২৬ ডিসেম্বর। আর দ্বিতীয় শ্রেণি থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত ভর্তির জন্য তিনটি গুচ্ছভুক্ত বিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা হবে যথাক্রমে ‘এ’ গুচ্ছে ১৭ ডিসেম্বর, ‘বি’ গুচ্ছের ১৮ ডিসেম্বর ও ‘সি’ গুচ্ছের পরীক্ষা হবে ১৯ ডিসেম্বর।

 

মাউশির একজন কর্মকর্তা জানান, ডিসেম্বরের মধ্যে ভর্তির কাজ শেষ করে বছরের শুরুর দিন থেকেই নতুন শিক্ষাবর্ষে ক্লাস শুরু করা হবে।

 
স্কুল শিক্ষার্থী বইএদিকে ঢাকা মহানগর এলাকায় অবস্থিত ৩৫টি সরকারি মাধ্যমিক (প্রাথমিক স্তর সংযুক্তসহ) বিদ্যালয়ের জন্য থানাভিত্তিক ‘সেবা অঞ্চল’ চূড়ান্ত করেছে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। কয়েকটি থানা নিয়ে একেকটি বিদ্যালয়ের সেবা অঞ্চল করা হয়েছে। এই সেবা অঞ্চলের ভর্তি-ইচ্ছুক শিক্ষার্থীরাই সংশ্লিষ্ট এলাকার বিদ্যালয়ে ৪০ শতাংশ এলাকা কোটার জন্য বিবেচিত হবে। একই সঙ্গে কারা এসব সেবা অঞ্চলের বাসিন্দা হিসেবে আবেদন করতে পারবে, সেটাও ঠিক করা হয়েছে।

 

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরে (মাউশি)  মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত এক সভায় এসব সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়। এখন এসব সিদ্ধান্তের আলোকে বিজ্ঞপ্তি দেবে মাউশি। সভায় কয়েকটি থানা একেকটি বিদ্যালয়ের সেবা অঞ্চল করা হয়েছে। কোনো কোনো থানা একাধিক বিদ্যালয়ের সেবা অঞ্চলে পড়েছে। একটি বিদ্যালয় তার আশপাশের যেসব এলাকার শিক্ষার্থীদের শিক্ষা দেয়, তা সেবা অঞ্চল বা ‘ক্যাচমেন্ট এরিয়া’ বলে বিবেচিত হবে।

 

শিক্ষা মন্ত্রণালয় কয়েক দিন আগে ঢাকা মহানগর এলাকায় অবস্থিত সরকারি-বেসরকারি বিদ্যালয়ে ভর্তিতে এলাকার ভর্তি-ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের জন্য ৪০ শতাংশ কোটা রেখে ভর্তির নীতিমালা জারি করে। সেবা অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের জন্যই এলাকা কোটা রাখা হবে। বাকি আসনে আগের নিয়মেই শিক্ষার্থী ভর্তি হবে। এলাকার শিক্ষার্থীরা এলাকার বিদ্যালয়ে পড়বে—এমন লক্ষ্য নিয়ে সরকার এবার প্রথমবারের মতো এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

 

মাউশির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আবেদনকারী অভিভাবক যদি সেবা অঞ্চল থানার ভোটার হন, বাড়ি বা ফ্ল্যাটের মালিক হিসেবে বসবাস করেন, কোনো সরকারি বাসার বরাদ্দপ্রাপ্ত হন অথবা ভর্তি বিজ্ঞপ্তি জারির তারিখ থেকে ওই সেবা অঞ্চলে ভাড়াটে হিসেবে বসবাস করেন (ইউটিলিটি সার্ভিসের প্রত্যয়ন সাপেক্ষে) সে ক্ষেত্রে সেবা অঞ্চলের বিদ্যালয়ে আবেদন করার সুযোগ পাবেন।

 
বেসরকারি বিদ্যালয়ের জন্যও সেবা অঞ্চল হচ্ছে: মঙ্গলবারের সভায় সিদ্ধান্ত হয়, ঢাকার বেসরকারি বিদ্যালয়গুলোকেও এলাকা কোটা মানতে হবে। এ জন্য তাদেরও সেবা অঞ্চল করা হচ্ছে। এই সেবা অঞ্চল বিদ্যালয়ের প্রধান ও পরিচালনা কমিটিই ঠিক করবে। ইতিমধ্যে কোনো কোনো বিদ্যালয় ঠিকও করেছে। যেসব বিদ্যালয় এই কোটার কথা উল্লেখ না করেই ইতিমধ্যে ভর্তি বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে, তাদের বিজ্ঞপ্তি সংশোধন করে এলাকা কোটা উল্লেখ করতে হবে।

 

সভায় উপস্থিত ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের পক্ষ থেকে বলা হয়, তারা কোটা নির্ধারণ না করেই ভর্তি বিজ্ঞপ্তি দিলেও এখন সেটা সংশোধন করবে।#

 

 

লেখাপড়া২৪.কম/সং/আরএইচ-৪৬২০

পছন্দের আরো পোস্ট