বশেমুরবিপ্রবিসাসের জমিদারি

IMG_20151116_184125সেমিস্টার ফাইনালের বেশী দিন নেই। তাতে কি? এদের সবটুকু সময় কাটে এসfইনমেন্ট, টিউটরিয়াল, প্রেজেন্টেশন আর ক্লাস নিয়ে। এর ফাঁকে আবার বিষ ফোড়া তাদের প্রাণের সংগঠন বশেমুরবিপ্রবিসাস। ক্যাম্পাস সাংবাদিকতায় দিনের আলো রেখা এদের ব্যাস্ত করে তোলে। আর কেনই বা জমিদারি! হ্যা গল্পটা জমিদারদের না, গল্পটা গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের নবগঠিত সাংবাদিক সমিতির এক ঝাক তরুণের ভ্রমণ কাহিনী নিয়ে। ২০১৫ তে তাদের এই সংগঠনের ছাপ। ছাত্রজীবন আর সাংবাদিকতা সব কিছু ছেড়ে এরা ১ দিনের সফরে ঘুরে এল গোপালগঞ্জের উলপুর জমিদার বাড়ী থেকে ।

 

ভ্রমণের প্রস্তাব ছিল তাদের মধ্যে সবচেয়ে কনিষ্ঠ সাংবাদিক – ব্রেকিং ও ক্যাম্পাস টাইমস প্রতিনিধি নাসিমুল ইসলামের। তিনি তার ভাষায় মোটা গলায় ইতিহাস বাজিয়ে বললেন উলপুর কেন ভ্রমণের জায়গায়? ঐতিহাসিক ভাষায় নাসিম বললেন, উলপুরের জমিদারেরা ছিলেন একশত ঘর শরীক। গ্রামটিতে এখনো টিকে আছে শতাব্দী প্রাচীন বেশ কয়েকটি বৃহদাকার দালান কোঠা। এর মধ্যে ৭/৮টি রয়েছে দোতালা দালান। জমিদারী প্রথা কালের গর্ভে হারিয়ে গেলেও জমিদারদের পরিত্যাক্ত বিল্ডিং গুলো কালের সাক্ষী হয়ে দাড়িয়ে রয়েছে স্ব গর্বে। তবে পুরাতন বিল্ডিং গুলো উলপুর তহশীল অফিস, পুরানো ইউনিয়ন বোর্ড অফিসসহ স্বাস্থ্য কেন্দ্র, সাব পোষ্ট অফিস, পুরানো সরকারী শিশু সদন হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

 

কথা হল বশেমুরবিপ্রবিসাসের আহবায়ক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম সাংবাদিক ক্যাম্পাস লাইভ প্রতিনিধি মোঃ রেজোয়ান হোসেনের সাথে। তিনি বললেন, তাদের এই ভ্রমণ কেবল ঘুরে আসার জন্য নয়, ভ্রমণকাহিনী নিয়ে ঐতিহাসিক ফিচার লেখায় পাকাপোক্ত হওয়ার জন্য এই উদ্যোগ।  উলপুর প্রসঙ্গ ছেড়ে বশেমুরবিপ্রবিসাসে জড়িয়ে পড়লাম। এদের অন্যতম বার্তা বাজার ও দ্যা রিপোর্ট প্রতিনিধি রাকিবুল ইসলাম বললেন তাদের সাংবাদিক সমিতির গড়ে তোলার পিছনের কথা ।

 

IMG_20151116_183917রাকিবের মতে, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (বশেমুরবিপ্রবি) নতুন বিশ্ববিদ্যালয়। আর সংগঠন করার দায়িত্বও সবার হাতে। বশেমুরবিপ্রবিতে ২০১১ সালের যাত্রার পর এ পর‍্যন্ত ১৪ টি সংগঠন গড়ে উঠেছে। গত বছর ফেব্রুয়ারীতে সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মোঃ রেজোয়ান হোসেন প্রথম সাংবাদিকতা শুরু করে। সঙ্গে যুক্ত হন তারই বিভাগের বন্ধু লেখাপড়া২৪.কম প্রতিনিধি তন্ময় বিশ্বাস। এরপর বশেমুরবিপ্রবি নিউজ ফেসবুক পেইজ দিয়ে কাজ চালাতে থাকেন ফার্মাসি বিভাগের ৩য় বর্ষের শিক্ষার্থী আনিন নাঈম। যিনি এখন বশেমুরবিপ্রবি বাঁধন পরিবারের সদস্য সচিব। তারপর আসেন নাসিমুল ইসলাম, বঙ্গবন্ধু গবেষণা পরিষদের সদস্য রাকিবুল ইসলাম এবং রংধনু সাংস্কৃতিক ক্লাবের সদস্য ও বিডি লাইভ ৭১ প্রতিনিধি মাসুদ রানা। বশেমুরবিপ্রবিতে প্রতিটি সংগঠনে এদের হাত আছেই। আর সবশেষে আমি ।

 

যাই হোক বেলা ২ ঘটিকায় ক্যাম্পাস থেকে আমাদের যাত্রা শুরু হল। উলপুর নেমেই রাস্তায় হাটা শুরু করলাম ৬ জন। আমি অবশ্য বাইক নিয়ে হেটেছি। প্রায় ৪ টা বনেদি বাড়ী দেখার পর ঠিকানা হল উলপুরের সবচেয়ে বড় বনেদি পরিবারের আশ্রয়স্থলে। উলপুর জমিদার বাড়ী সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে, স্থানীয় একজন বলেন, ভবনটি ব্রজ গোপাল রায় ও বিভূতিভুষন রায় চৌধুরীর নির্মিত। ভবনের সামনেই শুরু হল ফটোসেশন। মাসুদ ভাইকে ঠেকায় কে, লাফ দিয়ে বেয়ে বেয়ে উঠে পড়ল ভবনটির ছাদে। এরপর স্থানীয় শিশুদের সাথে ধূলোমেখে ফুটবল। এরপর এক এক করে দীঘি,  মন্দির, ভবনের পোড়ামাটি, ফলক সবকিছুই দেখা হল। তারপর আবার সন্ধ্যেই পায়ে ধরে হাটা। আমাদের পিছু নিয়েছিল ছোট বিড়াল। আদর করে তাকেও আমন্ত্রণ জানালাম বশেমুরবিপ্রবিসাসে। যাইহোক সবশেষ সকলে মিলে যাত্রার ইস্তফা দিয়ে বাজারে রসগোল্লা খেয়ে শেষ করলাম আমাদের যাত্রা ।

 

বশেমুরবিপ্রবিসাস টিকে থাক আনন্দ,  হাসি,  ঠাট্টা নিয়ে… কাজ করে যাক বশেমুরবিপ্রবির জন্য..

 

 

লেখাপড়া২৪.কম/বশেমুরবিপ্রবি/পিআর/এমএএ-০১৯২

পছন্দের আরো পোস্ট