গুগল সায়েন্স ফেয়ারে সেরার সম্মাননা পেলেন তৃষা প্রভু

trishaসাধারণ আইডিয়া নিয়ে অসাধারণ কাজ করে বসলেন শিকাগোর ১৩ বছরের মেয়ে তৃষা প্রভু। গুগলের গ্লোবাল সায়েন্স ফেয়ার-এ ১৫ জন তুখোড় প্রতিযোগীকে পেছনে ফেলেছেন ‘সাইবারবুলিং’ বন্ধে একটি চমৎকার প্রজেক্ট দিয়ে।

তার এই প্রজেক্টটি এতটাই কাজের যে, এখন থেকে অনলাইনে বাজে কথা বা অশ্লীল শব্দ ব্যবহার করা ও কাউকে নিগ্রহ করার আগে টিনএজার ও তরুণদের ভাবতে হবে।

প্রজেক্টের ফলাফল দেখে এমনটাই মনে করছে গুগল।

সাইবারবুলিং বন্ধে তৃষার সায়েন্স খুব সাধারণ। টিনএজারদের মস্তিষ্কের গঠনের কারণেই তারা অনেক আবেগপ্রবণ। পরিণামের কথা না ভেবেই তারা ইন্টারনেটে বাজে কথা বা শব্দ ব্যবহার করাসহ অন্যকে হয়রানি করেন। এ থেকে বিরত থাকতে নিজের ওপর নিয়ন্ত্রণ দরকার।

মস্তিষ্কের একটি অংশ প্রিফ্রন্টাল করটেক্স যার কাজ আত্মনিয়ন্ত্রণ। এই অংশটি ২৫ পেরুনোর আগে পুরোপুরি পরিপক্কতা লাভ করে না।

তৃষার তত্ত্ব হলো, যদি এসব কাজ করার আগে ব্যবহারকারীদের বাধ্য করা হয় এর পরিণাম কী হতে পারে দেখে নিতে, তবে তারা এসব করবে না।

নিজের তত্ত্বটি পরীক্ষা করতে তৃষা ‘রিথিঙ্ক’ নামে একটি পদ্ধতি তৈরি করেছেন। কোনো অশ্লীল বাক্য বা শব্দ লিখার পর তার ফলাফল কী হতে পারে তা ‘রিথিঙ্ক’-এর মাধ্যমে আগেই দেখে নিতে পারবেন ব্যবহারকারী। এই পদ্ধতিতে ৫৩৩টি ট্রায়ালের মধ্যে ৯৩.৪৩ শতাংশ টিনএজার পরিণাম দেখে আর সামনে এগোননি।

পরীক্ষার এই ফলাফল দারুণ সফল হয়েছে বলে মনে করে গুগল। নিজের এই তত্ত্বের প্রয়োগ ঘটিয়ে তৃষা প্রভু সোশাল মিডিয়ার জন্য সত্যিকার অ্যাপ বানাতে চান। কোনো পোস্টে আপত্তিকর অংশ থাকলে তা শনাক্ত করে এর পরিণাম দেখিয়ে দেবে অ্যাপটি এবং তারা ব্যবহারের আগে চিন্তা করে নেবেন।

প্রজেক্টের উপসংহারে তৃষা লিখেছেন, আমি এমন একটি ভবিষ্যৎ দেখতে চাই যেখানে সাইবারবুলিং থাকবে না।

এই কিশোরী গুগলের প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া ১৮ জন তুখোড় মেধাবী টিনএজারদের মধ্যে সেরার মুকুট অর্জন করেছেন।

আগামী সেপ্টেম্বরে সেরা প্রজেক্টের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসবে। বিজয়ী তৃষাকে প্রশান্ত মহাসাগরের গ্যালাপোগাস দ্বীপে ১০ দিনের ভ্রমণ, ভার্জিন গালাক্টিক স্পেসপোর্টে ভ্রমণ এবং ৫০ হাজার ডলারের স্কলারশিপ দেবে গুগল। সূত্র : বিজনেস ইনসাইডার।

ইএইচ

পছন্দের আরো পোস্ট